অ্যালবেডাে কী | বায়ুমণ্ডল এর কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন উত্তর। দশম শ্রেণি। Newskatha

চিত্র: অ্যালবেডো পদ্ধতি
দশম শ্রেণীর জন্য কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন বায়ুমণ্ডল বিষয় থেকে।
বায়ুমণ্ডল কাকে বলে?
মধ্যাকর্ষণ শক্তির টানে পৃথিবী কে চাঁদের মত গিরি থাকা এবং পৃথিবীর আবর্তনের সাথে আবর্তিত হওয়া গ্যাসীয় আবরণ কে বায়ুমণ্ডল বলে।
আলোচিত বিষয় গুলি:
  • অ্যালবেডো
  • ওজোন স্তর সৃষ্টির কারণ
  • ওজন গহ্বর
  • উচ্চ জায়গা শীতল হওয়ার কারণ
  • অ্যারোসল কি

অ্যালবেডো কী?

সূর্য থেকে আগত মােট শক্তির ২০০ কোটি ভাগের ১ ভাগ পৃথিবীর দিকে ছুটে আসে। এই শক্তিকে যদি ১০০ শতাংশ ধরা হয়, তার ৩৪ শতাংশ শক্তি পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলকে উত্তপ্ত না করেই মহাশূন্যে ফিরে যায়। এই ৩৪ শতাংশ শক্তিকে অ্যালবেডাে ( Albedo) বলে। অ্যালবেডাে সবচেয়ে বেশি মেঘ থেকে (২৫%) এবং সবচেয়ে কম স্থলভাগ থেকে (২%) বিক্ষিপ্ত হয়।

বাকি ৬৬ শতাংশ বায়ুমণ্ডল ও ভূপৃষ্ঠকে উত্তপ্ত করে। এই ৬৬ শতাংশ সৌর শক্তির ১৫% বায়ুমণ্ডলের বিভিন্ন গ্যাস, ধূলিকণা ও জলীয় বাষ্প শোষণ করে। বাকি ৫১ শতাংশের এর মধ্যে ৩৪% ভূপৃষ্ঠ প্রত্যক্ষভাবে এবং ১৭% বিচ্ছুরিত রশ্মি গ্রহণ করে ভূপৃষ্ঠ উত্তপ্ত হয়। আবার পৃথিবীপৃষ্ঠ থেকে বাষ্পীভবনের ফলে ১৯% , বায়ুর পরিচলন স্রোতের মাধ্যমে ৯% তাপ মহাশূন্যে স্থানান্তরিত হয়। বাকি ২৩% তাপ পৃথিবী থেকে বৃহৎ তরঙ্গ রূপে মহাশূন্যে ফিরে গিয়ে পৃথিবীর তাপের সমতা বজায় রাখে।

ওজোন স্তর কীভাবে সৃষ্টি হয় ?

আলােক রাসায়নিক বিক্রিয়ায় একটি অক্সিজেন অণু (02) অতিবেগুনি রশ্মির (UV-B) আঘাতে দুটি অক্সিজেন পরমাণুতে (O+0) বিয়ােজিত হয়। অবিয়ােজিত অক্সিজেন অণুর (O2) সাথে অক্সিজেন পরমাণুর রাসায়নিক সংযােগের ফলে সৃষ্টি হয় একটি ওজোন অণু (02)। 02+0=O3। এই ওজোন অণুর সমন্বয়ে সৃষ্টি হয়েছে ওজোন স্তর (ozone layer) ।

ওজোন গহ্বর কি ?

স্ট্র্যাটোস্ফিয়ারে ওজোন স্তরের ২০০ ডবসন ইউনিটের কম ঘনত্বযুক্ত অঞ্চলে অতিবেগুনি রশ্মির প্রবেশ ঘটে। এই অঞ্চলকে ওজোন গহ্বর বা ওজোন হােল ( Ozone hole ) বলে।।

উচ্চ স্থান শীতল কেন?

উচ্চস্থান শীতল হওয়ার কারণগুলি হল - 
  1. অধিক উচ্চতায় পরিবহণ, পরিচলন, বিকিরণ প্রভৃতি বায়ুমণ্ডল উত্তপ্ত হওয়ার পদ্ধতির প্রভাব কমে যায়।
  2. বায়ুমণ্ডলের উপরিস্তরে কঠিন কণা কম থাকায় তাপ শােষণ ও সংরক্ষণ কম হওয়ায় উচ্চস্থান শীতল হয়।
  3. উধ্বস্তরে বায়ু স্বচ্ছ হওয়ায় দ্রুত তাপ বিকিরণ করে শীতল হয়।
  4. ভূপৃষ্ঠের উষবায়ু ওপরে  উঠলে চাপ কমে যাওয়ায় বায়ুমণ্ডলের ঊধ্বস্তর তাপ বিকিরণ করে শীতল হয়।


অ্যারােসল কী?

বায়ুমণ্ডলে ভাসমান কঠিন কণাগুলিকে অ্যারােসল (Aerosol) বলে। ‘Aero’ শব্দের অর্থ ‘বায়ু’ ও ‘Sol’ শব্দের অর্থ ‘ধূলিকণা’।
উৎস:  ভূপৃষ্ঠের ধূলিকণা, আগ্নেয়গিরির ছাই, সমুদ্রের লবণকণা, ফুলের রেণু প্রভৃতি।
উপস্থিতি: বায়ুমণ্ডলের নীচের স্তরে বেশি উচ্চতা বাড়ার সাথে অ্যারােসলের পরিমাণ হ্রাস পায়।

Disclaimer : this information collected from various source.