নবম শ্রেণীর বাংলা নব নব সৃষ্টি অধ্যায়ের কিছু গুরত্ব পূর্ণ প্রশ্ন ও উত্তর । Class 9 Bengali Question and Answer

আজকে আমরা নবম শ্রেণীর সৈয়দ মুজতবা আলীর লেখা নব নব সৃষ্টি অধ্যায় থেকে কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন উত্তর নিয়ে আলোচনা করব। নবম শ্রেণীর বাংলা পরীক্ষার প্রশ্ন গুলো খুবই গুরুত্বপূর্ণ


নবম শ্রেণীর বাংলা নব নব সৃষ্টি অধ্যায়ের কিছু গুরত্ব পূর্ণ প্রশ্ন ও উত্তর



নবম শ্রেণীর বাংলা নব নব সৃষ্টি অধ্যায়ের কিছু গুরত্ব পূর্ণ প্রশ্ন ও উত্তর


1. এস্থলে আর একটি কথা বলে রাখা ভালো । বক্তা কোন স্থলে কী কথা বলে রাখা ভালাে বলেছেন ?

উত্তর - বক্তা মুজতবা আলী তার নব নব সৃষ্টি' প্রবন্ধাংশে হিন্দি ভাষার অন্য ভাষাকে বর্জনের প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে রবীন্দ্রনাথ, নজরুল, বিদ্যাসাগর, হরপ্রসাদ শাস্ত্রী এমনকি হিন্দি সাহিত্যের প্রেমচন্দ্র যেভাবে নিজ নিজ সাহিতাে অন্য ভাষার ব্যবহার করেছেন, সে প্রসঙ্গের রেশ টেনেছেন। তার মতে, রচনার ভাষা সর্বদা বিষয়বস্তুর উপর নির্ভরশীল। উদাহরণ হিসেবে তিনি ব বলেছেন, শংকর দর্শন, মােগলাই লেস্তোরাঁ, বসুমতীর সম্পাদকীয় ও বাঁকা চোখের ভাষা কখনােই একরকম হবে না।

2. স্কুল থেকে সংস্কৃত চর্চা উঠিয়ে না দেবার কারণ প্রসঙ্গে বক্তা কী বলেছেন?

উত্তর - সংস্কৃত ভাষা অত্যন্ত উন্নত ও সমৃদ্ধশালী। নতুন শব্দ তৈরির ব্যাপারে অসামান্য দক্ষতা আছে এই ভাষার। প্রাচীনকাল থেকে এদেশে সংস্কৃত চর্চা ছিল বলে বহু সংস্কৃত শব্দ বাংলায় ঢুকেছে, ঢুকছে এবং আগামীতে যতদিন এ ভাষা থাকবে ততদিন ঢুকবে। স্কুল-কলেজ থেকে সংস্কৃত চর্চা উঠিয়ে না দেবার কারণ বাংলায় এখনও আমাদের প্রচুর সংস্কৃত শব্দের প্রয়ােজন। সংস্কৃত ই চর্চা উঠে যাওয়ার অর্থ বাংলা তার প্রধান খাদ্য থেকে বঞ্চিত হবে।

3. ইংরেজির বেলাতেও তাই বলতে লেখক কী বুঝিয়েছেন ?


উত্তর - লেখক মুজতবা আলী তার নব নব সৃষ্টি বাংলায় এখনও সংস্কৃত শব্দের প্রয়ােজন আছে। এই অনুষঙ্গা ধরে বলতে চেয়েছেন যে দর্শন, নন্দনশাস্ত্র, পদার্থবিদ্যা, রসায়নবিদ্যা ইত্যাদি সম্বন্ধে সম্যক ধারণার ক্ষেত্রে, রেলইঞ্জিন চালনা এবং নানান টেকনিক্যাল ক্ষেত্রে কত যে শব্দের প্রয়ােজন তা ধারণাতীত। এইসব শব্দের সেই অর্থে এখন বাংলা প্রতিশব্দ পাওয়া কঠিন, তাই ইংরেজি চর্চা বন্ধের সময় আসেনি।

4. প্রাচীন যুগের সব ভাষাই তাই।'—এক্ষেত্রে লেখক 'তাই শব্দটি ব্যবহারের সাহায্যে কী বােঝাতে চেয়েছেন?


