নবম শ্রেণীর ইতিহাসের দ্বিতীয় অধ্যায়ের কিছু বড় প্রশ্ন এবং উত্তর


আজকে আমরা আলোচনা করব নবম শ্রেণীর ইতিহাসের দ্বিতীয় অধ্যায়ের কিছু বড় প্রশ্ন এবং উত্তর নিয়ে তো চলুন শুরু করা যাক ।





(১) ট্রাফালগারের যুদ্ধের 1805 খ্রিস্টাব্দ কারণ উল্লেখ করো ।


উত্তর
অ্যামিয়েন্সের সন্ধির (১৮০২ খ্রি.) পর ফ্রান্স ও ইংল্যান্ডের মধ্যে সম্পর্কের অবনতি ঘটে এবং উভয়পক্ষের মধ্যে ট্রাফালগারের নৌ যুদ্ধ (১৮০৫ খ্রি.) সংঘটিত হয়।

✓✓ট্রাফালগারের যুদ্ধের কারণ

ট্রাফালগারের যুদ্ধের বিভিন্ন কারণ ছিল। যেমন
1. অ্যামিয়েন্সের সন্ধি: অ্যামিয়েন্সের সন্ধি-এর (১৮০২ খ্রি.) শর্তে মাল্টা দ্বীপ ইংল্যান্ডের ছাড়ার কথা থাকলেও পরে ইংল্যান্ড তা ছাড়তে অস্বীকার করে।
2. নজরদারি : ইংল্যান্ড মাল্টা দ্বীপ না ছাড়ায় নেপোলিয়ন জার্মানিতে ব্রিটিশ রাজ্যের সম্পত্তির ওপর সেনার নজরদারি শুরু করে।
3. ফরাসি জাহাজ আক্রমণ : ইংল্যান্ডের নৌবাহিনী বারবার ফরাসি বাণিজ্য-জাহাজগুলি আক্রমণ করতে থাকে। এর প্রতিশােধ নেওয়ার উদ্দেশ্যে নেপোলিয়ন ফ্রান্সে ভ্রমণকারী ১০০০ ইংরেজিতে বন্দি করেন।
4. অপপ্রচার : ইংল্যান্ডের সংবাদপত্রগুলিতে নেপোলিয়নের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক অপপ্রচার চালানাে হয়।ফলে নেপোলিয়ন কুম্ভ হন এবং উভয় শক্তির মধ্যে বিরোধ শুরু হয়।
5, ফ্রান্সের নৌশক্তি বৃদ্ধি : সামুদ্রিক বাণিজ্য ও নৌযুদ্ধে ইংল্যান্ডের শ্রেষ্ঠত্ব ধ্বংস করার উদ্দেশ্যে ফ্রান্স নৌশক্তি বুদ্ধিতে তৎপর হয়ে ওঠে। ফলে ইংল্যান্ড আতঙ্কিত


(২) ট্রাফালগারের যুদ্ধের (1805 খ্রিস্টাব্দ) বিবরণ দাও।

উত্তর
ফরাসি শাসক নেপোলিয়নের ১৭৯৮ খ্রিস্টাব্দে নীলনদের যুদ্ধে ইংল্যান্ডের কাছে পরাজিত হলে ইংল্যান্ডের প্রতি তার আক্রোশ সৃষ্টি হয়। এর ফলস্বরুপ ফ্রান্স ও ইংল্যান্ডের মধ্যে ট্রাফালগারের নৌ যুদ্ধ (১৮০৫ খ্রি:) সংঘটিত হয়।

✓✓ ট্রাফালগারের যুদ্ধ

1, নেপোলিয়নের যুদ্ধ-প্রস্তুতি : ইংল্যান্ড ও ফ্রান্সের মধ্যে অ্যামিয়েন্সের সন্ধি (১৮০২ খ্রি.) ভেঙে যাওয়ার পর নেপোলিয়ন বিন্নি ঘটনায় ইংল্যান্ডের ওপর ক্ষুব্ধ হন। তিনি সরাসরি ইংলিশ চ্যানেল অতিক্রম করে ইংল্যান্ড আক্রমণের উদ্দেশ্যে ইংলিশ চ্যানেল ও উত্তর সাগরের তীরে ২ লক্ষাধিক সেনা সমাবেশ করেন।
2. তৃতীয় শক্তিজোট : এই পরিস্থিতিতে ইংল্যান্ডের নেতৃত্বে অস্ট্রিয়া, রাশিয়া ও সুইডেনকে নিয়ে ১৮০৫ খ্রিস্টাব্দে ফ্রান্স-বিরােধী তৃতীয় শক্তিজোট গড়ে ওঠে। এই শক্তিজোট ভাঙার উদ্দেশ্যে নেপোলিয়ন দ্রুতগতিতে অস্ট্রিয়াকে আক্রমণ করে উলের যুদ্ধ (১৮০৫ খ্রি.) পরাজিত করেন |

