মডেল অ্যাক্টিভিটি টাস্ক সপ্তম শ্রেণীর ভূগোল পার্ট 1 । Class 7 Geography Model Activity task Part-1

আজকে আমরা আলোচনা করব সপ্তম শ্রেণীর ভূগোল মডেল অ্যাক্টিভিটি টাস্ক এর প্রশ্ন এবং উত্তর নিয়ে ।


মডেল অ্যাক্টিভিটি টাস্ক সপ্তম শ্রেণীর ভূগোল পার্ট 1 । Class 7 Geography Model Activity task Part-1


মডেল অ্যাক্টিভিটি টাস্ক ভূগোল পার্ট 1


১. চিত্রের সাহায্যে ঋতু পরিবর্তন কীভাবে সংঘটিত হয় তা সংক্ষেপে ব্যাখ্যা করো।

উত্তর - যখন উত্তর গোলার্ধ সূর্যের দিকে ক্রমশ ঝুঁকতে থাকে (অর্থাৎ সূর্য উত্তর গোলার্ধে লম্বভাবে কিরণ দিতে থাকে) তখন উত্তর গোলার্ধে দিনের দৈর্ঘ্য ক্রমশ বৃদ্ধি পেতে থাকে এবং রাতের দৈর্ঘ্য ক্রমশ হ্রাস পেতে থাকে। দিনের দৈর্ঘ্য বেশি হওয়ায় যে পরিমাণ সূর্য রশ্মি দিনের বেলায় পৃথিবীতে আসে রাত ছোট হওয়ায় সেই পরিমাণ সূর্যরশ্মি মহাশূন্যে বিকিরিত হয়ে ফিরে যেতে পারে না। ফলে তাপমাত্রা বৃদ্ধি পেতে থাকে। দিনের দৈর্ঘ্য বৃদ্ধি পেতে 21 জুন তারিখে উত্তর গোলার্ধ সূর্যের সবচেয়ে কাছে থাকে। উত্তর গোলার্ধে এই সময় গ্রীষ্মকাল হয়।

দক্ষিণ গোলার্ধে এই সময় ঠিক বিপরীত অবস্থা হওয়ায় সেখানে শীতকাল হয়।

21 শে জুনের পর থেকে সূর্য ক্রমশ দক্ষিণ দিকে সরে উদিত হয়। ফলে উত্তর গোলার্ধে দিনের দৈর্ঘ্য ধীরে ধীরে কমতে থাকে (দক্ষিণ গোলার্ধে বাড়তে থাকে) এবং রাতের দৈর্ঘ্য ক্রমশ বৃদ্ধি পেতে থাকে (দক্ষিণ গোলার্ধে কমতে থাকে)। এরকমভাবে সূর্য দক্ষিণ দিকে সরে উদিত হতে হতে 23 সেপ্টেম্বর তারিখ সূর্য নিরক্ষরেখার উপর লম্বভাবে কিরণ দেয় এই সময় সারা পৃথিবীতে দিন ও রাতের দৈর্ঘ্যে সমান হয়। এই সময় উত্তর গোলার্ধে শরৎকাল এবং দক্ষিণ গোলার্ধে বসন্তকাল হয়।

23 শে সেপ্টেম্বর এর পর থেকে সূর্য দক্ষিণ গোলার্ধে বেশি ঝুঁকতে থাকে এবং উত্তর গোলার্ধে ক্রমশ দূরে সরতে থাকে। উত্তর গোলার্ধে ক্রমশ দিন ছোট হতে থাকে (দক্ষিণ গোলার্ধে বড় হয়) এবং রাত বড় হতে থাকে (দক্ষিণ গোলার্ধে ছোট হয়)। দিন ছোট হওয়ায় সারাদিনে যে পরিমাণ সূর্য রশ্মি আগত হয় রাত বড় হওয়ায় তার থেকে বেশি পরিমাণ সোর শক্তি বিকিরিত হয়ে মহাশূন্যে ফিরে যায়। ফলে তাপমাত্রা কমতে থাকে। 22 শে ডিসেম্বর তারিখে রাত সবচেয়ে বড় হয় (দক্ষিণ গোলার্ধে সবচেয়ে ছোট)। এই সময় উত্তর গোলার্ধে শীতকাল এবং দক্ষিণ গোলার্ধে গ্রীষ্মকাল হয়।

22 ডিসেম্বরের পর থেকে সূর্য ধীরে ধীবে উত্তর দিকে সরে উদিত হয় ফলে উত্তর গোলার্ধে দিনের দৈর্ঘ্য ক্রমশ বৃদ্ধি পায় এবং রাতের দৈর্ঘ্য ক্রমশ হ্রাস পায় (দক্ষিণ গোলার্ধে এর বিপরীত অবস্থা হয়)। সূর্য ক্রমশ উত্তরে সরতে সরতে 21 মার্চ তারিখ নিরক্ষরেখার উপর লম্বভাবে কিরণ দেয় এবং সমগ্র পৃথিবীর দিন-রাত্রি সমান হয়। এই সময় উত্তর গোলার্ধে বসন্তকাল এবং দক্ষিণ গোলার্ধে শরৎকাল হয়। এইভাবে সমগ্র পৃথিবীতে ঋতু পরিবর্তন সংঘটিত হয়।