উত্তর - উদ্ধৃতাংশটি মুজতবা আলীর নব নব সৃষ্টি' রচনাংশের অংশবিশেষ। একটি ভাষাকে আমরা তখনই উন্নত, আত্মনির্ভরশীল ইত্যাদি বিশেষণে ভূষিত করি যখন দেখি তার শব্দভাণ্ডার উন্নত। এই উন্নতির যাত্রা যদি হয় উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত প্রাচীন শব্দ ও নতুন শব্দ সৃষ্টির অসামান্য ক্ষমতাবলে, তাহলে তাে কথাই নজর নেই। সংস্কৃত ভাষা এরূপ একটি সমৃদ্ধ প্রাচীন ভাষা। প্রাচীন হিব্রু, গ্রিক, আবেস্তা, আরবিও সংস্কৃতের অনুরূপ সমৃদ্ধ বােঝাতে করে লেখক তাই শব্দটি ব্যবহার করেছেন।

5. পৃথিবীতে কোনাে জিনিসই সম্পূর্ণ অসম্ভব নয়।-বক্তা কোন প্রসঙ্গে এরূপ মন্তব্য করেছেন?


উত্তর - উদ্ধৃতাংশটি মুজতবা আলীর নব নব সৃষ্টি নামক রচনাংশ থেকে গৃহীত। যে-কোনাে ভাষার শব্দভাণ্ডার অন্য ভাষা থেকে গ্রহণ করা আগন্তুক বা কৃত ঋণ শব্দ দ্বারা সমৃদ্ধ হয়। হিন্দি সাহিত্য এই তকমাটি ঝেড়ে ফেলতে চাইছে। তাই তারা হিন্দি থেকে আরবি, ফারসি ও ইংরেজি শব্দকে তাড়িয়ে দেবার। চেষ্টাটা শুরু করেছে লেখক হিন্দি সাহিত্যিকদের এই প্রচেষ্টাকে অত্যন্ত আন্তরিকতার সাথে গ্রহণ করেছেন এবং তাদের প্রতি। অনুপ্রেরণাসূচক এই উক্তিটি করেছেন।

6. ফল যদি ভালাে হয় তখন তারা না হয় চেষ্টা করে দেখবেন।কী চেষ্টা করে দেখার কথা এখানে বলা হয়েছে? এবিষয়ে বাঙালি সাহিত্যিকদের ভূমিকা কী ছিল?


উত্তর - সমালােচকদের মতে, একটা ভাষা তখনই। আত্মনির্ভরশীল হয়ে ওঠে যখন নতুন শব্দের প্রয়ােজনে বিদেশি। শব্দের মুখাপেক্ষী না থেকে নিজস্ব শব্দভাণ্ডার থেকেই শব্দ খুঁজে এনে প্রয়ােগ করে। হিন্দি উপস্থিত সেই চেষ্টাটা শুরু করেছে। হিন্দি সাহিত্যিকেরা হিন্দি থেকে আরবি, ফারসি এবং ইংরেজি শব্দ বর্জন করতে শুরু করেছে। এখানে এই প্রচেষ্টার কথাই বলা হয়েছে।


এ বিষয়ে বাঙালি সাহিত্যিকদের ধারণা ছিল বেশ স্পষ্ট। বাংলায় সংস্কৃত অন্যান্য প্রাচীন ভাষার মতাে বা শব্দ সৃষ্টির ক্ষমতা ছিল না। তাই নতুন শব্দ বা বিষয়-ভাবনার অভিনব চিন্তা-ভাবনার প্রকাশ করতে বিদেশি ভাষার প্রয়ােজন। ইংরেজিকে শিক্ষার মাধ্যমরূপে বর্জন করার ফলে বাংলায় প্রচুর ইউরােপীয় শব্দ প্রবেশ করেছে। রচনার সঙ্গে পারম্পর্য রক্ষা করলে বিদেশি ভাষা ব্যবহারে অসুবিধা নেই। রবীন্দ্রনাথ, নজরুল, বিদ্যাসাগরের মত ব্যক্তিত্বরা অনায়াসেই আরবি-ফারসির ব্যবহার বাংলায় । করে গেছেন। হরপ্রসাদ শাস্ত্রী তাে এই দুই ভাষার বিরােধীদের আহাম্মুখ’ বলেছেন। 'আলাল ও ‘হতােম’-এর ভাষার যেমন ঐতিহাসিক প্রাসঙ্গিকতা আছে ঠিক তেমনি শংকর দর্শন, বসুমতী'র সম্পাদকীয় ভাষা কিংবা 'বাঁকা চোখের ভাষা ও ভিন্ন। ভিন্ন প্রাসঙ্গিকতা নিয়ে ব্যবহৃত হয়েছে। এককথায় রচনার ভাষা। বিষয়ানুগ হলে ভাষা সমৃদ্ধ ও ঐশ্বর্যশালী হয়।

