নবম শ্রেনীর ভূগোল আবহবিকার অধ্যায়ের সাজেশন । Class 9 Geography Suggetion

বিষয় : আবহবিকার


নবম শ্রেনীর ভূগোল আবহবিকার অধ্যায়ের সাজেশন । Class 9 Geography Suggetion

আবহবিকার অধ্যায়ের সমস্ত সাজেশন


১) আবহবিকার কাকে বলে ? 

উত্তর - আবহবিকার শব্দটি এসেছে আবহাওয়া থেকে। কোন জায়গার বায়ুর উষ্ণতা, বায়ুর চাপ, বায়ুপ্রবাহ , আর্দ্রতা, বৃষ্টিপাত প্রভৃতির দৈনিক অবস্থাকে বলে সেই অঞ্চলের আবহাওয়া ‌‌‍‍। আবহাওয়ার এইসব উপাদানের মাধ্যমে ভূপৃষ্ঠের শিলা সমূহের যে পরিবর্তন ঘটে , তাকে বলে আবহবিকার ।

২) আবহবিকার এর অপর নাম কি ? 

উত্তর - আবহবিকার এর অপর নাম হল বিচূর্ণীভবন ।

৩) আবহবিকার এর অপর নাম বিচূর্ণীভবন কেন ?

উত্তর - আবহবিকার হল আবহাওয়ার বিভিন্ন উপাদান দ্বারা শিলার বিকৃতি বা বিকার । এই প্রক্রিয়ায় শিলা চূর্ণ-বিচূর্ণ বা বিয়োজিত হয় বলে আবহবিকার এর অপর নাম বিচূর্ণীভবন ।

৪) ক্ষয়ীভবন কাকে বলে ? 

উত্তর ,- ভূপৃষ্ঠের উপর দিয়ে প্রবাহিত নদ-নদী, হিমবাহ, বায়ুপ্রবাহ ,সমুদ্র তরঙ্গ প্রভৃতির দ্বারা শিলা স্তর চূর্ণ-বিচূর্ণ হয়ে স্থানান্তরিত হলে তাকে ক্ষয়ীভবন বলে ।

৫) পুঞ্জিত ক্ষয় কাকে বলে ?
 
উত্তর- পৃথিবীপৃষ্ঠের কোন অংশ হঠাৎ পৃথিবীর অভিকর্ষের টানে ঘর্ষণ জনিত বাধা অতিক্রম করে ঢাল বরাবর ধীরে অথবা দ্রুতগতিতে নেমে আসলে , তাকে পুঞ্জিত ক্ষয় বলে ।

৬) নগ্নীভবন কাকে বলে ? 

উত্তর - আবহবিকার এর ফলে চূর্ণীকৃত বা বিয়োজিত শিথিল শিলাপুঞ্জ পুঞ্জিত ক্ষয় বা ক্ষয়ীভবন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে অপসারিত হলে নীচের মূল শিলা উন্মুক্ত বা নগ্ন হয়ে পড়ে । একে নগ্নীভবন প্রক্রিয়া বলে ।

৭) আবহবিকার কয় প্রকার ও কি কি ? 

উত্তর - আবহবিকার তিন প্রকার যথা - যান্ত্রিক আবহবিকার, রাসায়নিক আবহবিকার , এবং জৈব আবহবিকার ।

৮) যান্ত্রিক আবহবিকার কাকে বলে ?
 
উত্তর - উষ্ণতা, বৃষ্টিপাত , তুষার প্রভৃতি আবহাওয়ার বিভিন্ন উপাদান এর মাধ্যমে যান্ত্রিক বা স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় যখন ভূপৃষ্ঠের শিলাসমূহ চূর্ণ-বিচূর্ণ হয়, তাকে বলে যান্ত্রিক আবহবিকার ।

৯ ) গ্রানাইট শিলা গঠিত অঞ্চলে কোন আবহবিকার বেশি দেখা যায় ? 

উত্তর - যান্ত্রিক আবহবিকার ।

১০) কী ধরনের জলবায়ু তে যান্ত্রিক আবহবিকার বেশি দেখা যায় ? 

উত্তর - উষ্ণ মরু জলবায়ু ,শীতপ্রধান জলবায়ু ,এবং শুষ্ক নাতিশীতোষ্ণ জলবায়ু তে যান্ত্রিক আবহবিকার বেশি দেখা যায় ।

১১) মরু অঞ্চলে যান্ত্রিক আবহবিকার এর প্রাধান্যের কারণগুলি কী কী ? 