3. ট্রাফালগারের নৌযুদ্ধ: নেপোলিয়নের ইংল্যান্ড আক্রমণের পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হওয়ার আগেই ইংরেজ নৌ-সেনাপতি নেলসন ফরাসি নৌ-সেনাপতি ভিলনেউভ-কে ট্রাফালগারের নৌ যুদ্ধে (২১ অক্টোবর, ১৮০৫ খ্রি.) শােচনীয়ভাবে পরাজিত করেন। যুদ্ধে ফরাসি নৌবহর সম্পূর্ণ ধ্বংস হয় ।


(৩) নেপোলিয়ন ফরাসি বিপ্লবের কোন কোন ভাবধারা ধ্বংস করেন ?

উত্তর
ফরাসি বিপ্লব-প্রসূত সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ তিনটি আদর্শ হিল সাম্য", "মৈত্রী ও স্বাধীনতা।

✓✓ বৈপ্লবিক ডাবধারা ধ্বংস

ফরাসি সম্রাট নেপোলিয়ন দেশে সাম্য ও মৈত্রীর আদর্শ প্রতিষ্ঠা করলেও স্বাধীনতার আদর্শ সহ বিভিন্ন বৈপ্লবিক ভাবধারা ধ্বংস করেন। যেমন

1. রাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠা; ফরাসি বিপ্লবের দ্বারা রাজতন্ত্রের অবসান ঘটে নেপোলিয়ন নিজেকে সম্রাট হিসেবে ঘােষণা (১৮০৪ খ্রি.) করে দেশে পুনরায় চূড়ান্ত স্বৈরাচারী বংশানুক্রমিক রাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেন।
2. স্বাধীনতার আদর্শ ধ্বংস : নেপোলিয়ন প্রাদেশিক আইনসভাগুলির ক্ষমতা, মানুষের বাক স্বাধীনতা ও সংবাদপত্রের স্বাধীনতা প্রভৃতি কেড়ে নিয়ে এবং নাগরিকদের ওপর বিভিন্ন কঠোর নিয়ম চাপিয়ে দিয়ে মানুষের স্বাধীনতা ধ্বংস করেন।
3. শিক্ষা ক্ষেত্রে হস্তক্ষেপ : নেপোলিয়ন ইতিহাস রাষ্ট্রবিজ্ঞানের পাঠ্যসূচিতে পরিবর্তন এনে দেশে এমন শিক্ষার প্রবর্তন করেন যাতে শিক্ষার্থীরা সম্রাট ও রাষ্ট্রের প্রতি একান্ত অনুগত হয়। তিনি বিপ্লবী জ্যাকোবিন এর সর্বজনীন প্রাথমিক শিক্ষার আদর্শ বাতিল করেন।

4. বিপ্লবের ধ্বংসকারী : নেপোলিয়ন বসু ক্ষেত্রেই বিপ্লবের আদর্শ লঙ্ঘন করেছেন বলে টমসন ও গ্যারাট মনে করেন। ফরাসি বিপ্লবের বিভিন্ন ভাবধারা ধ্বংস করায় ঐতিহাসিক জর্জ রুডে নেপোলিয়নকে বিপ্লবের সন্তান বলে স্বীকার করেন ।


(৪) মহাদেশীয় অবরোধ ব্যবস্থা বলতে কী বোঝো ?

উত্তর
ফরাসি সম্রাট নেপোলিয়নের অধীনে ইউরোপে সবচেয়ে শক্তিশালী স্থলবাহিনী থাকলেও তার নৌশক্তি ইংল্যান্ডের তুলনায় অনেক দুর্বল ছিল।

মহাদেশীয় অবরোধ ব্যবস্থা

1. ইংল্যান্ডের বীরত্ব : শক্তির দুর্বলতার জন্য তিনি ১৮০৫ খ্রিস্টাব্দে ট্রাফালগারের নৌযুদ্ধে ইংল্যান্ডের কাছে চূড়ান্তভাবে পরাজিত হন। তখন তিনি উপলব্ধি করেন যে, ইউরোপের সকল শক্তি তার কাছে পরাজিত হয়ে মিত্রতা স্থাপনে বাধ্য হলেও একমাত্র সমুদ্রের রানি ইংল্যান্ড তার দ্বীপরাষ্ট্রে বসে নেপোলিয়নের বিরুদ্ধে প্রবল বীরত্ব দেখিয়ে যাচ্ছে।

