Header Ads Widget

প্রবন্ধ-সাহিত্যে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের অবদান | NewsKatha

প্রবন্ধ-সাহিত্যে রবীন্দ্রনাথের অবদান
রবীন্দ্রনাথের প্রবন্ধ গুলিকে চারটি ভাগে ভাগ করা যায়- ১.ভাষা ও সাহিত্য।
২.শিক্ষা ,সমাজ, বিজ্ঞান, ইতিহাস, ও রাজনীতি-বিষয়ক।
৩.ধর্ম ও দর্শন-বিষয়ক।
৪.ব্যক্তিগত প্রবন্ধ।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের লেখা প্রথম প্রবন্ধ ১৮৭৭ খ্রিস্টাব্দে (১২৮৩ সাল) 'জ্ঞানাঙ্কুর' পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছিল। এটি মূলত কাব্য-সমালোচনামূলক প্রবন্ধ।

প্রবন্ধ-সাহিত্যে রবীন্দ্রনাথের অবদান

সৃজনশীল রচনার পাশাপাশি রবীন্দ্রনাথ সারাজীবন অজস্র প্রবন্ধ রচনা করেছেন। রবীন্দ্রনাথ রচিত প্রবন্ধ-সাহিত্যকে কয়েকটি ভাগে ভাগ করে সংক্ষেপে তাঁর প্রাবন্ধিক প্রতিভার পরিচয় দেওয়া যেতে পারে।

ভাষা ও সাহিত্য বিষয়ক প্রবন্ধ

দেশি-বিদেশি কবি-সাহিত্যিক, সাহিত্যগ্রন্থ, সাহিত্যতত্ত্ব, ভাষা, ব্যাকরণ, ছন্দ প্রভৃতি বিষয়ে রবীন্দ্রনাথ প্রচুর লিখেছেন। প্রাচীন সাহিত্য, সাহিত্য’, ‘আধুনিক সাহিত্য’, ‘লােকসাহিত্য, সাহিত্যের পথে, সাহিত্যের স্বরূপ, বাংলা ভাষা পরিচয়’, ‘বাংলা শব্দতত্ত্ব’, ‘ছন্দ’ প্রভৃতি গ্রন্থে রবীন্দ্রনাথের ভাষা ও সাহিত্য-বিষয়ক ভাবনার পরিচয় ছড়িয়ে আছে।

রাজনীতি, সমাজ, বিজ্ঞান, ইতিহাস ও শিক্ষা-বিষয়ক প্রবন্ধ

স্বদেশ ও সমকালীন সমাজ সম্পর্কে রবীন্দ্রনাথ কখনােই নিস্পৃহ ছিলেন না। রাজনীতি, সমাজ, বিজ্ঞান, ইতিহাস প্রভৃতি বিষয়ে তাঁর অভিমত সংকলিত হয়েছে ‘আত্মশক্তি’, ‘ভারতবর্ষ’, ‘রাজাপ্রজা’, স্বদেশ’, কালান্তর’, ‘সভ্যতার সংকট’ প্রভৃতি পুস্তক-পুস্তিকায়। আর, তাঁর শিক্ষা-সংক্রান্ত প্রবন্ধগুলি সংকলিত হয়েছে শিক্ষা” নামক গ্রন্থে।

ধর্ম, দর্শন ও অধ্যাত্ম-বিষয়ক প্রবন্ধ 

রবীন্দ্রনাথের ধর্মভাবনা, দর্শনভাবনা ও অধ্যাত্মভাবনার কোনাে আলাদা আলাদা ভাগ নেই। ধর্ম সম্পর্কে তাঁর অভিমত, তাঁর দার্শনিক ভাবনা ও আধ্যাত্মিক অনুভূতি সব একসঙ্গে মিলেমিশে গিয়েছে তার বিভিন্ন প্রবন্ধে। ধর্ম’, শান্তিনিকেতন’, ‘মানুষের ধর্ম’ প্রভৃতি গ্রন্থে তাঁর এই বিষয়ে বেশ কিছু রচনার পরিচয় পাওয়া যায়।

ব্যক্তিগত প্রবন্ধ

ব্যক্তিগত প্রবন্ধ রচনার ক্ষেত্রে রবীন্দ্রনাথের দক্ষতা ছিল প্রশ্নাতীত। তাঁর ব্যক্তিগত রচনাগুলি নানারকমের, যেমন—ভ্রমণকাহিনি, স্মৃতিকথা, ডায়েরি, রম্যরচনা, চিঠিপত্র ইত্যাদি। য়ুরােপ প্রবাসীর পত্র’, ‘য়ুরােপ যাত্রীর ডায়ারী’, ‘জাপান যাত্রী’, ‘যাত্রী’, ‘জীবনস্মৃতি’, ‘ছেলেবেলা', রাশিয়ার চিঠি’, ‘পথের সঞ্জয় । ‘ছিন্নপত্র’, ‘পঞ্চভূত’ প্রভৃতি গ্রন্থে এই জাতীয় রচনার পরিচয় পাওয়া যায়।