দ্বাদশ শ্রেণীর বাংলা মডেল অ্যাক্টিভিটি টাস্ক পার্ট 1 । Class 12 Bengali Model Activity Task Part-1 । কে বাঁচায়, কে বাঁচে’– এই.....

আজকে আমরা আলোচনা করব দ্বাদশ শ্রেণির বাংলা মডেল অ্যাক্টিভিটি টাস্ক এর সমস্ত প্রশ্ন এবং উত্তর নিয়ে পার্ট 1

দ্বাদশ শ্রেণীর বাংলা মডেল অ্যাক্টিভিটি টাস্ক পার্ট 1


Class 12 Bengali Model Activity Task Part-1


নীচের প্রশ্নগুলির উত্তর নিজের ভাষায় লেখো :

1. ‘দারুণ একটা হতাশা জেগেছে ওর মনে’— কার সম্পর্কে কার এ উপলব্ধি? উদ্দিষ্ট ব্যক্তির হতাশার চিত্রটি বিবৃত করো।

উত্তর - কল্লোলের কূলধন মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের "কে বাঁচায় কে বাঁচে" গল্পের প্রধান চরিত্র 'মৃত্যুঞ্জয়' সম্পর্কে তার স্ত্রী এমন মন্তব্য করেছে।
একদিন অফিস যাওয়ার পথে মৃত্যুঞ্জয় ফুটপাথে একজন অনাহারক্লিষ্ট মানুষের মৃত্যু দেখে গভীর ভাবে ভেঙে পড়ে। তারপর সে সেইসব মানুষদের জন্য কিছু করতে চাওয়ার উদ্দেশ্য নিয়ে মাস মাইনে এর পুরো টাকাটা দান করে দেয় এবং এবং নিজে ফুটপাতে বেরিয়ে পড়ে অনাহারী মানুষদের সাথে দিন কাটায়।এবং শেষপর্যায়ে তার মনে দৃঢ় ধারণা জন্মায় যে যথাসর্বস্ব দান করেও সে ভালো কিছু করতে পারবে না।সেই কিছু না করতে পারার ব্যাপারে মৃত্যুঞ্জয়েরমনে দারুন একটা হতাশা জেগেছে। এবং মৃত্যুঞ্জয় শেষ পর্যন্ত উন্মাদ হয়ে যায়। তার পরনে ধূলিমলিন সিল্কের জামা অদৃশ্য হয়ে যায়, ধুতি পরিণত হয় ছেড়া ন্যাকড়া ই এবং দাঁড়িতে মুখ ঢেকে যায়। ছোট মগ হাতে মৃত্যুঞ্জয় বলতে থাকে - " গাঁ থেকে এইছি। খেতে পাইনি বাবা। আমায় খেতে দাও।

2. ‘কদিন পরেই মাইনের তারিখ এল’— এই বিশেষ তারিখের নিরিখে নিখিল ও মৃত্যুঞ্জয়ের চরিত্রের বৈপরীত্য বিশ্লেষণ করো।

উত্তর - মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাহিত্য ভাবনা ত্রিশের দশকে ফ্রয়েডীয় মনবিকলন তত্ত্ব দ্বারা প্রভাবিত । আবার চল্লিশের দশকে মার্কসীয় দর্শন দ্বারা চালিত । নিখিলের চরিত্রটি ত্রিশের দশকের মানিক বন্দোপাধ্যায়। আর মৃত্যুঞ্জয় চল্লিশের দশকের মৃত্যুঞ্জয় মাস মাইনের সমস্ত টাকা রিলিফ ফান্ডে দিয়ে নিখিল প্রতি মাসে তিন জায়গায় পাঠানো সাহায্য পাঁচ টাকা করে কমিয়ে তা রিলিফ ফান্ডে দেওয়ার কথা ভেবেছে। ভূরিভোেজন বাদ দিয়েছে, তবে নিজের বেঁচে থাকার জন্য যেটুকু খাওয়া প্রয়োজন তা সে গ্রহণ করবে। কারণ, নীতি ধর্ম এবং.সমাজধর্মের মৃত্যুঞ্জয় । এত যুক্তি, বুদ্ধি, কথার মারপ্যাচে বিশ্বাসী আত্মরক্ষার এই তত্ত্বকথা তার কাছে অর্থহীন মনে তাই অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে কেবল মানবতার খাতিরেই সে নিজেকে তাদের মধ্যে বিলীন করে দেয়।