2. অর্থনৈতিক অবরোধ: ইংল্যান্ডকে যুদ্ধে পর্যুদস্ত করতে না পেরে নেপোলিয়ন ইংল্যান্ডের অর্থনৈতিক শক্তি ভেঙে দেওয়ার চেষ্টা করেন। এই উদ্দেশ্যে তিনি ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক অবরােধ ঘোষণা করেন ।

3. ঘােষণা : নেপোলিয়ন বার্লিন ডিক্রি, মিলান ডিক্রি, ওয়ারশ ডিক্রি, ফঁতেনরু ডিক্রি প্রভৃতির মাধ্যমে ঘােষণা করেন যে, কোনাে ব্রিটিশ জাহাজ ইউরোপের কোনাে দেশের বন্দরে ঢুকতে পারবে না এবং কোন ইউরোপীয় রাষ্ট্র কোনাে ব্রিটিশ পণ্য আমদানি করতে পারবে না। নেপােলিয়ন, কতৃর্ক ঘােষিত এই অবরােধ, মহাদেশীয় অবরোধ ব্যবস্থা বা মহাদেশীয় ব্যাবস্থা নামে পরিচিত ।


(৫) নেপোলিয়ান কোন কোন ডিক্রি জারি করে মহাদেশীয় অবরোধ ঘোষণা করেন ?

উত্তর
ফরাসি সম্রাট নেপোলিয়ন ইউরোপের কোনো বন্দরে। ব্রিটিশ জাহাজের প্রবেশ এবং ইউরোপের রাষ্ট্রগুলি কর্তৃক ব্রিটিশ পণ্য আমদানি নিষিদ্ধ করে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে। মহাদেশীয় অবরােধ শুরু করেন।

✓✓মহাদেশীয় অবরােধ ঘোষণা
ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে মহাদেশীয় অবরােধ ঘােষণার উদ্দেশ্যে নেপোলিয়ন কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ডিক্রি জারি করেন। যেমন

1. বার্লিন ডিক্রি : নেপোলিয়ন বার্লিন ডিক্রি (১৮০৬ খ্রি.) জারি করে বলেন যে[i] ইংল্যান্ড বা তার উপনিবেশ গুলি কোনাে জাহাজ ফ্রান্স এবং ফ্রান্সের মিত্র বা নিরপেক্ষ কোনো দেশে ঢুকতে দেওয়া হবে না। [ii] এসব দেশে কোনাে ব্রিটিশ পপ ঢুকতে দেওয়া হবে না। [iii] এসব দেশে কোনাে জাহাজে করে ব্রিটিশ পণ্য ঢুকলে তা বাজেয়াপ্ত করা হবে।

2. মিলান ডিক্রি : নেপোলিয়ন মিলান ডিক্রি (১৮০৭ খ্রি.) জারি করে বলেন যে[i] কোনাে নিরপেক্ষ বা মিত্র দেশ। অবরুদ্ধ বন্দরে জাহাজ পাঠালে তা বাজেয়াপ্ত করা হবে। [ii] কোনাে নিরপেক্ষ দেশের জাহাজ ইংল্যান্ডে প্রবেশ করলে তা শত্রু দেশের জাহাজ বলে গণ্য হবে।

3. ওয়ারশ ও ফঁতেন ডিক্রি: নেপোলিয়ন ওয়ারশ ডিক্রি (১৮০৭ খ্রি.) ও ফতের ডিক্রি (১৮১০ খ্রি.) জারি করে বলেন যে, নিষেধাজ্ঞা ভঙ্গ করার অপরাধে যেসব ব্রিটিশ পণ্য বাজেয়াপ্ত হবে তাতে প্রকাশ্যে অগ্নিসংযোগ করা হবে ।


(৬) ইংল্যান্ডে নেপোলিয়নের মহাদেশীয় অবরোধ ব্যবস্থা কিরূপ প্রভাব পড়েছিল ?

উত্তর
ফরাসি সম্রাট নেপোলিয়ন ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে মহাদেশীয় ব্যবস্থা নামে এক অর্থনৈতিক অবরােধ ঘোষণা করেন। এই ঘোষণার লক্ষ্য ছিল ইউরোপের ব্রিটিশ পন্য বিক্রি বন্ধ করে করে ব্রিটিশ অর্থনৈতিক শক্তি ভেঙে দেওয়া।

