Header Ads Widget

Live

6/recent/ticker-posts

দশম শ্রেনির ভূগোল আবহবিকার অধ্যায়ের প্রশ্ন ও উত্তর । আবহবিকার কাকে বলে ও প্রকারভেদ

আজকে আমরা দশম শ্রেনির একটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় আবহবিকার এর কতকগুলি ছোট প্রশ্ন ও তার উত্তর নিয়ে আলোচনা করব।

চিত্র লোড হচ্ছে ..

আবহবিকার কাকে বলে ?

যে প্রক্রিয়ায় আবহাওয়ার বিভিন্ন উপাদানের মাধ্যমে ভূপৃষ্ঠএর উপরিভাগ ও তার নিকটবর্তী শিলা চূর্ণবিচূর্ণ কিংবা  বিয়োজিত হয়ে ক্ষয়প্রাপ্ত অবস্থায় মূল শিলার ওওপরেই অবস্থান করে তাকে  আবহবিকার বলে।

সর্বপ্রথম আবহবিকার বা Weathering শব্দটি ব্যবহার করেন জি.কে গিলবার্ট।

বিভিন্ন উদ্ভিদ ও  প্রাণী , বিশেষ করে পশুপাখি ও মানুষ আবহবিকার প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ  ভূমিকা পালন করে।

আবহবিকার এর প্রকারভেদ

আবহবিকার প্রধানত  তিনটি প্রকার । যথা-

  • ১. যান্ত্রিক
  • ২. রাসায়নিক 
  • ৩. জৈবিক আবহবিকার


যান্ত্রিক আবহবিকার কাকে বলে ? 

যান্ত্রিক আবহবিকার হল শিলার বাইরের রূপের পরিবর্তন, যেটা আমরা দেখে সহজেই বুঝতে পারি। উষ্ণতা, আর্দ্রতা, জীবজন্তু, উদ্ভিদ ইত্যাদির মাধ্যমে শিলার ক্ষয় হয় ও আকার-আকৃতির  পরিবর্তন ঘটে। এই পরিবর্তনকেই আমরা যান্ত্রিক ভৌত আবহবিকার বলি।

যান্ত্রিক আবহবিকার চার প্রকার, 


  • ১. শল্কমোচন
  • ২. ক্ষুদ্রক্ণা বিশরণ
  • ৩. তুহিন খণ্ডীকরণ
  • ৪. প্রস্তরচাঁই খণ্ডীকরণ


রাসায়নিক আবহবিকার কাকে বলে ?

শিলা গঠিত হয় খনিজ উপাদান  দ্বারা এবং সেগুলি আবহাওয়ার বিভিন্ন উপাদানের মাধ্যমে রাসায়নিক বিক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করে।এই বিক্রিয়ার ফলে খনিজগুলির আকার, আয়তন, রং এর পরিবর্তন ঘটে।একেই রাসায়নিক আবহবিকার বলে।

রাসায়নিক আবহবিকারের প্রকারভেদ


  • ১. অঙ্গারযোজন
  • ২. জলযোজন ইত্যাদি

  • জৈবিক আবহবিকার কাকে বলে ? 


আবহাওয়ার বিভিন্ন উপাদানগুলি ছাড়াও শিলার ভৌত ও রাসায়নিক পরিবর্তনের ঘটানোর ক্ষেত্রে অনেকসময় জীবজগৎ অর্থাৎ উদ্ভিদ ও প্রাণী বিশেষ ভূমিকা নিয়ে থাকে। তাই আর-এক ধরনের আবহবিকার হল জৈব আবহবিকার

আবহাওয়ার বিভিন্ন উপাদানের উপস্থিতিতে উদ্ভিদ ও প্রাণীর দ্বারা শিলাস্তরের ভৌত এবং রাসায়নিক পরিবর্তন ঘটে থাকে, সেই ঘটনাকে জৈব আবহবিকার বলে। এটি দুই ভাবে ঘটে, যথাঃ

  • ১. উদ্ভিদের দ্বারা।
  • ২. প্রাণীর দ্বারা।


আবহবিকারের ফলাফল:

