উদ্ভিদের রেচন। নাইট্রোজেন যুক্ত রেচন পদার্থ। নাইট্রোজেন বিহীন রেচন পদার্থ | Newskatha

উদ্ভিদ রেচন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বিপাকীয় উপজাত রেচন পদার্থ সমূহকে দেহকোষে অদ্রাব্য কেলাস বা কলয়েড রূপে সঞ্জিত রেখে অথবা দেহ থেকে নির্গত করে দেহকে সুস্থ ও স্বাভাবিক রাখে।
উদ্ভিদের রেচন। নাইট্রোজেন যুক্ত রেচন পদার্থ। নাইট্রোজেন বিহীন রেচন পদার্থ
চিত্র : উদ্ভিদের রেচন পদার্থ

উদ্ভিদের রেচন পদার্থ :

একপ্রকার অপচিতিমূলক বিপাক হলো রেচন। উদ্ভিদের রেচন পদ্ধতির কিছু বৈশিষ্ট্য রয়েছে নিম্নে আলোচনা করা হল।

উদ্ভিদের রেচন পদ্ধতির বৈশিষ্ট্য :-

  1. বিপাক ক্রিয়ায় প্রােটিন অংশ কম থাকার জন্য উদ্ভিদের রেচন পদার্থও কম উৎপন্ন হয় প্রাণীদেহের থেকে।
  2. প্রাণীদেহের তুলনায় উদ্ভিদেহের রেচন পদার্থ কম ক্ষতিকারক ও প্রক্রিয়া সরল।
  3. রেচন পদার্থ নির্গত করার জন্য উদ্ভিদদেহের নির্দিষ্ট কোনাে অঙ্গ বা তন্ত্র অনুপস্থিত।
  4. উদ্ভিদের ক্ষেত্রে রেচন পদার্থ বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই দেহে সঞ্চিত থাকে। প্রাণীদেহে রেচন পদার্থ নিষ্কাশিত হয়।
 উদ্ভিদ নিম্নলিখিত কয়েকটি উপায়ে রেচন পদার্থ ত্যাগ করে :
  • পত্রমােচন :- যেমন—আমড়া, অশ্বথ, শিরিষ, শিমূল ইত্যাদি।
  • ছাল বা বাকলমােচন :- যেমন-পেয়ারা, অর্জুন।
  • ফলমােচন :- যেমন—লেবু (সাইট্রিক অ্যাসিড), তেঁতুল। (টারটারিক অ্যাসিড), আপেল (ম্যালিক অ্যাসিড)।
  • তরুক্ষীর নিঃসরণ :- যেমন—ফণিমনসা, বট, পেঁপে, রবার।
  • গদ নিঃসরণ :- যেমন—বাবলা, শিরিষ, সজিনা, জিওল।
  • রজন নিঃসরণ :- যেমন—পাইন।
নাইট্রোজেনের উপস্থিতির উপর নির্ভর করে রেচন পদার্থকে দুই ভাগে বিভক্ত করা হয়- নাইট্রোজেন যুক্ত রেচন পদার্থ ও নাইট্রোজেন বিহীন রেচন পদার্থ।

উদ্ভিদের নাইট্রোজেনবিহীন রেচন দ্রব্য ও ধাতব কেলাস :

ভারতীয় রবার (Ficus elastica), বট (Ficus bengalensis) ইত্যাদি উদ্ভিদের পাতায় ক্যালসিয়াম কার্বনেটের কেলাস আঙ্গুরের থােকার মতাে সঞ্চিত থাকে। উক্ত কেলাসগুলিকে বলা হয় সিস্টোলিথ এবং কোশগুলিকে বলে লিথােসিস্ট। এছাড়া ওল (Amorphophallus), কচুরিপানা (Eichchornia) এবং কচু (Colocasia) ইত্যাদি উদ্ভিদে রেচন পদার্থরূপে ক্যালসিয়াম অক্সালেট সঞ্চিত থাকে। এদের বলে র‌্যাফাইডস। ওল, কচু ইত্যাদি গাছের কান্ড ও বৃন্তের কোশের সূচের মতাে যেসব র‌্যাফাইড থাকে তাকে অ্যাসিকিউলার র‌্যাফাইড বলে।

ওল, কচু খেলে গলা চুলকায় কারণ। এইসব সূচের মতাে র‌্যাফাইডগুলি গলার মিউকাস পর্দায় আটকে যায়। তেঁতুল বা লেবু জাতীয় টক খেলে ক্যালসিয়াম অক্সালেটের কেলাসগুলি গলে যায়, তাই চুলকানি কমে যায়। কচুরিপানার বৃন্তে স্ফীতর‌্যাফাইডগুলি তারার ন্যায় থাকে। যে সব কোশে এইসব কেলাস থাকে তাকে বলে ইডিওব্লাস্ট। কয়েকপ্রকার ঘাসেরপাতায় এবং ইকুইজিটাম গাছের ত্বকে সিলিকা কেলাস সঞ্চিত থাকে।

উদ্ভিদের নাইট্রোজেনবিহীন রেচন পদার্থের নাম, উৎস ও অর্থকরী গুরুত্ব :

