দশম শ্রেণীর বাংলা বহুরূপী অধ্যায়ের কিছু গুরত্ব পূর্ণ প্রশ্ন ও উত্তর । Class 10 Bengali poem Bohurupi Question Answer

আজকে আমরা দশম শ্রেণীর সুবোধ ঘোষের লেখা বহুরূপী অধ্যায় থেকে কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন উত্তর নিয়ে আলোচনা করব। মাধ্যমিক বাংলা পরীক্ষার প্রশ্ন গুলো খুবই গুরুত্বপূর্ণ


দশম শ্রেণীর বাংলা বহুরপী অধ্যায়ের কিছু গুরত্ব পূর্ণ প্রশ্ন ও উত্তর



দশম শ্রেণীর বাংলা বহুরূপী অধ্যায়ের কিছু গুরত্ব পূর্ণ প্রশ্ন ও উত্তর । Class 10 Bengali Question and Answer

1. ঠিক দুপুরবেলাতে একটা আতঙ্কের হল্লা বেজে উঠেছিল।”—আতঙ্কের হল্লাটি বর্ণনা করাে।

উত্তর - এক দুপুরবেলা বাস স্ট্যান্ডের কাছে এক পাগলকে দেখা গিয়েছিল। কটকটে লাল চোখের সেই পাগলের মুখ থেকে লালা ঝরছিল। তার কোমরে ছেড়া কম্বল আর গলায় টিনের কৌটোর মালা জড়ানাে পাগলটা থান ইট হাতে নিয়ে বাসে বসা যাত্রীদের দিকে তেড়ে যাচ্ছিল। তাকে দেখে যাত্রীরা চেঁচিয়ে উঠছিল। কেউ কেউ দু-এক পয়সা তার সামনে ফেলে দিচ্ছিল। কেউ চিনতে না পারলেও বাস ড্রাইভার বুঝতে পেরেছিল হরিদাই বহুরূপী যে পাগল সেজে সবাইকে ভয় দেখাচ্ছে।


2. "কিন্তু দোকানদার হেসে ফেলে—হরির কাণ্ড"—হরি কী কাণ্ড ঘটিয়েছিলেন?

উত্তর - বহুরুপী হরিদা বিভিন্ন বেশ ধারণ করত। একদিন সারাবেলার ব্যস্ততা যখন কমে এসেছে, সন্ধ্যার আলাে সবেমাত্র জ্বলেছে , হঠাৎই সবাই মিষ্টি রুমঝুম শব্দ শুনতে পায়। সবাই দেখে এক রূপসি বাইজি নাচতে নাচতে চলে যাচ্ছে । সবাই তার দিকে তাকিয়ে থাকে আর সে ফুলসাজি এগিয়ে দিলে দোকানিরা তাতে পয়সা ফেলে দেয়। হরিদাই বাইজি সেজে এই কাণ্ড ঘটিয়েছিল আর বাইজি যে আসলে বহুরূপী সেটা জানতে পারলে অনেক মুগ্ধ দৃষ্টিরই মোহভঙ্গ হয়।


3. দয়ালবাবুর লিচুবাগানে কী ঘটনা ঘটেছিল ?

উত্তর - দয়ালবাবুর লিচুবাগানে ফুলের চারটি ছেলে এসেছিল লিচু নেওয়ার আশায়। সেখানে হরিদা পুলিশ সেজে দাড়িয়েছিল আর সেই চারজন ছেলেকে সে ধরেছিল। সব ছেলেরা তাকে সত্যি পুলিশ বলেই মনে করেছিল এবং ভয়ে কেদে ফেলেছিল । তারপর সেই ছেলেগুলির স্কুলের মাস্টার সেখানে এসে নকল পুলিশের কাছে ক্ষমা চেয়ে তাকে আট আনা ঘুষ দিয়েছিলেন । সেই আট আনা ঘুষ পাওয়ার পর নকল পুলিশ হরীদা সেই চারজন ছেলেকে ছেড়েছিল ।


4. জগদীশবাবুর বাড়িতে যে সন্ন্যাসী এসেছিলেন তার বর্ণনা দাও।

উত্তর - জগদীশবাবুর বাড়িতে সাত দিন ধরে এক সন্ন্যাসী ছিলেন খুবই । উচুদরের এই সন্ন্যাসী থাকতেন হিমালয়ের গুহাতে । তিনি সারা বছরে শুধুমাত্র একটি হরীতকী খেয়ে থাকতেন। এছাড়া তিনি আর কিছুই খেতেন না। অনেকেই মনে করত, সন্ন্যাসীর বয়স ছিল হাজার বছরেরও বেশি। তার পায়ের ধুলাে ছিল অত্যন্ত দুর্লভ জিনিস; সবাই সন্ন্যাসীর এই পায়ের ধুলাে পেত না। একমাত্র জগদীশবাবুই সন্ন্যাসীর পায়ের ধুলাে পেয়েছিলেন।

5. “সেতাে ভয়ানক দুর্লভ জিনিস।"-দুর্লভ জিনিসটা কী? কে, কীভাবে তা লাভ করেছিল ?