7. বিদেশি শব্দ ব্যবহার বিষয়ে লেখক মুজতবা আলীর ভাবনার পরিচয় দাও।
অথবা, বিদেশি শব্দ নেওয়া ভালাে না মন্দ সে প্রশ্ন অবান্তর।'—কে এমন মনে করেন? তার এমন মনে হওয়ার কারণ কী লেখাে।


উত্তর - লেখক সৈয়দ মুজতবা আলী তাঁর 'নব নব সৃষ্টি রচনাংশে বর্তমানে বিদেশি শব্দ নেওয়া ভালাে না মন্দ সে বিষয়ে প্রশ্ন অবান্তর বলে মনে করেন।


লেখকের মতে, দৈনন্দিন জীবনে আলু-কপি কিংবা বিলিতি ওষুধের মতােই আমাদের ভাষাতেও বিদেশি শব্দ থেকে যাবে এবং ভবিষ্যতে তা আমদানি করাও বন্ধ করা যাবে না। কেউ কেউ জোর করে বিদেশি শব্দ বর্জনের চেষ্টা করলেও মুজতবা আলী জানিয়েছেন, বিখ্যাত লেখকেরা অনেকেই সাদরে বিদেশি শব্দ গ্রহণ করেছেন। যেমন রবীন্দ্রনাথ স্বচ্ছন্দে লিখেছেন আবু দিয়ে, ইজ্জৎ দিয়ে, ইমান দিয়ে'... ইত্যাদি। এখানে 'আব্রু, ইজজৎ', ইমান’ আরবি শব্দ। আবার নজরুল ইসলামই বাংলায় আরবি শব্দ ইনকিলাব ঢুকিয়ে গিয়েছেন। বিদ্যাসাগর সাধু গদ্যে বিদেশি শব্দ ব্যবহার না করলেও, অসাধু রচনায় আরবি, ফারসি প্রচুর ব্যবহার করেছেন। নিষ্ঠাবান পণ্ডিত হলেও হরপ্রসাদ শাস্ত্রী বিদেশি শব্দ বিশেষত আরবি-ফারসির বিরুদ্ধে জিহাদ ঘােষণা। করাকে বােকামি মনে করতেন। এমনকি হিন্দি সাহিত্যে প্রেমচন্দ্রও বিস্তর আরবি-ফারসি ভাষা ব্যবহার করেছেন। এইসব দৃষ্টান্ত দিয়ে প্রাবন্ধিক বুঝিয়ে দিয়েছেন বিদেশি শব্দের ব্যবহার নিয়ে বর্তমানে প্রশ্ন তােলাই অবান্তর।

8. ভারতীয় ভাষায় কোন ভাষার প্রভাব সবচেয়ে বেশি এবং কেন? এই প্রসঙ্গে নব সৃষ্ট সিন্ধি, উর্দু ও কাশ্মীরি সাহিত্য সম্পর্কে প্রাবন্ধিকের মতামত কী ছিল লেখাে।


উত্তর - ভারতীয় ভাষাগুলিকে সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত করেছিল ফারসি ভাষা ও সাহিত্য। এ কথা আশ্চর্য হলেও সত্যি ভারতের মক্তব-মাদ্রাসায় যদিও প্রচুর পরিমাণে আরবি ভাষা পড়ানাে হয়েছিল, কিন্তু কার্যক্ষেত্রে দেখা গেল ভারতীয় আর্যরা ফারসি ভাষার সৌন্দর্যেই বেশি অভিভূত হয়েছিলেন। তাই উর্দু কিংবা হিন্দি সাহিত্যে আরবির চেয়ে ফারসি ভাষার বহুল প্রভাব পরিলক্ষিত হয়।


একসময় ইরানে নবীন ফারসি ভাষার জন্ম হয়েছিল আর্য-ইরানি ভাষা এবং সেমিতি-ইরানি ভাষার সংঘর্ষের ফলে। লেখকের মতে সিন্ধি, উর্দু ও কাশ্মীরি সাহিত্যও এই একই সংঘর্ষের ফল। কিন্তু আরবির এই সংঘর্ষ ফারসির মাধ্যমে ঘটায় কিংবা অন্য কোনাে ভাষাগত কারণে সিন্ধি, উর্দু ও কাশ্মীরিতে নতুন নতুন ঐশ্বর্যশালী সাহিত্যের সৃষ্টি হল না। বিখ্যাত উর্দু কবি ইকবাল এই সত্য উপলব্ধি করেছিলেন বলেই ফারসির অনুকরণ বর্জন করে উর্দুতে মৌলিকভাবে নতুন কিছু সৃষ্টির চেষ্টা করেছিলেন।