Class 9 Geography Suggestion 2020 New নবম শ্রেণির ভূগোল সাজেশন

আজকে আমরা আলোচনা করব নবম শ্রেণির ভূগোল বিষয়ের কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন এবং উত্তর নিয়ে তো চলো শুরু করা যাক আজকের পর্বটি ।

নবম শ্রেণির ভূগোল বিষয়ের কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন এবং উত্তর



Class 9 Geography Suggestion 2020 New নবম শ্রেণির ভূগোল সাজেশন পৃথিবীতে ঋতু পরিবর্তনের ... ..



1. পৃথিবীতে ঋতু পরিবর্তনের কারণগুলি লেখাে।

উত্তর :- ঋতু পরিবর্তনের কারণসমূহ: বিভিন্ন কারণে ভূপৃষ্ঠের সর্বত্র সূর্যরশ্মি সারাবছর সমানভাবে পড়ে না। ফলে কোথাও হয় শীত, আবার কোথাও হয় গ্রীষ্ম। শীত ও গ্রীষ্মের এই পার্থক্য অনুসারে বছরকে কয়েকটি ভাগে ভাগ করা হয় এবং প্রত্যেকটি ভাগকে বলে ঋতু। আর এই শীত ও গ্রীষ্মের পর্যায়ক্রমিক পরিবর্তনের নাম ঋতু পরিবর্তন। যেসব কারণে ভূপৃষ্ঠের বিভিন্ন অংশে ঋতুপরিবর্তন হয়, সেগুলি হল --

(১) পৃথিবীর পরিক্রমণ গতি; পৃথিবী নিজের অক্ষের ওপর অবিরাম ঘুরতে ঘুরতে, একটি নির্দষ্ট পথে, নির্দিষ্ট দিকে (ঘড়ির কাঁটার বিপরীতে) এবং নির্দিষ্ট সময়ে সূর্যের চারিদিকে প্রদক্ষিণ করে। একে পরিক্রমণ গতি বলে। এর ফলে, ভূপৃষ্ঠের বিভিন্ন অংশে সূর্যালােক প্রাপ্তির তারতম্য অনুযায়ী বছরের বিভিন্ন সময়ে উত্তর যে তারতম্য হয়, প্রধানত তার ওপর ভিত্তি করেই আঞুলিক আবহাওয়া তথা জলবায়ুর বৈশিষ্ট্যের পর্যায়ক্রমিক পরিবর্তন ঘটে।

(২) পৃথিবীর মেরুরেখার 66 1/2° কোণে অবস্থান : পরিক্রমণের সময় পৃথিবীর মেরুরেখা সর্বদাই কক্ষতলের সঙ্গে 66 1/2° কোণে অবস্থান করে বলে ভূপৃষ্ঠের বিভিন্ন অংশে দিন ও রাতের দৈর্ঘ্যের হ্রাসবৃদ্ধি হয়। এর ফলে, ওইসব অংশে নয়নতারা তারতম্য ঘটে। যেমন— যদি দিন বড়াে ও রাত ছােটো হয়, তবে দিনের বেলায় ভূপৃষ্ঠ যে পরিমাণ তাপ সঞ্চিত হয়, রাত ছােটো হওয়ায় ওই তাপের সবটাই বিকীর্ণ হতে পারে না, কিছুটা সঞ্চিত থেকে যায়। এর ফলে, ওই অঞ্চলে গরম বাড়তে থাকে এবং সেখানে গ্রীষ্মকালের সৃষ্টি হয়। আবার, দিন ছােটো ও রাত বড় হলে দিনের বেলায় সঞ্জিত তাপের সবটাই রাতে বিকীর্ণ হয়। ফলে, জায়গাটি ঠান্ডা হয়ে যায় এবং শীতকাল শুরু হয়।

(৩) পৃথিবীর আবর্তন গতি: পৃথিবী নিজের মেরুদণ্ডের চারিদিকে আবর্তন করে বলে ভূপৃষ্ঠের সর্বত্র দিন ও রাত হয় অর্থাৎ উষ্ণতার তারতম্য হয় ও ঋতু পরিবর্তন হয়। আবর্তন গতি না থাকলে পৃথিবীর এক অর্ধে চির গ্রীষ্ম এবং অপর অর্ধেক চির শীত বিরাজ করত।