উত্তর - দুর্লভ জিনিসটি হল সন্ন্যাসীর পায়ের ধুলো।

জগদীশবাবুর বাড়িতে এক সন্ন্যাসী এসে সাত দিন ছিলেন। সেই। সন্ন্যাসীর পায়ের ধুলাে ছিল অত্যন্ত দুর্লভ। জগদীশবাবু যে-কোনাে। মূল্যে সন্ন্যাসীর পায়ের ধুলাে নিতে চেয়েছিলেন। তাই জগদীশবাবু একজোড়া কাঠের খড়মে সােনার বােল লাগিয়ে সন্ন্যাসীর পায়ের কাছে ধরেছিলেন। তখন বাধ্য হয়ে সন্ন্যাসী তার পা এগিয়ে দিয়েছিলেন আর সেই ফাঁকে জগদীশবাবু সন্ন্যাসীর পায়ের ধুলাে নিয়েছিলেন।


6. “হরিদার জীবনে সত্যিই একটা নাটকীয় বৈচিত্র্য আছে।” হরিদার জীবনের নাটকীয় বৈচিত্র্যটি কী ছিল?

উত্তর - গরিব হরিদা নিজের ছােট্ট ঘরে দিন কাটাত । কোনােদিন খাবার জুটত, কোনােদিন জুটত না। কিন্তু এই রােজকার একঘেঁয়ে জীবনে হরিদার একটা নাটকীয় বৈচিত্র্য ছিল। হরিদা মাঝে মাঝে বহুরূপী সেজে রােজগার করত। কোনাে কোনাে দিন সকালে অথবা সন্ধ্যায় বিচিত্র সব ছদ্মবেশে সে রাস্তায় বেরিয়ে পড়ত। যারা চিনতে পারত তাদের মধ্যে কেউ কিছুই দিত না অথবা কেউ বিরক্ত হয়ে দু একটি পয়সা বাড়িয়ে দিত । তবু প্রতিদিন বহুরূপী বেশে রাস্তায় বেরনাতাই ছিল হরি দার জীবনের নাটকীয় বৈচিত্র্য ।

7. গল্প শুনে খুব গম্ভীর হয়ে গেলেন হরিদা গল্পটি কী - ছিল? হরিদার গম্ভীর হয়ে যওয়ার কারণ কী ছিল?

উত্তর - অবস্থাপন্ন জগদীশবাবুর বাড়িতে এসে সাতদিন ধরে ছিলেন এক সন্ন্যাসী, যিনি হিমালয়ের গুহায় থাকতেন। তার বয়স হাজার বছরের বেশি এবং সারা বছরে একটি হরিতকী ছাড়া তিনি আর কিছুই খেতেন না। জগদীশবাবু ছাড়া আর কাউকে তিনি পদধুলি দেননি। জগদীশবাবুও তা পেয়েছিলেন কৌশল করে। একজোড়া কাঠের খড়মে সােনার বােল লাগিয়ে জগদীশবাবু সন্ন্যাসীর পায়ের কাছে ধরেন আর সন্ন্যাসী বাধ্য হয়ে তাতে পা গলতে গেলে সেই সুযােগে জগদীশবাবু তার পায়ের ধুলাে নিয়ে নেন | জগদীশবাবু সন্ন্যাসীর ঝোলার ভিতরে একশাে টাকার একটি নােট জোর করে ফেলে দেন । সন্ন্যাসী হেসে সেখান থেকে চলে যান | এই গল্পই হরিদাকে শােনানাে হয়েছিল।

হরিদা সন্ন্যাসী এবং জগদীশবাবুর এই গল্প শুনে গম্ভীর হয়ে যান। কথকরা এই গান্তীর্যের কারণ বুঝতে পারেন না। এই সময়েই হরিদা তাদের জগদীশবাবুর বাড়িতে খেলা দেখাতে যাওয়ার কথা বলেন। জগদীশবাবুর কাছ থেকে সারা বছরের প্রয়ােজনীয় অর্থ হাতিয়ে। নেওয়াই ছিল তাঁর উদ্দেশ্য। জগদীশবাবুর ধর্ম বিষয়ে দুর্বলতাকে কাজে লাগিয়েই হরিদা নিজের উদ্দেশ্য সফল করতে চেয়েছিলেন।

8. "আজ তােমাদের একটা জবর খেলা দেখাব।”—কে, কাদের উদ্দেশ্যে এ কথা বলেছে? সে কোন্ জবর খেলা দেখিয়েছিল ?

