Header Ads Widget

Live

6/recent/ticker-posts

ইলেকট্রিক পাসপোর্ট বা বায়োমাট্রিক পাসপোর্ট কি | ভারত ও বাংলাদেশে খুব শীঘ্রই ই-পাসপোর্ট/e-passport এর আগমন |

What is E-Passport and E-Passport in Bangladesh, India
ই-পাসপোর্ট একটি ভ্রমণের দলিল, সাধারণত একটি দেশের সরকার তার নাগরিকদের জন্য জারি করে। বর্তমানে পৃথিবীতে 118 বেশি দেশে ই-পাসপোর্ট বা বায়োমেট্রিক পাসপোর্ট রয়েছে। সাউথ এশিয়ার মধ্যে বাংলাদেশে প্রথম ই-পাসপোর্ট উদ্বোধন করেছে। ভবিষ্যতে প্রায় সমস্ত দেশেই ই-পাসপোর্ট বা বায়োমেট্রিক পাসপোর্ট দেখা যাবে বলে সম্ভাবনা করা যাচ্ছে।

ই-পাসপোর্ট/e-passport কি ?

ই-পাসপোর্ট/e-passport এর অর্থ হলো ইলেকট্রনিক পাসপোর্ট। এটার অন্য নাম ও রয়েছে , বায়োমাট্রিক পাসপোর্ট ও ডিজিটাল পাসপোর্ট। এই পাসপোর্ট কে সহজ সরল ভাষায় ই-পাসপোর্ট/e-passport বলা হয়। ই-পাসপোর্ট/e-passport এর উপর একটা ইলেকট্রিক চিপ থাকায়, এই ই-পাসপোর্ট/e passport কে ,সাধারন পাসপোর্ট এর তুলনায় আলাদা বানায়। ই-পাসপোর্ট/e-passport এর উপর যে, ই-চিপ অর্থাৎ ইলেকট্রিক চিপ লাগানো থাকবে তাতে, পাসপোর্ট ব্যাবহারকারীর বায়োমাট্রিক তথ্য যেমন ফিঙ্গার প্রিন্ট তথ্য, চোখের রেটিনার তথ্য, মুখের তথ্য এইসব কিছু থাকবে। এছাড়াও একটা সাধারন পাসপোর্ট যে সমস্ত তথ্য লেখা থাকে যেমন, নাম, ঠিকানা, জন্ম তারিখ এইসব কিছুই, ই-চিপ এর মধ্যে সংরক্ষণ থাকবে । এই ই-পাসপোর্ট/e passport এর ই-চিপ 64 কিলোবাইট পর্যন্ত তথ্য সংরক্ষণ করে রাখতে পারবে।
e Passport Bangladesh and India, e passport logo, design of e passport

ই-পাসপোর্ট এর সুবিধা:

নিরাপত্তার দিক থেকে ই-পাসপোর্ট/e-passport সাধারন পাসপোর্ট এর তুলনায় অনেক বেশি সুরক্ষিত। এই ই-পাসপোর্ট/e-passport কে নকল করা খুব কঠিন। পাসপোর্ট নিয়ে অনেক জোচ্চুরি হয়। এই সমস্ত কিছু সমস্যার জন্য একটা সহজ সরল সমাধান ই-পাসপোর্ট/e-passport । এছাড়াও পাসপোর্ট ইমিগ্রেশন এর জন্য অনেক সময় লাগে, ই-পাসপোর্ট/e passport এ ইমিগ্রেশন সময় অনেকটা কম লাগবে, কারণ সমস্ত কাজ কম্পিউটার এর দ্বারা করা হবে। ই-পাসপোর্ট/e-passport এ যে সমস্ত তথ্য লোড করা থাকবে তা এনক্রিপ্টেড করা থাকবে। অথেনটিকেশন এর জন্য "পি কে আই" অর্থাৎ পাবলিক কেয় ইনফ্রাস্ট্রাকচার (Public Key Infrastructure) ব্যাবহার করা হবে। ই-পাসপোর্ট/e-passport যে তথ্য থাকবে তা বদলানো,এডিট করা,কপি করা সহজ হবে না যার কারণে নকল পাসপোর্ট বা ফ্রড হবেনা বললেই চলে। সাধারন পাসপোর্ট এর অপব্যাবহার খুব সহজেই করার যাই। যদি কারোর পাসপোর্ট হারিয়ে বা চুরি হয় যাই তাহলে , পাসপোর্ট এর উপরের ফটো খুব সহজেই বদলিয়ে, তার অপব্যাবহার করা সম্ভব কিন্তু ই-পাসপোর্ট/e passport এর ক্ষেত্রে এটা করা অসম্ভব বলা যেতে পারে।