✓✓ইংল্যান্ডে মহাদেশীয় ব্যবস্থার প্রভাব

ইংল্যান্ডে মহাদেশীয় ব্যবস্থার প্রভাব গুলি হল—

1. প্রথমদিকে ক্ষতি: নেপোলিয়নের ইংল্যান্ডের মহাদেশীয় অবরােধ ঘােষণার ফলে প্রথমদিকে ইংল্যান্ড যথেষ্ট ক্ষতির সম্মুখীন হয়। ইউরোপের ব্রিটিশ পণ্য বিক্রি ব্ধ হলে কারখানা বন্ধ, বেকারত্ব বৃদ্ধি, খাদ্যাভাব প্রভৃতি ঘটনা ইংল্যান্ডকে প্রবল অর্থনৈতিক সংকটের মুখে ফেলে দেয়।
2, নতুন বাজার দখল : ইংল্যান্ড কিছুদিনের মধ্যে তার প্রাথমিক সংকট কাটিয়ে উঠতে সক্ষম হয়। ব্রাজিল, আর্জেন্টিনা, তুরস্ক, আটলান্টিক ও বাল্টিক উপকূল অঞ্ল প্রভৃতি এলাকায় ইংল্যান্ড নতুন বাজার দখল করে তার পশ্য বিক্রি করতে থাকলে ব্রিটিশ অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করে।
3. ফ্রান্সের নৌশক্তির অভাব : নেপোলিয়নের অবরােধ সত্ত্বেও ইংল্যান্ড ছায়াপথে ইউরোপের বিভিন্ন দেশে তাদের পণ্য সরবরাহ অব্যাহত রাখতে সক্ষম হয়। পর্যাপ্ত নৌশক্তি অভাবে নেপোলিয়ন ইংল্যান্ডকে প্রতিরােধ করতে ব্যর্থ হয়।
4. অর্ডাস ইন কাউন্সিল: মহাদেশীয় অবরোধের পালটা অস্ত্র হিসেবে ইংল্যান্ড অর্ডাস ইন কাউন্সিল ঘোষণা করে । নিরপেক্ষ দেশ গুলিকে অবাধ বাণিজ্যর লাইসেন্স বিক্রি করে প্রচুর অর্থ আয় করে ।


(৭) নেপোলিয়নের মহাদেশীয় অবরোধ ব্যর্থ হওয়ায় কারণগুলি কি ছিল ?

উত্তর
ফরাসি সম্রাট নেপোলিয়ন 'ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে অবরোধ ঘোষণা করে ইংল্যান্ডের অর্থনৈতিক শক্তি ভেঙে দেওয়ার উদ্যোগ নিলেও তার উদ্দেশ্য সফল হয় নি।

✓✓ মহাদেশীয় অবরোধ ব্যর্থ হওয়ার কারণ

নেপোলিয়নের মহাদেশীয় অবরােধ ব্যর্থ হওয়ার কারণ গুলি ছিল _______

1. ফরাসি শক্তির অভাব : নেপোলিয়ন ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক অবরােধ ঘোষণা করলেও ইউরোপের সুবিস্তৃত উপকূল অঞ্চলে নজরদারি করে তা বাস্তবায়িত করার মতাে পর্যাপ্ত নৌশক্তি ফ্রান্সের হল না। ফলে ইউরোপের ব্রিটিশ পণ্যের প্রবেশ ঠেকাতে নেপোলিয়ন ব্যর্থ হন।
2. ইংল্যান্ডের শক্তিশালী নৌবহর ফ্রান্সের বিরুদ্ধে ইংল্যান্ড 'অর্ডার্স-ইন-কাউন্সিল" নামে পালটা যে অবরােধ ঘােষণা করে তা ইংল্যান্ড তার শক্তিশালী নৌবহর সাহায্যে বাস্তবায়িত করতে সক্ষম হয়।
3. ব্রিটিশ পণ্যের চাহিদা: ইউরোপের বাজারে উন্নতমানের বস্ত্র, চা, কফি, চিনি প্রভৃতি ব্রিটিশ শিল্পজাত সামগ্রীর খুবই চাহিদা ছিল। শিল্পে অনুন্নত ফ্রান্সের পক্ষে নিম্নমানের ও বেশি দামের পণ্য বিক্রি করে ব্রিটিশ পণ্যের চাহিদা ধ্বংস করা সম্ভব ছিল না।
4. ফ্রান্সে ব্রিটিশ পণ্যের আমদানি: ফরাসি শিল্পজাত পণ্য নিম্নমানের হওয়ায় স্বয়ং ফ্রান্সে গােপনে ব্রিটিশ পণ্যের ওপর নির্ভর করতে হত। ফরাসি চোরাকারবারিরা গােপনে ব্রিটিশ পণ্য ফ্রান্সে আমদানি করত। নেপোলিয়নও ইংল্যান্ড থেকে ফরাসি সেনাদের জন্য জুতো কোর্ট আমদানি করেন ।

Post a Comment

0 Comments