(৪) পৃথিবীর অভিগত গােলীয় আকৃতি : পৃথিবীর আকৃতি অভিগত গােলাকার বলে ভূপৃষ্ঠে সূর্যরশ্মির পতনকোণের তারতম্য হয়। ফলে সূর্যরশ্মি কোথাও লম্বভাবে, আবার কোথাও তির্যকভাবে পড়ে। তির্যকভাবে পতিত রশ্মির তুলনায় লম্বভাবে পতিত রশ্মি ভূপৃষ্ঠ অধিক গরম হয়, ফলে ভূপৃষ্ঠের বিভিন্ন স্থানে উত্তর উষ্ণতার হয়।

2. ভূগাঠনিক সমভূমি ও ক্ষয়জাত সমভূমি সম্পর্কে আলোচনা করাে।

উত্তর :- ভূগাঠনিক সমভূমি

[১] সংজ্ঞা: ভূ-আন্দোলনের ফলে (মহীভাবক) ভূপৃষ্ঠের। কোনাে নিম্নভূমি উত্থিত হয়ে বা কোনো উচ্চভূমি অবনমিত হয়ে সমভূমির রূপ ধারণ করলে, তাকে ভূগাঠনিক সমভূমি বলে।

[২] প্রকারভেদ : ভূগাঠনিক সমভূমি দুই প্রকার। যথা [a] উন্নত সমভূমি, [b] অবনত সমভূমি ।

[৩] উৎপত্তি : [a] সমুদ্র উপকূলের অগভীর অংশ ভূ-আন্দোলনের ফলে ওপরে উঠে উন্নত সমভূমির সৃষ্টি করে। [b] কোনাে উচ্চ ভূমিভাগ ভূ-আন্দোলনের ফলে নীচে বসে গিয়ে অবনত সমভূমির সৃষ্টি করে।

[৪] বৈশিষ্ট্য : [a] ভূ-আন্দোলনের ফলে এই ধরনের সমভূমির সৃষ্টি হয়। [b] সমুদ্র উপকূল অঞ্চলে এই ধরনের সমভূমি বেশি দেখা যায়। [c] আকস্মিকভাবে এই সমভূমি সৃষ্টি হয়।

[৫] উদাহরণ: আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রের মেক্সিকো উপসাগরের তীরবর্তী উপসাগরীয় সমভূমি এবং তুরানের নিম্নভূমি যথাক্রমে উন্নত ও অবনত সমভূমির দুটি নিদর্শন।

ক্ষয়জাত সমভূমি

[১] সংজ্ঞা : প্রাকৃতিক ক্ষয়কারী শক্তি দ্বারা (যেমন—নদী, বায়ুপ্রবাহ) প্রাচীন কোনাে উচ্চভূমি সুদীর্ঘকাল ধরে ক্ষয় পেয়ে সমভূমির আকার ধারণ করলে, তাকে ক্ষয়জাত সমভূমি বলে।

[২] উৎপত্তি: মালভূমি বা কোনাে উচ্চভূমি কোমল ও কঠিন শিলা দিয়ে গঠিত হয়। প্রাকৃতিক ক্ষয়কারী শক্তিগুলি দীর্ঘদিন ধরে ক্ষয়কার্য চালিয়ে উচ্চভূমির উচ্চতা হ্রাস ঘটায় এবং মৃদু ঢাল যুক্ত, ভূবৈচিত্র্যহীন সমভূমিতে পরিণত করে ।

[৩] বৈশিষ্ট্য : [a] উচ্চভূমি ক্ষয়ের ফলে এই ধরনের সমভূমি সৃষ্টি হয়। [b] সমভূমির মাঝে, কোথাও কোথাও টিলার মতাে কঠিন শিলায় গঠিত অংশ (মোনাডনক) দেখা যায়। [c] ক্ষয়জাত সমভূমি উর্বর হয় না।

[৫] উদাহরণ : ছােটোনাগপুর মালভূমির কিছু কিছু অংশ ক্ষয়জাত সমভূমির অন্তর্গত।