যান্ত্রিক ও রাসায়নিক আবহবিকার একসাথে কাজ করলেও এক এক জলবায়ুতে এক এক প্রকার আবহবিকারের প্রাধান্য দেখা যায় এবং সেই মতো তার ফলাফলও ঘটে থাকে। যেমন- মরু জলবায়ু অঞ্চলে ও মেরু জলবায়ু অঞ্চলে দিন ও রাতের উত্তাপের খুব বেশি ফারাকের জন্য যান্ত্রিক আবহবিকার বেশি কার্যকর হয়। অন্যদিকে, আর্দ্রতা ও প্রায় আর্দ্র জলবায়ুতে রাসায়নিক আবহবিকারের বেশি প্রাধান্য হয়।

আবহবিকারের ফলাফল হল-


  • ১. মৃত্তিকা সৃষ্টি
  • ২. রেগোলিথ গঠন
  • ৩. শিলায় ফাটল ও ভাঙন সৃষ্টি
  • ৪. নদী, হিমবাহের দ্বারা ধসের সম্ভাবনা ঘটে
  • ৫. শিলাখন্ড মূল ভূমি থেকে আলগা হয়ে যায়
  • ৬. শিলাস্তুপে ক্ষয়
  • ৭. ভূমির উচ্চতা কমে যায়
  • ৮. শিলার বাইরের ও ভিতরের বৈশিষ্টের পরিবর্তন।

 

আবহবিকার অধ্যায়ের ১ নম্বরের প্রশ ও উত্তর

(১) শল্কমোচন কোন অঞ্চলে বেশি দেখা যায় ?
উত্তর- মরু ও শুষ্ক।

(২) কোন প্রক্রিয়ায় চুনাপাথর দ্রবীভূত হয়।
উত্তর - কার্বনেশন।

(৩) লৌহ ঘটিত শিলায় মরচে পড়ে কেন ?
উত্তর -অক্সিডেশন।

(৪) নিরক্ষীয় অঞ্চলে কোন আবহবিকার বেশি দেখা যায়।
উত্তর - রাসায়নিক।

(৫) ক্ষয়ীভবন এর আগে শিলাস্তরে কি ঘটে ?
উত্তর - আবহবিকার।

(৬) কোন পাথরে লবণের কেলাস জনিত যান্ত্রিক আবহবিকার বেশি হয় ?
উত্তর -বেলে পাথর.।

(৭) আবহবিকার ও ক্ষয়ীভবন কে একত্রে কি বলে ?
উত্তর - নগ্নীভবন।

(৮) একটি মৃদভেদী প্রাণীর নাম লেখ ?
উত্তর - ইঁদুর।

(৯) তুহিন খন্ডীকরণ কোন জলবায়ু অঞ্চলে দেখা যায় ?
উত্তর - মেরু অঞ্চলে।

(১০) পুঞ্জিত ক্ষয় কোন অঞ্চলে বেশি দেখা যায় ?
উত্তর - পাহাড়ি অঞ্চলে।

(১১) জারণ প্রক্রিয়া কোন গ্যাসীয় উপাদান প্রয়োজন হয় ?
উত্তর - অক্সিজেন।

(১২) কোন আবহবিকার এর ফলে শিলায় মরচে পড়ে ?
উত্তর - জারণ।

(১৩) সমসত্ব শিলায় কি ধরনের আবহবিকার হয় ?
উত্তর -শল্কমোচন।

(১৪) শল্কমোচন কোন ধরনের শিলায় বেশি লক্ষ্য করা যায় ?
উত্তর - গ্রানাইট।

(১৫) কোন আবহবিকার এর ফলে শিলার গাঠনিক উপাদানের পরিবর্তন ঘটে ?
উত্তর - রাসায়নিক।

(১৬) জৈব পদার্থের বিয়োজনে উৎপন্ন অ্যাসিড কে কি বলা হয়ে থাকে ?
উত্তর - হিউমিক অ্যাসিড।

(১৭) একটি সহজ দ্রাব্য শিলার উদাহরণ দাও ?
উত্তর - চুনাপাথর।

(১৮) চুনাপাথর গঠিত অঞ্চলে কি ধরনের আবহবিকার হয় ?
উত্তর - কার্বনেশন।

(১৯) আদ্র বিশ্লেষণ কোন ধরনের আবহবিকারের একটি প্রক্রিয়া ?
ত্তর - রাসায়নিক।

(২০)কোন জলবায়ু অঞ্চলে যান্ত্রিক আবহবিকার প্রাধান্য লাভ করে ?
উত্তর - মরু ও মরুপ্রায় অঞ্চলে।