২. একটি চিত্রের সাহায্যে কোনো স্থানের অক্ষাংশ কীভাবে নির্ণয় করা হয়, তা ব্যাখ্যা করো ।

উত্তর - মনে কর A হল সেই স্থান যার অক্ষাংশ নির্ণয় করতে হবে। O হল পৃথিবীর কেন্দ্রবিন্দু। এখন A স্থানটি থেকে পৃথিবীর কেন্দ্র O বিন্দু পর্যন্ত একটি ব্যাসার্ধ টানতে হবে। অন্যদিকে, স্থানটি যে দ্রাঘিমারেখায় রয়েছে সেই দ্রাঘিমারেখা ও নিরক্ষরেখা ছেদবিন্দু B থেকে পৃথিবীর কেন্দ্র পর্যন্ত আরেকটি ব্যাসার্ধ BO টানতে হবে। এই AO এবং BO ব্যাসার্ধ পৃথিবীর কেন্দ্রে একটি 80 ডিগ্রী কোন AOB তৈরি করে। সেই কোনই ওই স্থানের অক্ষাংশ। এই পদ্ধতিতে পৃথিবী পৃষ্ঠের উপর যে কোন স্থানের অক্ষাংশ নির্ণয় করা হয়।

৩. বায়ুর উচ্চচাপ ও নিম্নচাপের মধ্যে পার্থক্য নিরূপণ করো।

উত্তর -
বায়ুর উচ্চচাপবায়ুর নিম্নচাপ
যে সকল অঞ্চলে বায়ুর উষ্ণতা কম সেখানে বায়ুর উচ্চচাপ দেখা যায় । যেমন - মেরু অঞ্চল যেসকল অঞ্চলে বায়ুর উষ্ণতা বেশি সেখানে বায়ুর নিম্নচাপ দেখা যায় ।যেমন - নিরক্ষীয় অঞ্চলে
উচ্চচাপের বায়ু সংকুচিত অবস্থায় থাকেনিম্নচাপের বায়ু প্রসারিত অবস্থায় থাকে
বায়ু উপর থেকে নিচে নামলে উচ্চচাপ সৃষ্টি হয় বায়ু নিচ থেকে উপরে উঠলে নিম্নচাপ সৃষ্টি হয়
উচ্চচাপের বাতাসে জলীয় বাষ্পের পরিমাণ কম থাকায় মেঘ,বৃষ্টি হয় না । ফলে আকাশ পরিষ্কার থাকবে । নিম্নচাপের বাতাসে জলীয়বাষ্পের পরিমাণ বেশি থাকায় মেঘ বৃষ্টি সংঘটিত হয় এবং অশান্ত আবহাওয়া বিরাজ করে ।


৪. এশিয়ার উষ্ণমরু ও ভূমধ্যসাগরীয় জলবায়ুর বৈশিষ্ট্যগুলি উল্লেখ করো।

উত্তর - এশিয়া মহাদেশ বিভিন্ন প্রকার জলবায়ু দেখা যায়। এখানে উষ্ণ মরু জলবায়ু এবং ভূমধ্যসাগরীয় জলবায়ু এর বৈশিষ্ট্য আলোচনা করা হলো।

A. উষ্ণমরু জলবায়ু -
আরবের মরুভূমি, ভারত ও পাকিস্তানের থর মরুভূমি, ইরাক-ইরান, কুয়েত প্রভৃতি দেশে উষ্ণ মরু প্রকৃতির জলবায়ু লক্ষ্য করা যায়। নিম্নে এই জলবায়ুর বৈশিষ্ট্যগুলি আলোচনা করা হলো।

গ্রীষ্মকালে এই অঞ্চলের উষ্ণতা থাকে 30 থেকে 35 ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং শীতকালে থাকে 15 থেকে 25 ডিগ্রি সেলসিয়াস।

এখানে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ 10 থেকে 25 সেন্টিমিটার।

এশিয়া মহাদেশের উষ্ণতম স্থান পাকিস্তানের জেকোবাবাদ।

B. ভূমধ্যসাগরীয় জলবায়ু -
ভূমধ্যসাগরের তীরবর্তী অঞ্চলে অবস্থিত সিরিয়া, লেবানন, তুরস্ক, ইজরায়েল, প্রভৃতি দেশে ভূমধ্যসাগরীয় জলবায়ু দেখা যায়। এই জলবায়ুর বৈশিষ্ট্য গুলি হল -
*এখানে গ্রীষ্মকালে উষ্ণতা থাকে 30 থেকে 35 ডিগ্রি সেলসিয়াস।
*শীতকালে উষ্ণতা থাকে 5 থেকে 10 ডিগ্রী সেলসিয়াস।
*বছরে মোট বৃষ্টিপাত হয় 30 থেকে 50 সেন্টিমিটার।
* পশ্চিমা বায়ুর প্রভাবে এখানে শীতকালে বৃষ্টিপাত হয়।