রজন [Resins]
অর্থকরী গুরুত্ব :- ফিনাইল ও সাবান তৈরিতে এবং রং শিল্পে রজন ব্যবহৃত হয়। হিং রন্ধনে ও ধূণা পুজো পার্বনে ব্যবহৃত হয়। গালা, টারপেনটাইন ভার্নিশ শিল্পে লাগে।
প্রধান উৎস :- শাল, হিং, পাইন ইত্যাদি গাছ।

গঁদ [Gums]
অর্থকরী গুরুত্ব :- গদ প্রধানতঃ আঠা হিসাবে শিল্পে প্রয়ােজন হয়।
প্রধান উৎস :- আমড়া, জিওল, বাবলা, সজিনা ইত্যাদি গাছ।

তরুক্ষীর বা ল্যাটেক্স [Latex]
অর্থকরী গুরুত্ব :- পেঁপে গাছের প্যাপাইন প্রােটিন পরিপাকের জন্য লাগে। তাই মাংস রান্নাতে হজমের সুবিধার জন্য পেঁপে দেওয়া হয়। রবার গাছের তরুক্ষীর থেকে বাণিজ্যিক রবার সৃষ্টি হয়।
প্রধান উৎস :- ফনিমনসা, বট, করবী, পেঁপে, রবার ইত্যাদি গাছে।

বানতেল
অর্থকরী গুরুত্ব :- রান্নার কাজে, সাবান ও সেন্টসহ বিভিন্ন সুগন্ধি দ্রব্য তৈরিতে বানতেল কাজে লাগে।
প্রধান উৎস :- দারুচিনির বাকলে, লবঙ্গের ফুলে, লেবু গাছের পাতায়।

ট্যানিন
অর্থকরী গুরুত্ব :- ট্যানিন কালি তৈরিতে, পানের মশলা খয়েরে কাজে লাগে। চামড়া শিল্পে চামড়া ট্যান করতে প্রয়ােজনে লাগে।
প্রধান উৎস :-  চা গাছের পাতায়, আমলকী, বহেরা, হরিতকী প্রভৃতির ফলে।

উদ্ভিদের নাইট্রোজেনযুক্ত রেচন দ্রব্য : 

 উপক্ষার হল উদ্ভিদের নাইট্রোজেনঘটিত রেচন দ্রব্য। উপক্ষারে N2 এর উপস্থিতির কারণ হল এটি প্রােটিনের বিপাকের ফলে তৈরী হয়। N2 বাদে উপক্ষারে C, H ও O উপস্থিত আছে। N2 কঠিন ও তরল উভয়ই হতে পারে। উপক্ষারের স্বাদ কষা বা তেতো। উপক্ষার বিভিন্ন রকমের ঔষধ উৎপাদনে লাগে।

নাইট্রোজেন যুক্ত উপক্ষার , অর্থনৈতিক গুরুত্ব ও উৎস:

উপক্ষারের নাম রােগের প্রতিরােধ করে/অর্থনৈতিক গুরুত্ব উৎস
ডাটুরিন হাঁপানির ঔষধ হিসাবে কাজে লাগে। ধুতুরার পাতা ও ফল
নিকোটিন মাদক অথবা নেশার দ্রব্য হিসাবে কাজে লাগে। তামাকের পাতা
রেসারপিন রক্তচাপ কমানাের জন্য ব্যবহৃত হয়। সর্পগন্ধার মূল
কুইনাইন ম্যালেরিয়ার ঔষধ হিসাবে ব্যবহৃত হয়। সিঙ্কোনার ছাল ।
মরফিন ব্যথা-বেদনার উপশমে ও গাঢ় ঘুমের ঔষধ হিসাবে কাজে লাগে। আফিং-এর কঁচা ফল
অ্যাট্রোপিন রক্তচাপ বৃদ্ধি করতে, চোখের তারারন্ধ্র প্রসারণে এবং সিমপ্যাথেটিক স্নায়ুর উদ্দীপনায় সাহায্য করে। বেলেডােনার মূল ও পাতায়।
স্ট্রিকনিন পেটের বেদনার ঔষধ তৈরিতে কাজে লাগে। নাক্সভমিকা বা কুচেলার বীজে
ক্যাফেইন ব্যথা নিরাময়ের ঔষধ তৈরিতে লাগে। কফি গাছের বীজ
এফিড্রিন হাঁপানি ও সর্দির ঔষধ তৈরিতে কাজে লাগে। এফিড্রা গাছের শাখা
এসিটিন কাশি, আমাশা, উদরাময় ও বমির ঔষধ তৈরীতে কাজে লাগে। এপিকাক উদ্ভিদের মূল
আর্গোমেট্রিন রক্তচাপ বাড়াতে, প্রসব সহজ করতে এবং রক্তক্ষরণ কমাতে ব্যবহৃত হয়। ক্ল্যাভিসেপস ছত্রাকের ফুট বডি
স্ট্রপেনথিন হৃৎপিণ্ডের উদ্দীপকরূপে ব্যবহৃত হয়। স্ট্রপেনথাসের বীজ
সান্টোনাইন কৃমি নাশক।। অ্যাটিমিশিয়া গাছের শুষ্ক ফুল


Disclaimer: This information has been collected from trusted source.