উত্তর - ‘বহুরূপী গল্পের কেন্দ্রীয় চরিত্র হরিদা কথক ও তার বন্ধুদের উদ্দেশ্য করে উদ্ধৃত উক্তিটি করেছেন।

বহুরূপী সেজে অর্থোপার্জন ছিল হরিদার নেশা এবং পেশা | ধর্মভীরু জগদীশবাবুকে বােকা বানিয়ে নিজের জন্য মােটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নিতে হরিদা তাই সাদা থান পড়ে, সাদা উত্তরীয় গায়ে দিয়ে হাজির হয় তার বাড়িতে। জগদীশবাবু হরিদার নিখুঁত ছদ্মবেশের কারণে তাকে চিনতে না পেরে বিনয় ও ভক্তিতে গদগদ হয়ে যান। নিজেকে 'সৃষ্টির মধ্যে একক না ধূলি বলে উল্লেখ করে জগদীশবাবুকে নীচে নেমে আসতে বাধ্য করে কণ্ঠস্বরে গাম্ভীর্য, মুখমণ্ডলে প্রশান্তির ছবি ফুটিয়ে তুলে হরিদা নিজের সাজকে পূর্ণাঙ্গতা দান করে। বিরাগীবেশী হরিদা জানায় যে তার কোনাে রাগ নেই, সে বিষয়ীর ঘরে থাকতে চায় না এবং সে সদ্য তীর্থ্রমপে যাবে।

তীর্থযাত্রার জন্য জগদীশবাবু হরিদাকে একশাে এক টাকার থলি দিতে চাইলে সে তা স্পর্শ না করে বেরিয়ে আসে। কিন্তু হরিদা অর্থগ্রহণ না করায় লেখক ও তার বন্ধুদের সন্দেহ হয়। যদিও হরিদার বাড়ি এসে তারা বুঝতে পারেন সেই বিরাগীর বেশ ধারণ করেছিল | হরিদার এইরূপ ছদ্মবেশ ধারণ করে জগদীশবাবুকে ধোঁকা দেওয়ার কৌশলটিকে আলােচ্য প্রসঙ্গে 'জবর খেলা' বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

9. আমি যেমন অনায়াসে ধুলাে মাড়িয়ে চলে যেতে পারি, তেমনই অনায়াসে সােনাও মাড়িয়ে চলে যেতে পারি।- ছদ্মবেশ ধারণ করেও হরিদা কীভাবে এই কথার সত্যতা প্রমাণ করেছেন লেখাে।

উত্তর - বড় চমকপ্রদ এবং নাটকীয় হরিদার জীবন। বাঁধাধরা আর পাঁচটা পেশায় সে নিযুক্ত হতে চায়নি। কারণ একঘেয়ে কাজ করতে তার ভয়ানক আপত্তি। বহুরূপী সেঝে সে যা উপার্জন করত তাতে ঠিকমতাে দিনাতিপাত হত না। এই সময় সে শোনে জগদীশবাবুর বাড়িতে এক সন্ন্যাসীর আগমনের কথা | ধনী জগদীশবাবু সন্ন্যাসীকে অর্থ-সহ নানা কিছু দান করেছিলেন। সন্ন্যাসীর গল্প হরিদাকে উজ্জীবিত করে। সে সিদ্ধান্ত নেয় বিরাগী সেজে জগদীশবাবুর বাড়ি থেকে বেশ কিছু আদায় করবে, যা দিয়ে তার সারাবছর চলে যাবে। হরিদা বিরাগী সেজে জগদীশবাবুর বাড়ি উপস্থিত হয়। জগদীশবাবু তাকে দেখে অভিভূত এবং ভক্তিতে গদগদ হয়ে প্রথমে তার বাড়িতে থাকার কথা বলেন। তারপর টাকার থলি এনে হরিদার পায়ের কাছে রাখেন। কিন্তু হরিদা প্রকৃত বিরাগীর মতাে সবকিছু প্রত্যাখ্যান করে। লােভ রূপান্তরিত হয়ে যায় ত্যাগে) বিরাগীর আদর্শভূমিতে দাড়িয়ে হরিদা ঘােষণা করে যে, তার কাছে ধুলাের মতাে সােনাও তুচ্ছ। চরিত্রের সঙ্গে একাত্মতা পেশাদারিত্বকে পরাজিত করে ত্যাগের জীবনাদর্শকে তুলে ধরেছে।