Header Ads Widget

Live

6/recent/ticker-posts

মডেল অ্যাক্টিভিটি টাস্ক দশম শ্রেণি ভূগোল এর প্রশ্ন ও উত্তর । Model activity tasks geography Class 10 .

আজকে আমরা আলোচনা করব দশম শ্রেণির ভূগোলের মডেল অ্যাক্টিভিটি টাস্ক এর সমস্ত উত্তর এবং প্রশ্ন নিয়ে ।

মডেল অ্যাক্টিভিটি টাস্ক দশম শ্রেণি  ভূগোল

মডেল অ্যাক্টিভিটি টাস্ক দশম শ্রেণি ভূগোল এর প্রশ্ন ও উত্তর


(১) বায়ুমণ্ডলে আরসলের গুরুত্ব নিরূপণ করো ।

উত্তর :
বায়ুতে ভাসমান কেবলমাত্র কঠিন শুষ্ক ধূলিকণা বালি কার্বন ও লবণ কণাকে একত্রে আরসলের বলে
বায়ুমণ্ডলে আরসলে গুরুত্ব হলো : -

(i) ধূলিকনার ওপর সূর্য রশ্মি বিচ্ছুরিত ও পসারিত হয়ে সাত রঙ্গের বর্ণালী তরঙ্গ সৃষ্টি করে যার মধ্যে নীল আলোর অধিক্য ফলে বলে আকাশকে নীল নীল রঙের দেখায় ।
(ii) বায়ু ধূলিকণা কে আশ্রয় করে জলীয় বাষ্প ভেসে থাকে ও মেঘ সৃষ্টি হয় যা থেকে অধিকক্ষেপণ হয় তাই বৃষ্টি ও শিলা বৃষ্টি ও কুয়াশা তুহিন তুষার সৃষ্টিতে আরসল পরোক্ষভাবে ভূমিকা রাখে।
(iii) বায়ুতে থাকা ধূলিকণা সৌরতাপ শোষণে সক্ষম হওয়াই বায়ুমণ্ডলের উষ্ণতা নিয়ন্ত্রণ ও আরোসল গুরুত্ব রাখে ।
(iv) সূর্যলোক আরোসলে প্রতিফলিত হয়ে ঊষা ও গোধূলির সৃষ্টি করে ।


(২) মানুষের ক্রিয়া-কলাপ পৃথিবীর প্রাকৃতিক সৌর পর্দা বিনাশের অন্যতম প্রধান কারণ - যুক্তি সহ ব্যাখ্যা করো ।

উত্তর
পৃথিবীর প্রাকৃতিক সৌর পর্দা বলা হয় স্ট্রাটোস্ফিয়ার কে ১৫-৩০ কিমি উচ্চতায় ওজোন গ্যাসের সবচেয়ে বেশি ঘনত্ব যুক্ত পুরো অন্ত্ররণকে এই স্তর সৌর রশ্মির ক্ষতিকারক দুটি অতিবেগুনি রশ্মি ( UV-B,C,) কে প্রতিহত করে পৃথিবীর জীবজগতকে জাতির হাত থেকে রক্ষা করে বর্তমানে এই স্তরটি নানা কারণে বিনাশ হচ্ছে যার মধ্যে মানুষের ক্রিয়া-কলাপ এর অন্যতম কারণ ।

(i) ক্লোরোফ্লোরো কার্বন যৌগ
(ii) ব্রোমিন যৌগ
(iii) হ্যাঁলোন যৌগ
(iv) সালফেট যৌগ
(v) নাইট্রোজেন যৌগ


(৩) ট্রপোস্ফিয়ারের বৈপরীত্য উষ্ণতা সৃষ্টির কারণ গুলি উল্লেখ করো ।

উত্তর
ট্রপোস্ফিয়ার ভূপৃষ্ঠের যতই জোরে ওঠা যায় ততই উষ্ণতা কমতে থাকে যা উষ্ণতার স্বাভাবিক কম হার নামে পরিচিত । কিন্তু মাঝে মাঝে বায়ুমন্ডলে এমন দেখা যায় যে উষ্ণতা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে উষ্ণতা বৃদ্ধি ঘটে অর্থাৎ শীতল বায়ু নিচের স্তরে এবং উষ্ণতা বায়ুর উপরের স্তরে অবস্থান করেছেন । বায়ুমণ্ডলের এরূপ অবস্থাকে উষ্ণতার বৈপরীত্য উষ্ণতা বলে।