3. ‘কে বাঁচায়, কে বাঁচে’– এই তির্যক নামকরণের যাথার্থ্য অলোচনা করো।

উত্তর - মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের দুর্ভিক্ষের পটভূমিতে রচিত "কে বাঁচায় কে বাঁচে "গল্পের প্রধান চরিত্র মৃত্যুঞ্জয় একদিন অফিস যাওয়ার পথে অনাহারে মৃত্যুর এক বীভৎস দৃশ্য দেখে মনে গভীর ভাবে আঘাত পায় এবং অপরাধবোধে ভেঙে পড়ে। এরপর থেকে ভালো করে খেতেও ঘুমাতে পারে না। সস্ত্রীক মৃত্যুঞ্জয় এক বেলা খাওয়া ছেড়ে সেই খাওয়ার অনাহারীদের মধ্যে বিলিয়ে দিতে থাকে।
এতেও তাঁর মনে শান্তি পাই না তাই মাস মাইনের সমস্ত টাকাটা তার বন্ধু নিখিলকে রিলিফ ফান্ডে দিয়ে আসতে বলে। শহরের আদি-অন্তহীন ফুটপাথে ঘুরতে শুরু করে, অফিস যাওয়া বন্ধ করে দেয়, ফুটপাতের মানুষ গুলির সাথে কথা বলে এবং ধীরে ধীরে তাদের একজন হয়ে ওঠে। তার পরনের ধূলিমলিন সিল্কের জামা অদৃশ্য হয়ে যায়,ছেড়া ন্যাকড়া পড়ে মুখভর্তি দাড়ি নিয়ে সে মগ হাতে লঙ্গরখানা একে ভিড় করে এবং বলে - "গা থেকে এইছি, খেতে পাইনি বাবা। আমায় খেতে দাও নিজের সর্বস্ব দান করতেও মৃত্যুঞ্জয় অনাহারী মানুষদের বাঁচাতে পারে না, আবার নিজেও প্রকৃত ভাবে বাঁচতে পারে না। তাই লেখক গল্পের এইরূপ তীর্যক নামকরণ করেছেন।

4. ‘জানিলাম এ জগৎ স্বপ্ন নয়’— কবির অনুসরণে এই উপলব্ধির তাৎপর্য লেখো।

উত্তর - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের "শেষলেখা " কাব্যগ্রন্থের 11 সংখ্যক কবিতা "রূপনারানের কূলে" থেকে উদ্ধৃতিতে নেওয়া হয়েছে। কবিতায় কবি স্পষ্টভাবে বলেছেন তিনি যে জগতকে স্বপ্ন বলে জেনেছিলেন তা আসলে স্বপ্ন নয়। স্বপ্ন ও কল্পনার মায়া আবরণ কে দূরে সরিয়ে কবি যে জগতকে দেখেছেন তা আঘাত ও বেদনায় পূর্ণ। প্রতিদিনের জীবনে দ্বন্দ্ব-সংঘাত ,হতাশা,যন্ত্রণা প্রভৃতির মধ্যে দিয়ে জীবনের আসল পরিচয় পেয়েছেন। তিনি উপলব্ধি করেছেন দুঃখের তপস্যার মধ্য দিয়েই জগতকে চিনতে হয়। তিনি রক্তের অক্ষরে নিজের স্বরূপ উপলব্ধি করেছেন এবং অনুভব করেছিলেন সত্যের দারুন মূল্য লাভ করবার জন্য মৃত্যু অনিবার্য ।তাই তিনি মনে করেন সত্য কঠিন হলেও তাকে বরণ করে নিতে হয়। জীবন দুঃখময় সুখ-দুঃখ, ভালো-খারাপ সব নিয়েই জীবন তাই জীবনকে স্বপ্নের মধ্যে না রেখে বাস্তবতা মেনে নেয়াটাই শ্রেয়। এইভাবে কবি দুঃখের তপস্যা দিয়ে তার জগত কে চিনে ছিলেন।

5. ‘সকল দেনা শোধ করে দিতে’– দেনা কিসের? কীভাবে তা শোধ করা যাবে বলে কবি মনে করেছেন? তাঁর এই মনোভাবটি কোন্ বিশেষ মূল্যবোধকে আশ্রয় করে গড়ে উঠেছে?

উত্তর - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের "শেষলেখা" কাব্যগ্রন্থের 11 সংখ্যক কবিতা "রূপনারানের কূলে" থেকে উদ্ধৃতিতে নেওয়া হয়েছে। এখানে দেনা বলতে কবি সারা জীবনে যা কিছু অর্জন করেছেন তাকে বোঝানো হয়েছে। উদৃষ্ট কবিতায় কবি মনে করেছেন জীবনের সমস্ত দেনা একমাত্র মৃত্যুর মধ্য দিয়ে শোধ করা যাবে।দীর্ঘ 80 বছরের জীবন অতিক্রম করার পর রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর অনুভব করেছেন যে মৃত্যু কোন ভয় বা ভীতির কারণ নয়, মৃত্যু সুন্দর, তা প্রকৃতির নিয়মেই সকলের জন্য অনিবার্য এবং তা সকলকেই মেনে নিতে হবে।