মডেল অ্যাক্টিভিটি টাস্ক দ্বাদশ শ্রেণীর বাংলা পার্ট 2 । Class 12 Bengali Model Activity Task Part-2 । ভোর’ শব্দটি ‘শিকার’ কবিতায় কোন্ কোন্.....

আজকে আমরা আলোচনা করব দ্বাদশ শ্রেণীর বাংলা মডেল অ্যাক্টিভিটি টাস্ক পার্ট 2 এর সমস্ত প্রশ্ন ও উত্তর নিয়ে ।


দ্বাদশ শ্রেণীর বাংলা মডেল অ্যাক্টিভিটি টাস্ক পার্ট 2


মডেল অ্যাক্টিভিটি টাস্ক দ্বাদশ শ্রেণীর বাংলা পার্ট 2


নীচের প্রশ্নগুলির উত্তর নিজের ভাষায় লেখো :

1. ‘আসল বাদাটার খোঁজ করা হয় না আর উচ্ছবের।'—উচ্ছব কে? সে কোন্ বাদার খোঁজ করতে চেয়েছিল? কেন তার পক্ষে সেই বাদাটির খোঁজ করা হয়ে উঠল না?

উত্তর - উচ্ছব কোনো অভিজাত চরিত্র নয়। বাদা অঞ্চলের এক অতি দরিদ্র মানুষ। তাই তার নাম উৎসব হওয়া সত্ত্বেও সে পরিচিত হয়েছে উচ্ছব নামে। এই চরিত্রের বৈশিষ্ট্যগুলি হল -

দক্ষিণ চব্বিশ পরগনার মাতলা নদীর তীরবর্তী বিস্তীর্ণ জলাভূমি বাদা নামে পরিচিত। এই এলাকা অত্যন্ত উর্বর, প্রচুর ফসল ফলে এখানে। যদিও গল্পে মাতলা নদীর এবং বাদার কথা আছে তবু আসল বাদা বলতে মহাশ্বেতা দেবী কোনো প্রতীকী অঞ্চলকে বুঝিয়েছেন। যেখানে যারা ফসল ফলায় তারা সে ফসলের সামান্যতম অংশও ভোগ করতে পারে না। উচ্ছব নাইয়া ভাতের আশায় শহরে কাজ করতে এসে সেই আসল বাদার আভাস পেয়েছে। সে বুঝেছে যার দখলে এই বাদা তার কাজ না-করলেও এগারোটা পর্যন্ত ঘুমোলেও চলে তার ঘরে পাঁচ রকমের চালের ভাত হয় নানান উপকরণ দিয়ে খাবার জন্য। সে ঘরে চিকিৎসকের শেষ কথা বলে যাওয়া সত্ত্বেও ক্যানসার আক্রান্ত মৃত্যুপথযাত্রীকে দু-দণ্ড বাঁচিয়ে রাখার জন্য আড়াই মন কাঠ দিয়ে হোমযজ্ঞ হয়। হোমযজ্ঞ সম্পূর্ণ হওয়ার আগে সে পরলোকে চলে গেলে সে বাড়ির রান্না করা ভাত ফেলে দেওয়া হয় অশৌচের কারণে। সেই ভাত ফেলে দেওয়ার নামে ডেকচিসহ নিয়ে গিয়ে আশা মিটিয়ে খেয়েছে উচ্ছব। ভরা পেটে ঘুমিয়ে গেছে সেই ডেকচি ধরে। বাড়ির লোকের অভিযোগে পেতলের ডেকচি চুরির অপরাধে উচ্ছবকে ধরে পুলিশ। তাই তার আর ‘আসল বাদার’ খোঁজ করা হয় না।

2. ‘ভোর’ শব্দটি ‘শিকার’ কবিতায় কোন্ কোন্ ব্যঞ্জনায় উপস্থাপিত হয়েছে তা বিশ্লেষণ করো।

