অষ্টম শ্রেণীর বাংলা মডেল অ্যাক্টিভিটি টাস্ক পার্ট 5 । Class 8 Bengali Model Activity Task Part 5 New. 2021 । শিমুল গাছ অনেকে দেখিয়াছ ....

অষ্টম শ্রেণীর বাংলা মডেল অ্যাক্টিভিটি টাস্ক 2021 এর পার্ট 5 এর প্রশ্ন এবং উত্তর নিয়ে আজকে আমরা আলোচনা করব চলো শুরু করা যাক ।


অষ্টম শ্রেণীর বাংলা মডেল অ্যাক্টিভিটি টাস্ক পার্ট 5

অষ্টম শ্রেণীর বাংলা নতুন 2021 এর মডেল অ্যাক্টিভিটি টাস্ক পার্ট 5


নীচের প্রশ্নগুলি উত্তর দাও:

১. 'দাঁড়াও' কবিতায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর আততি কীভাবে ধরা দিয়েছে?


উত্তর - আধুনিক কবি শক্তি চট্টোপাধ্যায় দাঁড়াও কবিতার মানুষ হিসাবে আমাদের অসহায় হতদরিদ্র মানুষের পাশে সর্বদা দাঁড়াতে অর্থাৎ তাদের সাহায্য করতে বলেছেন। মানুষ হয়ে যখন মানুষকে পাখি হিসেবে ফাঁদ পাতা হয় ঠিক তখনই সেই মানবীক হৃদয়বান ও পরোপকারী মানুষকে পাখির মতোই তাদের পাশে দাঁড়াতে বলেছে।

২. “লাঠি ধরলে বটে!” – বক্তা কে? কার সম্পর্কে তার এই উক্তি? উক্তিটির মধ্য দিয়ে তার কোন মনোভাবের পরিচয় পাও?


উত্তর - প্রশ্নে উল্লেখিত বাক্যটির বক্তা হলেন শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের " পল্লীসমাজ " গল্পের আকবর। পিরপুরের এই প্রজা অর্থাৎ আকবর প্রশ্নে উল্লেখিত বাক্যটি এই গল্পের কেন্দ্রীয় চরিত্র রমেশের সম্পর্কে উল্লেখ করেছেন। রমেশ যখন নিজেই বাঁধ কেটে জল বের করতে যায় সেখানে গিয়ে দেখে সেই বাঁধ পাহারা দিতে রমা আকবরকে পাঠিয়েছিল।তখন আকবর রমেশের সঙ্গে লাঠির লড়াইয়ে হেরে যায়।তারপর এই ঘটনা রমাকে বলার সময় লাঠিয়াল হিসাবে রমেশের প্রশংসার সুরে প্রশ্নে উল্লেখিত বাক্যটি আকবর প্রকাশ করেন।আর এই বাক্যটির মধ্য দিয়ে বক্তার সত্যকে এবং একজন লাঠিয়াল এর বীরত্বের স্বীকার করার সুন্দর ছবি ধরা পড়েছে।

৩. প্রাণ আছে, প্রাণ আছে? - 'ছন্নছাড়া' কবিতায় এই আশাবাদ কীভাবে ধ্বনিত হয়েছে?


উত্তর - একটি বেওয়ারিশ ভিখিরি গাড়ি চাপা পড়ায় একদল ছন্নছাড়া বেকার যুবক ফাঁকা ট্যাক্সি খুঁজছিল এবং সেটি পেয়ে যাওয়ায় গাড়িটিকে নিয়ে তাড়াতাড়ি তারা ঘটনাস্থলে যায়। রক্তে-মাংসে দলা পাকিয়ে যাওয়া ভিখিরির শরীরটিকে তারা পাঁজাকোলা করে তুলে নেয় ট্যাক্সিতে।


শরীরটি তোলার সময়ই তারা আনন্দে উৎফুল্ল হয়ে চেঁচিয়ে ওঠে—শরীরটিতে এখনও প্রাণ আছে বুঝতে পেরে। এইভাবেই শহরের ইট-কাঠ পাথরে পরিবেষ্টিত দয়া-মায়াহীন পরিবেশের মধ্যে থেকে একটি মায়া-মমতাপূর্ণ বিশ্বাসের জয় শঙ্খধ্বনি ধ্বনিত হয়ে উঠে—“প্রাণ আছে, প্রাণ আছে” কথাগুলির মাধ্যমে। কারণ, প্রাণ থাকলেই মর্যাদা থাকে। এখানে মৃতপ্রায় ভিখারি যেন মরতে বসা সমাজের রুপক, কিন্তু এই সর্বহারা ছন্নছাড়া যুবকদের মানবিকতার ছোঁয়ায় তাতে প্রান ফিরে এসেছে।


৪. শিমুল গাছ অনেকে দেখিয়াছ।' -'গাছের কথা' গদ্যাংশে শিমুল গাছের প্রসভ্য লেখক কীভাবে স্মরণ করেছেন?