উত্তর - মরু অঞ্চলের দৈনিক ও বার্ষিক উষ্ণতার প্রসর সর্বাধিক । যান্ত্রিক আবহবিকার এর ফলে শিলা খণ্ডিত হলে নীচের শিলাস্তরের উপর চাপ হ্রাস পায় । তাই উষ্ণতার তারতম্য ও চাপ হ্রাসের ফলে যান্ত্রিক আবহবিকার এর প্রাধান্য পৃথিবীর মরু অঞ্চলে সর্বাধিক দেখা যায়।

১২) গ্রানাইট শিলা গঠিত অঞ্চলে ভূমিরূপ গোলাকৃতি হয় কেন ? 

উত্তর - গ্রানাইট শিলা গঠিত অঞ্চলে যে গোল আকৃতির ভূমিরূপ সৃষ্টি হয় তার জন্য দায়ী হলো শল্কমোচন প্রক্রিয়া ।

১৩) ট্যালাস কাকে বলে? 

উত্তর - শীতল জলবায়ু অঞ্চলে শিলার ফাটলের মধ্যে জমা জল ঠান্ডা হয়ে জমে গিয়ে বরফে পরিণত হয় । আবার অধিক উষ্ণতায় গলে যায় । জল জমে বরফে পরিণত হলে আয়তন প্রায় 10 শতাংশ বৃদ্ধি পায় । এই কারণে ওই জমে যাওয়া বরফ ফাটলের গায়ে প্রবল চাপ দেয় এবং শিলার ফাটল আরো বৃদ্ধি পায় । দিন ও রাতের উষ্ণতার তারতম্যের জন্য জল ও বরফের চাপের হ্রাস বৃদ্ধির জন্য শিলায় পীড়নের সৃষ্টি হয় । ফলে শিলা সমূহ ভেঙে টুকরো টুকরো হয়ে তীক্ষ্ণ শিলাখণ্ডে পরিণত হয় । একে ট্যালাস বলে।

১৪) রাসায়নিক আবহবিকার কাকে বলে ? 

উত্তর - যখন জলীয়বাষ্প বা জলের মাধ্যমে শিলা সমূহের খনিজ পদার্থ দ্রবীভূত, বিচ্ছিন্ন ও পরিবর্তিত হয়ে যায় , তখন তাকে রাসায়নিক আবহবিকার বলে ।

১৫ ) রাসায়নিক আবহবিকার কয় প্রকার ও কী কী ? 

উত্তর - রাসায়নিক আবহবিকার চার প্রকার যথা - জারণ বা অক্সিডেশন , কার্বনেশন বা অঙ্গারযোজন , জলযোজন বা হাইড্রেশন এবং আর্দ্র বিশ্লেষণ বা হাইড্রোলাইসিস ।

১৬ ) উষ্ণ - আর্দ্র জলবায়ু অঞ্চলে কোন আবহবিকার বেশি দেখা যায় ?
 
উত্তর - উষ্ণ- আর্দ্র জলবায়ু অঞ্চলে রাসায়নিক আবহবিকার বেশি দেখা যায় ।

১৭ ) জৈব আবহবিকার কাকে বলে ? 

উত্তর- প্রাণী ও উদ্ভিদ অর্থাৎ জীবের সাহায্যে যখন শিলা যান্ত্রিক ও রাসায়নিক পদ্ধতিতে চূর্ণ-বিচূর্ণ ও বিয়োজিত হয় , তখন তাকে জৈব আবহবিকার বলে ।

১৮) জৈব আবহবিকার কয় প্রকার ও কী কী ? 

উত্তর - জৈব আবহবিকার দুই প্রকার যথা - জৈব - যান্ত্রিক আবহবিকার এবং জৈব - রাসায়নিক আবহবিকার ।

১৯) রেগোলিথ কী ? 

উত্তর- আবহবিকারের ফলে শিলা চূর্ণ-বিচূর্ণ হয়ে মূল শিলার উপর এক ধরনের শিথিল ভূ - আস্তরণের সৃষ্টি হয় । একে রেগোলিথ বলে ।

২০) এলুভিয়েশন ও ইলুভিয়েশন কাকে বলে ?

উত্তর- আবহবিকার প্রাপ্ত শিলা খন্ড বা রেগোলিথ এর উপর উদ্ভিদ বা প্রাণীর দেহ সঞ্চিত হওয়ার পর সেগুলি হিউমাসে পরিণত হয় , অর্থাৎ হিউমিফিকেশন ঘটে। এরপর হিউমাস বিয়োজিত হয়ে খনিজ সৃষ্টি হয় অর্থাৎ খনিজ করণ ঘটে । এই খনিজ ও হিউমাস বৃষ্টির জল দ্বারা মৃত্তিকার তলদেশে প্রবেশ করার নাম এলুভিয়েশন । আবার তলদেশে খনিজ পদার্থ সঞ্চয় এর নাম ইলুভিয়েশন ।

২১) ব্লক স্পেড কী ? 