উত্তর - আধুনিক যুগের বিখ্যাত কবি জীবনানন্দের মহাপৃথিবী কাব্যগ্রন্থ থেকে সংকলিত হয়েছে শিকার , কবিতাটি । জীবনানন্দের বহু কবিতায় ভোরের কথা আছে । বিশেষ করে রূপসী বাংলা কবিতায় । এখানেও আছে ভোরের কথা । নিসর্গ প্রকৃতির এক অনিন্দ্যসুন্দর রূপ ফুটে উঠে ভোরের স্নিগ্ধ আবেশে। রাত্রি শেষের প্রথম প্রহর ভোর। বদলে যায় প্রকৃতির রূপ। অদৃশ্য থেকে তা ধীরে ধীরে হয়ে ওঠে দৃশ্যমান। সে সময় আকাশের রং হয়ে ওঠে ঘাস ফড়িঙের দেহের মতো কোমল নীল। চারদিকে পেয়ারা আর নোনা গাছের রং তখন যেন টিয়া পাখির পালকের মতো সবুজ। এই দৃশ্য কবির ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতায় আঁকা। বাংলাদেশের গ্রামে গ্রামাঞ্চলে এই রূপ দেখা যেত ভোরের আকাশে জেগে থাকা একটিমাত্র তারাকে। শীতের ভোরের চিত্র আঁকা হয়েছে এখানে। তাই আছে শীতের দাপটে জেগে থাকা মানুষের শুকনো পাতায় আগুন জ্বেলে শরীর গরম রাখার প্রয়াস। সে আগুনের রং মোরগ ফুলের মতো লাল। আগুন ধীরে ধীরে নিভে আসে সকাল হয়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে। সারারাত আত্মরক্ষার জন্য বনে বনে ঘুরে বেড়ানো হরিণও ভোরের অপেক্ষায় থাকে। মনে এক অদ্ভুত অনুভূতি জাগে তার। বেঁচে থাকার আনন্দ তা।

3. ‘বুদ্ধিটা কী করে এল তা বলি।’—বুদ্ধিটি কী? কীভাবে তা বক্তার মাথায় এসেছিল?

উত্তর - ‘বিভাব’ নাটকের শুরুতেই প্রস্তাবনায় নাট্যকার শম্ভু মিত্র আলোচ্য কথাগুলি বলেছেন।

বুদ্ধিটা' হল সরকারি খাজনার ভ্রুকুটি এড়িয়ে কম খরচে, কম আয়োজনে কীভাবে একটি নাটক দর্শকদের সামনে উপস্থিত করা যায়, তারই কৌশল। কারণ, প্রসঙ্গত নাট্যকার জানাচ্ছেন তাঁদের নাটক করার মতো ভালো স্টেজ, সিনসিনারি, আলো, ঝালর কিছুই নেই। শুধু আছে নাটক করার অদম্য ইচ্ছা। তার ওপর কোনোরকমে মঞ্চস্থ করলেও সরকারি পেয়াদাদের খাজনা দিতে হবে। এই ঝামেলা এড়িয়ে নাটক মঞ্চস্থ করার বুদ্ধিটা কীভাবে ‘বহুরূপী’ নাট্যদলের প্রতিষ্ঠাতা, নাট্যাভিনেতা ও নাট্যকার শম্ভু মিত্রের মাথায় এল, তারই কথা এখানে বলা হয়েছে।
একবার নাট্যকার শম্ভু মিত্র পুরোনো বাংলা নাটকে দেখেন, সেখানে লেখা আছে, ‘রাজা রথারোহণম নাটয়তি অর্থাৎ—রাজা রথে আরোহণ করবার ভঙ্গি করলেন। তিনি বুঝতে পারেন ‘কাবুকি’ থিয়েটারের প্রথা মেনে ভঙ্গিনি"। নাটক যদি অভিনয় করা যায়, তাহলে নাটক মঞ্চস্থ । রা ঝামেলা বা অর্থনৈতিক অনটন এড়িয়ে যাওয়া সম্ভব। এই ভঙ্গিমাসর্বস্ব নাটক করার বুদ্ধির কথা নাট্যকার তাঁর মাথায় এসেছিল বলে জানান।

অথবা

নাট্যাভিনয় একটি পবিত্র শিল্প।'—এই পবিত্রতার নামাবলিটা কীভাবে রজনীকান্ত চট্টোপাধ্যায়ের সামনে ফাঁস হয়ে গিয়েছিল?