উত্তর - উদ্ধৃত লাইনটি বিজ্ঞানাচার্য জগদীশচন্দ্র বসুর লেখা "গাছের কথা" নামক প্রবন্ধ থেকে নেওয়া হয়েছে। প্রবন্ধের শুরুতেই তিনি বলেছেন— ছেলেবেলায় একা মাঠে বা পাহাড়ে বেড়াতে গেলে সবকিছুই যেন তার খালি খালি লাগত। গাছ, পাখি, কীটপতঙ্গকে লেখক তখনও সেভাবে ভালোবাসতে শেখেননি। পরে যখন ভালোবাসতে শিখলেন, তখন তাদের সঙ্গে একাত্ম হয়ে বুঝতে পারলেন যে, গাছ কথা না-বললেও এদের জীবন আছে। এরপর শিমুল ফল ফেটে তুলোর সঙ্গে হাওয়ায় উড়তে থাকার ঘটনার উল্লেখ করে তিনি ছোটোবেলার কথা মনে করেছেন। বাতাসে ভাসতে থাকা তুলোর পিছনে তিনি যখন ছুটোছুটি করতেন, সেগুলি বাতাসের গতিতে এদিক-ওদিক চলে যেত। হাত বাড়িয়ে ধরা সম্ভব হত না। কিন্তু লেখক এর মধ্যে খেলার আনন্দ খুঁজে পেতেন।


৫. বিশ্বের বুক ফেটে বয়ে যায় এই গান—' -কোন হতাশার কান্না বিশ্বজুড়ে বয়ে যায়?


উত্তর - উদ্ধৃত লাইনটি বুদ্ধদেব বসুর লেখা "হাওয়ার গান" কবিতা থেকে নেওয়া হয়েছে। কবিতাতে হওয়াদের এক জীবন্ত স্বত্ত্বায় কল্পনা করা হয়েছে। তারা সমস্ত পৃথিবী ঘুরে নিজেদের বাড়ি খুঁজে বেড়াচ্ছে, আর তাদের হাহাকার যেন কোনো বিলাপের সুর।হাওয়ারা পার্কের বেঞ্চিতে শুকনো পাতা উড়িয়ে জালনার শার্সি কাঁপিয়ে, কখনো বা চিমনিতে হাহাকার তুলে অথবা বাগানের কেঁদে কেঁদে ঘুরে বেড়ায়। তাদের শনশন শব্দ, গর্জন আসলে গানের সুরের মতোই ধ্বনিত হয়েছে। হাওয়াদের যে বাড়ি নেই, সেই কথাটিকে তারা কবিতার মধ্যে দু-বার বলেছে, গানের সঞ্চারীর মতো করে। তাদের বেদনাতুর হৃদয়ের কান্নাই আসলে হাওয়ার গান।


৬. ‘ছেলের কথা শুনেই বুকুর মা-র মাথায় বজ্রঘাত!' -বুকুর কোন কথায় তার মা অতিথিদের সামনে অস্বস্তিতে পড়লেন?


উত্তর - আশাপূর্ণা দেবী রচিত "কি করে বুঝবো" গল্প থেকে নেওয়া হয়েছে। বুকুর বাবা মা বুকুকে সব সময় শিক্ষা দিয়েছেন যে কখনো মিথ্যা কথা বলতে নেই, কোনো কথা গোপন করতে নেই। বুকু সেই মোতাবেক কাজ করেছে। ছেনু মাসীরা তাদের বাড়িতে আশায় তার বাবা বিরক্ত বোধ করলে বুকু তাদের সামনেই তা বলে দেয়। কেননা ছয় বছরের ছোট্ট শিশুটি জানে না কোন কথা গোপন করতে হয়। বুকু নির্দোষ।কারণ তাকে যেটা শেখানো হয়েছে সে সেটাই বলেছে। বুকুর এই সত্যি কথা বলার কারণে তার মা অতিথিদের সামনে অস্বস্তিতে পড়েছেন।