উত্তর - নিম্ন অক্ষাংশের উচ্চ পার্বত্য অঞ্চলে এবং উচ্চ অক্ষাংশের উচ্চভূমির পাদদেশে ত্রিকোণাকার শিলাখণ্ড গঠিত ভূভাগ দেখা যায় তুষারের কার্যের ফলে শিলাগাত্র ফেটে সৃষ্টি হওয়া ( ট্যালাস) এই ভূভাগ ব্লক স্পেড অথবা ফেলসেনমার প্রভৃতি নামে পরিচিত ।

২২) টেরারোসা কী ? 

উত্তর - চুনাপাথর যুক্ত অঞ্চলে রাসায়নিক আবহবিকার এর ফলে লৌহকণা সমৃদ্ধ ভূ - আস্তরণের সৃষ্টি হয় । একে টেরারোসা বলে ।

২৩) কৈশিক প্রক্রিয়া বলতে কী বোঝ ? 

উত্তর - মৃত্তিকার নীচের স্তর থেকে অভিকর্ষের বিপরীতে জল ও খনিজ পদার্থের মৃত্তিকার ফাঁক দিয়ে ওপরে ওঠার প্রক্রিয়াকে বলে কৈশিক প্রক্রিয়া ।

২৪ ) শল্কমোচন আবহবিকার কাকে বলে ? 

উত্তর- দিনের বেলা সূর্যের প্রচণ্ড তাপে শিলার বাইরের অংশ উত্তপ্ত ও প্রসারিত হয় আবার রাত্রিবেলা তাপ বিকিরণ করে শিলা সংকুচিত হয় । শিলা তাপের কুপরিবাহী হাওয়ায় শিলাপৃষ্ঠৈর তুলনায় এর ভিতরের অংশ তেমন প্রসারিত ও সংকুচিত হতে পারে না । ফলে শিলার ভিতর ও বাইরের মধ্যে একটি তাপীয় ঢালের সৃষ্টি হয় । দীর্ঘদিন ধরে ক্রমাগত সংকোচন ও প্রসারণ এর ফলে শিলার বাইরের অংশ স্তরে স্তরে পেঁয়াজের খোসার মতো আলগা হয়ে শিলা থেকে খুলে পড়ে । একেই শল্কমোচন বলে ।

২৫) শল্কমোচন কোন শিলায় বেশি দেখা যায় ?
 
উত্তর - শল্কমোচন গ্রানাইট জাতীয় শিলায় বেশি দেখা যায় ।

২৬) ক্ষুদ্র কণা বিশরণ কাকে বলে ? 

উত্তর- উষ্ণ মরু অঞ্চলে বিসমসত্ব শিলার খনিজ গুলির তাপ গ্রহণ ও প্রসারণ ক্ষমতা এবং তাপ বিকিরণ ও সংকোচন ক্ষমতা এক হয় না । দিনের বেলা অধিক সৌরতাপে শিলা মধ্যস্থিত খনিজ অসম ভাবে প্রসারিত এবং রাত্রিবেলা অসমভাবে সংকোচিত হয় । এই কারণে শিলার মধ্যে ক্রমাগত পীড়নের মাত্রা বাড়তে থাকে এবং এক সময় প্রচণ্ড শব্দ করে শিলা ফেটে যায় ও ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র কণায় পরিণত হয় । একে ক্ষুদ্রকণা বিশরণ বলে ।

২৭) চুনাপাথর গঠিত অঞ্চলে কোন প্রকারের আবহবিকারের প্রাধান্য বেশি ? 

উত্তর - চুনাপাথর গঠিত অঞ্চলে রাসায়নিক আবহবিকার এর প্রাধান্য বেশি ।

২৮ ) কী ধরনের আবহবিকারের ফলে শিলার বিভিন্ন উপাদানের ধর্ম পরিবর্তিত হয় ? 

উত্তর,- রাসায়নিক আবহবিকার এর ফলে শিলার বিভিন্ন উপাদানের ধর্ম পরিবর্তিত হয় ।

২৯) পৃথিবীর কোন অঞ্চলে রাসায়নিক আবহবিকার বেশি দেখা যায় ?