উত্তর - অজিতেশ বন্দ্যোপাধ্যায়ের লেখা ‘নানা রঙের দিন’ নাটক থেকে সংকলিত প্রশ্নোক্ত মস্তব্য অনুসারে, পবিত্রতার নামাবলি হল আপ্তবাক্যস্বরূপ উচ্চারিত ‘নাট্যাভিনয় একটি পবিত্র শিল্প’ কথাটি।

অনেকদিন আগে আলমগির চরিত্রে রজনীকান্তের অভিনয় দেখে সম্ভ্রান্ত ঘরের একটি মেয়ে তাকে ভালোবেসে ফেলে৷ তখন রজনীকান্তের বয়স কম, সামনে উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ, নিজের ওপর গভীর আস্থা রেখে তিনি মেয়েটিকে স্ত্রী হিসেবে পেতে আগ্রহী হন। মনে অনেক পরিকল্পনা করে একদিন মেয়েটিকে রজনীকান্ত বিয়ের প্রস্তাব দেন, কিন্তু মেয়েটি স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, যদি তিনি থিয়েটার ছেড়ে দেন তবেই সে বিয়ে করবে। রজনী এতে রাজি হন না ফলে এতদিনের প্রেম, ঘনিষ্ঠতা বিবাহে পরিণত হয় না। এই মানসিক আঘাতে বিপর্যস্ত রজনীকান্ত উপলব্ধি করেন, দর্শকসাধারণ অভিনয় দেখেন কেবল আনন্দলাভের জন্যে তাদের কাছে অভিনেতা হল চাকর, জোকার, ক্লাউন। যেহেতু টিকিট কেটে তারা অভিনয় দেখে সেহেতু তাদের মনোরঞ্জন করাই অভিনেতাদের কাজ। দর্শকাসনে বসে তারা হাততালি দেবে, প্রশংসা করবে, কিন্তু স্টেজ থেকে নামামাত্রই অভিনেতারা তাদের কাছে আত্মমর্যাদাশূন্য ও আভিজাত্যহীন একটি থিয়েটারওয়ালা— নকলনবিশ অস্পৃশ্য ভাঁড় মাত্র। অভিনেতাদের সঙ্গে তারা আলাপ করবেন, চা-সিগারেট খাওয়াবে, হাসবে—সবই নিজেদের জাহির করতে। কিন্তু তারা কোনো অবস্থাতেই অভিনেতাদের সামাজিক সম্মান দিতে রাজি নয়। সেযুগে থিয়েটারের পরিচয়ে কোনো দর্শক তার মেয়ে বা বোনকে অভিনেতার সঙ্গে বিয়ে দিত না। ভালোবাসার পাত্রীর থেকে এই হীন মানসিকতার পরিচয় পাওয়ার দিন থেকে সাধারণ দর্শক সম্পর্কে তাঁর মোহভঙ্গের মাধ্যমেই রজনীকান্তের কাছে শিল্প সম্পর্কিত যাবতীয় পবিত্রতার নামাবলি ফাঁস হয়ে গিয়েছিল।

4. ‘কত সব খবর
কত সব প্রশ্ন!’
- পড়তে জানে এমন এক মজুরের প্রশ্ন’ কবিতায় কীভাবে সেইসব ‘খবর’ আর ‘প্রশ্ন’ উচ্চারিত হয়েছে?


