পারিকমিউন কী ? প্যারিসের শান্তি সম্মেলনে (১৯১৯ খ্রি.) স্বাক্ষরিত বিভিন্ন সন্ধি গুলির উল্লেখ করাে। নবম শ্রেণির ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রশ্ন এবং উত্তর । www.newskatha.com

পারিকমিউন কী ? নবম শ্রেণির ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রশ্ন এবং উত্তর । www.newskatha.com



পারিকমিউন কী ?

1870-71 খ্রিস্টাব্দের ফ্রাঙ্কো - প্রাশিয়ান যুদ্ধে ফরাসি সম্রাট তৃতীয় নেপোলিয়ন পরাজিত ও বন্দী হওয়ার পর রাজতন্ত্রী ফ্রান্সের প্রাচীন রাজধানী ভার্সাই তে একটি প্রজাতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠিত হয় । এই সরকার প্রাশিয়ার সঙ্গে অপমানজনক শান্তি চুক্তিতে স্বাক্ষর করে । কিন্তু বিপ্লবী ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিস শহরে সমাজতন্ত্রী , মার্কসবাদী এবং পুরনো জ্যাকোবিন নেতাদের উদ্যোগে একটি সমাজতান্ত্রিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত হয় । একে বলা হয় প্যারি কমিউন । শেষ পর্যন্ত রক্তক্ষয়ী গৃহযুদ্ধের পর প্রজাতন্ত্রী সরকারের সৈন্যবাহিনী প্যারি কমিউন এর বিদ্রোহকে নৃশংসভাবে দমন করে । পরবর্তী কালে সমাজতন্ত্রী ও মার্ক্সবাদী চেতনায় এই বিদ্রোহ একটি উজ্জ্বল আদর্শ হিসেবে প্রতিভাত হয়েছিল ।

প্যারিসের শান্তি সম্মেলনে (১৯১৯ খ্রি.) স্বাক্ষরিত বিভিন্ন সন্ধি গুলির উল্লেখ করাে

উত্তর :- জার্মানির আত্মসমর্পণের পর প্রথম বিশ্বযুদ্ধের অবসান ঘটে। এরপর শান্তি চুক্তি সম্পাদনের উদ্দেশ্যে বিশ্বের ৩২টি দেশ ১৯১৯ খ্রিস্টাব্দে (জানুয়ারি) প্যারিসের শান্তি সম্মেলনে মিলিত হয়।

প্যারিসের শান্তি সম্মেলনে স্বাক্ষরিত বিভিন্ন সন্ধি

প্যারিসের শান্তি সম্মেলনে মােট ৫ টি সন্ধি স্বাক্ষরিত হয় । এগুলি হল -
1. ভার্সাই সন্ধি: প্রথম বিশ্বযুদ্ধে বিজয়ী মিত্রশক্তি ও পরাজিত জার্মানির মধ্যে ১৯১৯ খ্রিস্টাব্দের ২৮ জুন ভার্সাই সন্ধি স্বাক্ষরিত হয়। এই সন্ধির দ্বারা—
[i] প্রথম বিশ্বযুদ্ধের জন্য জার্মানিকে দায়ী করা হয়, 
[ii] জার্মানির বিভিন্ন ভূখণ্ড কেড়ে নেওয়া হয়, 
[iii] জার্মানির সামরিক শক্তি ধ্বংস করা হয়, 
[iv] জার্মানির ওপর বিপুল পরিমাপ ক্ষতিপূরণের বােঝা চাপিয়ে দেওয়া হয় এবং 
[V] জাতিসংঘ প্রতিষ্ঠার কথা বলা হয় ।

2. সেন্ট জার্মেইন সন্ধি: বিজয়ী মিত্রশক্তি ও পরাজিত। অস্ট্রিয়ার মধ্যে ১৯১৯ খ্রিস্টাব্দের ১০ সেপ্টেম্বর। সেন্ট জার্মেই সন্ধি স্বাক্ষরিত হয়। এই সন্ধির দ্বারা -
[i] অস্ট্রিয়াকে কোণঠাসা করার বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয় এবং 
[i] চেকোস্লোভাকিয়া, ইউগােস্লাভিয়া প্রভৃতি নতুন রাষ্ট্র গঠিত হয়।

3. নিউলির সন্ধি; বিজয়ী মিত্রশক্তি ও পরাজিত বুলগেরিয়া মধ্যে ১৯১৯ খ্রিস্টাব্দের ২৭ নভেম্বর নিউলির সন্ধি স্বাক্ষরিত হয়। এই সন্ধির দ্বারা [i] বুলগেরিয়ার বিভিন্ন ভূখণ্ড কেড়ে নেওয়া হয় এবং [ii] বুলগেরিয়ার সামরিক শক্তি হ্রাস করা হয়।

4. সেভরের সন্ধি: বিজয়ী মিত্রশক্তি ও পরাজিত তুরস্কের মধ্যে ১৯২০ খ্রিস্টাব্দের ১০ আগস্ট সেভরের সন্ধি স্বাক্ষরিত হয়। এই সন্ধির দ্বারা[i] তুরস্কের বিভিন্ন - ভূখণ্ড কেড়ে নেওয়া হয় এবং [ii] তুরস্কের সামরিক শক্তি হ্রাস করা হয়।

5. ট্রিয়ানন-এর সন্ধি: বিজয়ী মিত্রশক্তি ও পরাজিত হাঙ্গেরির মধ্যে ১৯২০ খ্রিস্টাব্দের ৩ নভেম্বর। ট্রিয়ানন এর সন্ধি স্বাক্ষরিত হয়। এই সন্ধির দ্বারা [i] হাঙ্গেরির বিভিন্ন ভূখন্ড কেড়ে নেওয়া হয় এবং [i] হাঙ্গেরির সামরিক শক্তি হ্রাস করা হয়।