(২১) যে প্রক্রিয়ার মাধ্যমে হিউমাস তৈরি হয় তাকে কি বলে ?
উত্তর -হিউমিফিকেশন।

(২২) আবহবিকার শব্দটি প্রথম ব্যবহার করেন কে ?
উত্তর - জি. কে. গিলবার্ট।

(২৩) লোহার সাথে অক্সিজেনের সংযোগের ফলে যে রাসায়নিক আবহবিকার ঘটে তাকে কি বলে ?
উত্তর - জারন বা অক্সিডেশন।

(২৪) পার্বত্য ঢালে ধাপ বা সোপান তৈরি করে মৃত্তিকা সংরক্ষণ করার পদ্ধতিকে কি বলে ?
উত্তর -ধপচাষ।

(২৫) ভূমি শিলার বিদারণ প্রক্রিয়া কোন ধরনের আবহবিকার এর উদাহরণ ?
উত্তর - যান্ত্রিক আবহবিকার।

(২৬) শিলাস্তর পেঁয়াজের খোসার মতো খুলে যায় কোন ধরনের আবহবিকার ?
উত্তর - শল্কমোচন।

(২৭) মৃত্তিকা ক্ষয়ের ফলে নালিগুলি এর গভীরতা বৃদ্ধি পেয়ে প্রণালী সৃষ্টি হওয়াকে কী বলে ?
উত্তর - প্রণালী ক্ষয়।

(২৮) পর্বতের ঢালে আবহবিকারের ফলে সৃষ্ট শঙ্কু আকৃতির শিলা চূর্ণ কি বলে ?
উত্তর - ট্যালাস।

(২৯) শিলাস্তরের চাপ হাস্য জনিত যান্ত্রিক আবহবিকার এর কারণে শিলা স্তর খন্ড-বিখন্ড হলে তাকে কি বলে ?
উত্তর - হিউমাস।

(৩০) শস্যের শিকড় দ্বারা জমি আচ্ছাদন করে মৃত্তিকা সংরক্ষণ করার পদ্ধতিকে কি বলে ?
উত্তর - মালচিং।

(৩১) কোন ধরনের আবহবিকারের ফলে মরুভূমিতে বিকেলের দিকে গুলির ছড়ার মতো শব্দ শুনতে পাওয়া যায় ?
উত্তর - ক্ষুদ্র কণা বিশারোন।

(৩২) অক্সিডেশন প্রক্রিয়ায় ফেরাস অক্সাইড কোন যৌগে রূপান্তরিত হয় ?
উত্তর - সোদক ফেরিক অক্সাইড।

(৩৩) যান্ত্রিক আবহবিকার এর অন্যতম মাধ্যম কি ?
উত্তর -উষ্ণতা।

(৩৪) হিউমাস সৃষ্টির পর্যায় টি হল ?
উত্তর -হিউমিফিকেশন.।

(৩৫) কাস্ট ভূমিরূপ যে আবহবিকার এর ফলে ঘটে তার নাম লেখ ?
উত্তর - অঙ্গার যোজন।

(৩৬) শীতল জলবায়ু দেখা যায় ?
উত্তর - যান্ত্রিক আবহবিকার।

(৩৭) বৃষ্টিবহুল ক্রান্তীয় অঞ্চলে দেখা যায় ?
উত্তর - রাসায়নিক অবহবিকার।

(৩৮) শিলার শুধুমাত্র আকৃতিগত পরিবর্তন যে অবহবিকারের ফলে ঘটে
, সেটা হলো ?
উত্তর - যান্ত্রিক আবহবিকার।

(৩৯) যান্ত্রিক ও রাসায়নিক উভয় আবহবিকার বেশি হয় কোন অঞ্চলে ?
উত্তর - উষ্ণ নাতিশীতোষ্ণ অঞ্চলে।

(৪০) ইয়োমা সৃষ্টির পর্যায়টি হলো ?
উত্তর - হিউমিফিকেশন।