উত্তর - সাত দরজাওয়ালা থির্ তৈরির জন্য ইতিহাসে রাজাদের নামই লেখা আছে । কিন্তু যাদের কঠোর শ্রমে এর নির্মাণ সম্ভব হল, তারা চির-উপেক্ষিতই থেকে গেছে । বারবার ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়েও ব্যাবিলনের যে পুনর্নির্মাণ সম্ভব হয়েছে, সে তো আসলে শ্রমজীবী মানুষদেরই অবদান । অথচ ইতিহাস এদের অবদানের কোনো মূল্যই দেয় না । সমৃদ্ধ লিমাকে যারা তৈরি করেছিল বা যাদের অক্লান্ত পরিশ্রমে তৈরি হয়েছিল চিনের প্রাচীরের মতো বিস্ময়, সেইসব শ্রমিকের সন্ধান কেউ রাখে না । প্রথাগত ইতিহাস প্রকৃতপক্ষে এরকমই অজস্র বঞ্ছনার কাহিনি । রোমকে গড়ে তুলেছিল কারা, কিংবা সিজার কাদের জয় করে ইতিহাসে বিখ্যাত হয়েছেন—সেসব কথা ইতিহাসে লেখা থাকে না। বাইজেনটিয়াম সভ্যতার সমৃদ্ধির কথাই সবাই বলেছে, কিন্তু প্রাসাদের বাইরে যে মানুষেরা থাকত তাদের কথা কেউ বলেনি!উপকথার আটলান্টিস ক্রীতদাসদের ছাড়া সম্পূর্ণ ছিল না | আলেকজান্ডারের ভারত বিজয়ও সম্ভব হত না তার সৈন্যরা না থাকলে । সিজারের একার পক্ষে গল্দের পরাজিত করা সম্ভব ছিল না। আর্মাডা ডুবে যাওয়ার সময়ে শুধু স্পেনের রাজা ফিলিপই নয়, সেখানকার ধারণ মানুষও কেঁদেছিল। রোমান সম্রাট দ্বিতীয় ফ্রেডারিকের দীর্ঘ সাত বছরের যুদ্ধ জয়ও তার একার পক্ষে কখনোই সম্ভব হত না। এভাবেই ইতিহাসের প্রতিটি ঘটনায়, বিজয়োৎসবের ভোজের আয়োজনে কিংবা মহামানবের প্রতিষ্ঠায় সমাজের সাধারণ মানুষের গুরুত্বকেই কবি প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছেন । প্রথাগত ইতিহাসের আড়ালে শ্রমজীবী মানুষের যে অবদান সভ্যতাকে সচল রাখে তারই ইঙ্গিত রয়েছে এ কবিতায়।

5. ‘চোখের জলটা তাদের জন্য।'—কার চোখে জল ? কাদের জন্য, কেন তার চোখে জল এসেছে?

উত্তর- কোনো কিছুর পরোয়া না-করে, জীবনমৃত্যুকে পায়ের ভৃত্য করে যারা ট্রেন থামিয়ে ক্ষুধা-তৃস্নায় কাতর দেশবাসীকে রুটিও জল পৌঁছে দিয়েছিল, তাদের জন্য আলোচ্য গল্পের লেখক তাঁর চোখের জলকে উৎসর্গ করেছেন।কোনো কিছু প্রাপ্তির আকাঙ্ক্ষা না করে যারা ‘জীবনমৃত্যু পায়ের ভৃত্য’ করে কাতর দেশবাসীকে রুটি-জল পৌঁছে দিয়েছিল কৃতজ্ঞতাবশত তাদের জন্যই চোখে জল আসে কথকের। তাঁর প্রতিবাদী মন ছোটো বোনের কথার প্রত্যুত্তরে বলে ওঠে—ঝড়ের বেগে ছুটে আসা ট্রেন থামানো গেল, পাথরের চাই থামানো যাবে না কেন? দ্বিতীয় ঘটনার আবেগতপ্ত বিশ্বাসযোগ্যতা তাঁকে প্রথম ঘটনা সম্পর্কেও সংবেদনশীল করে তুলেছে। তাই গল্পকথক সাশুনয়ন হয়েছেন।

6. ‘গারো পাহাড়ের নীচে’ গদ্যাংশ অনুসরণে ‘হাতিবেগার’ আইনের বিবরণ দাও।

উত্তর - পঞ্চাশ-ষাট বছর আগে কিছু অঞ্চলে জমিদার দ্বারা প্রচলিত হাতিবেগার আইন চালু ছিল। জমিদারের হাতি ধরার শখকে পূর্ণতা দিতে বাচ্চা থেকে বয়স্ক সবাইকে জঙ্গলে বেড় দিতে হত। আর জমিদার থাকতেন একটি নতুন মাচায় – সেপাইসাস্ত্রীদের সঙ্গে। অন্যদিকে যারা বেড় দিতে যেত তাদের কারও-কারও প্রাণ যেত হয় বাঘের হাতে, নয়তো সাপের কামড়ে। হাতিবেগারকে কেন্দ্র করে একসময় বিদ্রোহ শুরু হয়েছিল। গোরাচাদ মাস্টারের নেতৃত্বে প্রজারা অস্ত্রশস্ত্রসহ বিদ্রোহী হয়ে উঠল। চাকলায় বসত তাদের মিটিং। যদিও জমিদারের সেনাবাহিনীর হাতে তাদের পরাজয় ঘটেছিল, তথাপি এই হাতিবেগার প্রথা বন্ধ হয়ে গিয়েছিল।