ই-পাসপোর্ট/e-passport হারিয়ে গেলে তার উপরে ফটো বদলাতে পারবে কিন্তু যখন চেকিং এর জন্য যখন যাবে, সেখানে ধরা পড়ে যাবে।কারণ সেখানে বায়োমাট্রিক ফিঙ্গার প্রিন্ট তথ্য, চোখের রেটিনার তথ্য, মুখের তথ্য সমস্ত কিছু মেশিন দ্বারা পড়লেই ধরা পড়ে যাবে যে, ই-পাসপোর্ট/e-passport এর আসল মালিক কে? ইলেকট্রিক পাসপোর্ট/e passport আসায় পাসপোর্ট এর সিকিউরিটি অনেক বেড়ে যাবে যত নকল পাসপোর্ট,পাসপোর্ট ফ্রড, পাসপোর্ট এর অপব্যবহার সব কিছুই বন্ধ হয়ে যাবে। কেউ যদি ইলেকট্রিক পাসপোর্ট/e-passport এর ই-চিপ এ কোনো রকমের তথ্য বদলানোর চেষ্টা করে তাহলে এই চিপ কাজ করা বন্ধ করে দেবে এবং পাসপোর্ট সেবা কেন্দ্রে একটা সতর্ক বার্তা চলে যাবে।

বাংলাদেশে ইলেকট্রিক পাসপোর্ট/e passport :

বহু প্রতীক্ষার পর বাংলাদেশ আনতে চলেছে ইলেকট্রিক পাসপোর্ট/e-passport । ২২ জানুয়ারি ২০২০, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী আনুষ্ঠানিক ভাবে ঘোষণা করেছেন ই-পাসপোর্ট/e-passport । প্রথমদিকে উত্তরা, আগারগাও ও যাত্রাবাড়ী থেকে ই-পাসপোর্ট/e-passport দেয়া শুরু হলেও পর্যায়ক্রমে সারাদেশে এর কার্যক্রম শুরু হবে এবং বিদেশে অবস্থান প্রবাসীরাও পর্যায়ক্রমে পাবে ই-পাসপোর্ট/e-passport।

বাংলাদেশে ই-পাসপোর্ট/e-passport এর খরচ:

পাসপোর্ট অফিসে নিজে গিয়ে পাসপোর্ট করলে খরচ কম হবে দালাল ধরে করলে। তাই নিজে পাসপোর্ট করাটাই সঠিক। নিজে পাসপোর্ট অফিসে গিয়ে পাসপোর্ট করলে সঠিক টাকা খরচ হবে। ই-পাসপোর্ট/e-passport এর জন্য আগের মত করেই আবেদন করতে হবে। শুধুমাত্র সত্যায়ন পদ্ধতি টি উঠে যাচ্ছে । পুলিশ ভেরিফিকেশন এর প্রয়োজন হবে ইলেকট্রিক পাসপোর্ট/e-passport এর জন্য। যাদের অতি জরুরি ই-পাসপোর্ট/e passport এর প্রয়োজন তাদের পুলিশ ভেরিফিকেশন প্রতিবেদন টি নিয়েই আবেদন করতে হবে, তাহলে তারা দুইদিন এর ভিতরেই ই-পাসপোর্ট পেয়ে যাবে।

Types Pages 10 years 5 years
সাধারণ (১৫ দিন) ৬৪ পৃষ্ঠা ৭০০০ টাকা ৫৫০০ টাকা
সাধারণ (১৫ দিন) ৪৮ পৃষ্ঠা ৫০০০ টাকা ৩৫০০ টাকা
জরুরী (৭ দিন) ৬৪ পৃষ্ঠা ৯০০০ টাকা ৭৫০০ টাকা
জরুরী (৭ দিন) ৪৮ পৃষ্ঠা ৭৫০০ টাকা ৫৫০০ টাকা
অতি জরুরী (২ দিন) ৬৪ পৃষ্ঠা ১২০০০ টাকা ১০৫০০ টাকা
অতি জরুরী (২ দিন) ৪৮ পৃষ্ঠা ১০৫০০ টাকা ৭৫০০ টাকা

অনেক এমন দেশ রয়েছে যেগুলোতে বর্তমানে ই-পাসপোর্ট এর ব্যাবহার করা হয় এবং অনেক দেশে ই-পাসপোর্ট অনার কথা চলছে যেমন ভারত, বাংলাদেশ।