৭. ‘পাড়াগার দু-পহর ভালোবাসি কবিতায় গ্রামজীবন সম্পর্কে কবির যে অনুভূতির প্রকাশ ঘটেছে তার পরিচয় দাও।


উত্তর - কবি জীবনানন্দ দাশ হলেন প্রকৃতিপ্রেমী কবি। আলোচ্য "পাড়াগাঁর দু পহর ভালোবাসি" কবিতায় কবি গ্রাম বাংলার দ্বিপ্রহরের অসাধারণ মোহমহী রূপের বর্ণনাকে ছন্দ প্রদান করেছেন। রোদ্রে স্মাত গ্রামবাংলা প্রান্তরের শঙ্খচিল, জল সিঁড়ির পাশে ঘাসের উপর নুয়ে পড়া চালতা গাছ, হিজল গাছে বাঁধা জীর্ণতায় ডিঙ্গি নৌকা ইত্যাদি যেন অপরূপ মহিমায় উদ্ভাসিত হয়েছে কবির বাণীতে। প্রকৃতিপ্রেমী কবির হাত ধরে যেন গ্রাম বাংলার দুপুরের মায়াময়ী রুপ কবিতাটিতে ফুটে উঠেছে।


৮. ‘এলাহি ব্যাপার সব।' — 'নাটোকের কথা' রচনাংশ অনুসরণে সেই এলাহি ব্যবস্থাপনার বিবরণ দাও।


উত্তর - প্রভিন্সিয়াল কনফারেন্সে যোগ দেওয়ার জন্য নাটোরের দিকে যাওয়ার সময় স্টিমারে খাওয়া-দাওয়ার প্রসঙ্গ আলোচনায় লেখক অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর অত্যন্ত সরস মনের পরিচয় দিয়েছেন। স্টিমারে খাওয়ার টেবিলে একদিকে বয়সে বড়োরা এবং চাই-রা বসেছিল অন্যদিকে বসেছিল ছেলেছোকরার দল। টেবিলে অত্যন্ত ভালো এবং লোভনীয় খাবার পরিবেশন করা হয়েছিল।

৯. 'গড়াই নদীর তীরে' কাব্যাংশে প্রকৃতিচিত্র কীভাবে উদ্ভাসিত হয়ে উঠেছে?


উত্তর - গড়াই নদীর তীরে কবিতায় কবি পরম মমতায় গ্রামীণ কুটিরের ছবি এঁকেছেন।সুন্দর গ্রাম্য পরিবেশের বর্ণনা দিয়ে কবি বলেছেন-সুপারি গাছ, খেজুর গাছ ও আম গাছ দিয়ে ঘেরা এই ছোট্ট কুটির।বাড়ির উঠোনের পাশে গাঁদা ফুলগুলি উঠোনটিকে যেন আলো করে রাখে। অন্যান্য গাছপালাগুলি সমস্ত ঝড়ঝঞ্চা থেকে বাড়িটিকে রক্ষা করে। প্রল ঝড়কে তারা প্রতিহত করে। গ্রীষ্মের প্রচণ্ড দাবদাহ থেকে তারাকুটিরটিকে সযত্নে ছায়া বিছিয়ে রাখে।


বাড়ির সঙ্গে এই সমস্ত গাছগাছালির যেন এক নিবিড় সম্পর্ক গড়ে উঠেছে। বিভিন্ন ধরনের পাখিরাও নির্ভয়ে এসে গাছে বসে বাড়িটিকে কলকাকলিতে ভরিয়ে তোলে। পাখিগুলোর সঙ্গে বাড়ির মানুষের যেন আত্মিক সম্পর্ক। কেউ কারো কোনো ক্ষতি করে না। পাখিরা নিশ্চিন্তে বসে থাকে, উঠানে চরে বেড়ায়। নানারকমের পাখি, যারা সারাদিন খাদ্যের খোঁজে এদিক-সেদিক ঘুরে বেড়ায়, তারা সন্ধে বেলা পরম নিশ্চিন্তে বাড়ির বাগানের গাছে এসে আশ্রয় নেয়। এভাবেই বাড়ির সাথে বিভিন্ন গাছপালা ও পাখিদের এক নিবিড় ভালোবাসার সম্পর্ক গড়ে ওঠে।