বৈপরীত্য উষ্ণতা সৃষ্টির কারণ গুলি হল :-

(i) সুদীর্ঘ রাত্রি :- দিন অপেক্ষা রাত বড় হলে ভূপৃষ্ঠ থেকে সঞ্চিত তাপ সম্পূর্ণ বিকিরিত হয়ে রাত্রি শেষ হতে সময় অবশিষ্ট থাকে তাকে বলে ভূপৃষ্ঠ সংলগ্ন বায়ু অতিরিক্ত শীতল হয়ে যায় ।

(ii) মেঘ যুক্ত আকাশ :- মেঘমুক্ত আকাশ অথবা মেঘের অবস্থান অনেক উষ্ণতা থাকলেও ভূপৃষ্ঠ থেকে বিকিরিত তাপ কোন বাধা না পেয়ে সরাসরি মহাশূন্যে চলে যায় ফলে উষ্ণতার অভাবে নিকটবর্তী অঞ্চলের বায়ু শীতল হয়ে উষ্ণতার বৈপরীত্য ঘটায়।

(iii) শুষ্ক বায়ু :- সাধারণত শীতকালে বায়ু শুষ্ক থাকে এবং জলীয়বাষ্প কম থাকায় জন্য ভূপৃষ্ঠ বিচ্ছুরিত তাপ বায়ুমন্ডলে শোষণ করতে পারে না এবং ওই তাপ মহাশূন্যের সরাসরি চলে যায় । দীর্ঘ সময় ধরে ওই তাপ বিকিরণ করতে থাকলে নিচের স্তরের বায়ু শীতল হয়ে যায় ।

(iv) শান্ত আবহাওয়া :- আবহাওয়া শান্ত থাকলে উপরের এবং নিচের বায়ুস্তরের মিশ্রণ কম হয় বলে নিচের বায়ু শীতল ভূপৃষ্ঠের সংস্পর্শে শীতল হয়ে উষ্ণতার বৈপরীত্য সৃষ্টি করে ।


(৪) বায়ুমন্ডলের উষ্ণতার তারতম্যের নিয়ন্ত্রক হিসেবে স্থলভাগ ও জল ভাগ বন্টন এবং নগরায়ন ও শিল্পোন্নয়নের ভূমিকা ব্যাখ্যা করো ।

উত্তর
ভূপৃষ্ঠের সর্বত্রই বায়ুমন্ডলের উষ্ণতা সমানে অনুভূত হয় না । কতগুলো কারণে বা বিষয়ে প্রভাবে পৃথিবী জুড়ে উষ্ণতার এই পার্থক্য ঘটে । উষ্ণতার এই তারতম্যের নিয়ন্ত্রক হিসেবে স্থলভাগ ও জলভাগের বন্টন এবং নগরায়ন ও শিল্পায়নের ভূমিকা নিম্নরূপ

*স্থলভাগ ও জলভাগের বন্টন : - জলভাগ অপেক্ষায় স্থলভাগ দ্রুত ও উষ্ণতম শীতল হয় । একই পরিমাণ সৌরশক্তি নির্দিষ্ট পরিমাণ জলভাগের তুলনায় এই পরিমাণ স্থলভাগ তিনগুণ বেশি উষ্ণ হয় এইজন্য একই মহাদেশীয় অঞ্চলে গ্রীষ্মকাল বা দিন বেশি উষ্ণ শীতকাল বা রাত বেশি শীতল অর্থাৎ চরমভাবাপন্ন এবং উপকূলীয় অঞ্চলে ঠান্ডা গরমের তীব্রতা ভূপৃষ্ঠে কম অর্থাৎ সমভাবাপন্ন ।
উদা:- পুরির তুলনায় দিল্লি চরমভাবাপন্ন ।

*নগরায়ন ও শিল্প উন্নয়নের :- সারা বিশ্ব জুড়ে নগরায়ন ও শিল্প উন্নয়নের তোড়জোড় শিল্প-কলকারখানা তৈরীর কাজ চলছে। এইজন্য যানবহন দোকানপাট কল কারখানার বৃদ্ধি ঘটছে, ফলে যানবহন নির্গত ধোঁয়া প্রভৃতি বায়ুর উষ্ণতা ও বৃদ্ধিতে সাহায্য করে । তাই গ্রাম অঞ্চলের অপেক্ষা শহর অঞ্চলে উষ্ণতা বেশি ।