উত্তর- উষ্ণ - আর্দ্র ক্রান্তীয় জলবায়ু অঞ্চলে রাসায়নিক আবহবিকার বেশি দেখা যায় ।

৩০) কার্বনেশন কাকে বলে ? 

উত্তর - বায়ুমণ্ডলের কার্বন ডাই অক্সাইড ও জলের সমন্বয়ে সৃষ্ট কার্বনিক অ্যাসিড শিলা খনিজের সাথে রাসায়নিক বিক্রিয়ার মাধ্যমে শিলায় আবহবিকার ঘটায় । একে কার্বনেশন বলে ।

৩১) চুনাপাথর কোন রাসায়নিক আবহবিকারে বিয়োজিত হয় ? 

উত্তর - কার্বনেশন প্রক্রিয়ায় ।

৩২) অক্সিডেশন কি ? 

উত্তর- যেসব রাসায়নিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে শিলা বিয়োজিত হয় তার মধ্যে অক্সিডেশন অন্যতম । শিলার খনিজ পদার্থের সঙ্গে যখন অক্সিজেনের রাসায়নিক সংযোগ ঘটে এবং তার ফলে শিলার যে আবহবিকার হয় , তাকেই বলে অক্সিডেশন ।

৩৩) হাইড্রেশন কাকে বলে ? 

উত্তর- শিলায় উপস্থিত খনিজ পদার্থ এর সঙ্গে জল যুক্ত হয়ে রাসায়নিক আবহবিকার ঘটলে তাকে হাইড্রেশন বলে ।

৩৪) আর্দ্র বিশ্লেষণ বলতে কী বোঝো ? 

উত্তর- শিলা মধ্যস্থ খনিজ জলের সঙ্গে যুক্ত হয়ে খনিজ অণুতে একই সঙ্গে বিয়োজন ও রাসায়নিক বিক্রিয়ার মাধ্যমে নতুন যৌগতে পরিণত হয় । এই পদ্ধতিকে আর্দ্র বিশ্লেষণ বলে ।

৩৫) বৃষ্টিবহুল ক্রান্তীয় অঞ্চলে কোন আবহবিকার এর প্রাধান্য দেখা যায় ? 

উত্তর-
বৃষ্টিবহুল ক্রান্তীয় অঞ্চলে রাসায়নিক আবহবিকার এর প্রাধান্য দেখা যায় ।

৩৬) সম প্রকৃতির শিলায় কোন আবহবিকার বেশি দেখা যায় ? 

উত্তর- যান্ত্রিক আবহবিকার ।

৩৭) মরু অঞ্চলে কোন আবহবিকার বেশি দেখা যায় ? 

উত্তর- মরু অঞ্চলে যান্ত্রিক আবহবিকার বেশি দেখা যায় ।

৩৮) উষ্ণতার তারতম্যের জন্য যখন শিলা চূর্ণ-বিচূর্ণ হয় তখন তাকে কি বলে ?

উত্তর- বিচূর্ণীভবন বলে ।

৩৯) লোহার সঙ্গে অক্সিজেন যুক্ত হয়ে যে রাসায়নিক আবহবিকার হয় তাকে কি বলে ?
 
উত্তর- অক্সিডেশন বা জারণ বলে ।

৪০) কলিকরণ কাকে বলে ? 

উত্তর- উপকূল বরাবর পর্যায়ক্রমে জোয়ার ভাটার প্রভাবে শিলা আর্দ্র ও শুষ্ক হয় এবং ফেটে যায় । একেই কলিকরণ বলে ।

৪১) কলয়েড প্লাকিং কাকে বলে ? 

উত্তর- শিলাস্তরের উপর আর্দ্র মৃত্তিকা কণা সঞ্চিত হলে তা যখন শুকিয়ে যায় মূল এবং শিলা থেকে ক্ষুদ্র কণা উৎপাটন করে তখন তাকে কলয়েড প্লাকিং বলে ।

৪২) মরুভূমিতে বন্দুকের গুলি ছোঁড়ার আওয়াজ হয় কেন ?

উত্তর- মরুভূমি অঞ্চলে দিনে প্রচণ্ড তাপ এবং রাতে দিনের তুলনায় অনেক বেশি শীতলতা বিরাজ করে । তাই বিভিন্ন খনিজের তাপ গ্রহণ ও বিকিরণ এর মধ্যে তারতম্য সর্বাধিক হয় । এতে শিলার মধ্যে সর্বাধিক পীড়ন দেখা যায় এবং পীড়ন এর নির্দিষ্ট মাত্রা অতিক্রম করলে শিলাটি বন্দুকের গুলি ছোঁড়ার মতো আওয়াজ করে ফাটে ।