সপ্তম শ্রেণীর ইতিহাস মডেল অ্যাক্টিভিটি টাস্ক পার্ট ৮ । Class 7 History Model Activity Task Part 8 New. 2021 । দীন-ই ইলাহি' কী ?

সপ্তম শ্রেণীর ইতিহাস মডেল অ্যাক্টিভিটি টাস্ক 2021 এর পার্ট 8 এর প্রশ্ন এবং উত্তর নিয়ে আজকে আমরা আলোচনা করব চলো শুরু করা যাক ।


সপ্তম শ্রেণীর ইতিহাস মডেল অ্যাক্টিভিটি টাস্ক পার্ট ৮


সপ্তম শ্রেণীর ইতিহাস নতুন 2021 এর মডেল অ্যাক্টিভিটি টাস্ক পার্ট ৮


১. ক 'স্তম্ভের সাথে ‘খ’ স্তম্ভ মেলাও :

উত্তর -

 
ক স্তম্ভখ স্তম্ভ
১.১. খলিফার অনুমোদন(গ) ইলতুৎমিশ
১.২. সিজদা ও পাইবস(ক) গিয়াসউদ্দিন বলবন
১.৩. বাজারদর নিয়ন্ত্রণ(ঘ) আলাউদ্দিন খলজি
১.৪. আমুক্তমাল্যদ(খ) কৃষ্ণদেব রায়

২. বেমানান শব্দটির নিচে দাগ দাও :

২.১. বিজয়ালয়, দন্তিদুর্গ, প্রথম রাজরাজ, প্রথম রাজেন্দ্র

উত্তর - দন্তিদুর্গ

২.২. বরেন্দ্র, হরিকেল, কনৌজ, গৌড়

উত্তর - কনৌজ

২.৩. হলায়ুধ, জয়দেব, গোবর্ধন, উমাপতিধর

উত্তর - গোবর্ধন

২.৪. প্রতাপাদিত্য, কেদার রায়, ইশা খান, বৈরম খান

উত্তর - বৈরম খান

৩. শূন্যস্থান পূরণ করো :

৩.১. বন্দেগান-ইচিহ্নলগানির সদস্য ছিলেন সুলতান____________

উত্তর - গিয়াসউদ্দিন বলবন।

৩.২. বাংলার প্রথম স্বাধীন সুলতান ছিলেন________

উত্তর - শামসুদ্দিন ইলিয়াস শাহ ।

৩.৩. পোর্তুগিজ পর্যটক___________ বিজয়নগর পরিভ্রমন করেন।

উত্তর - পেজ ও নুনিজ ।

৩.৪. বিজয়নগর পরাজিত হয়েছিল,__________যুদ্ধে

উত্তর - তালিকটার

8. সত্য বা মিথ্যা নির্ণয় করো :

৪.১. 'দাগ' ও 'হুলিয়া' ব্যবস্থা চালু রাখেন শেরশাহ।

উত্তর - সত্য

৪.২. ১৫৭৬ খ্রিস্টাব্দে হলদিঘাটির যুদ্ধে আকবর রানা প্রতাপকে পরাজিত করেছিলেন।

উত্তর - সত্য

৪.৩. মনসবদারি ও জায়গিরদারি ব্যবস্থা বংশানুক্রমিক ছিল।

উত্তর - মিথ্যা

৪.৪. রাজিয়া তার মুদ্রায় নিজেকে 'সুলতান' বলে দাবি করেছেন।

উত্তর - সত্য

৫. দুই-তিনটি বাক্যে উত্তর দাও :

৫.১. 'দীন-ই ইলাহি' কী ?


উত্তর - দীন-ই-ইলাহি হলো সম্রাট আকবর প্রবর্তিত একটি সম্পূর্ণ নতুন ধর্মীয় মতাদর্শ। অন্যান্য ধর্মের সারবস্তু নিয়ে তিনি এই ধর্ম গড়ে তুলেছিলেন। এর অর্থ হলো ঈশ্বরের প্রতি বিশ্বাস। 1582 খ্রিষ্টাব্দে আকবর এই বিখ্যাত মতবাদ ঘোষনা করেছিলেন।

৫.২. 'মনসব' কী?

উত্তর - আকবর সামরিক ব্যবস্থায় একটি গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন করেছিলেন, যা মনসবদারি ব্যবস্থা নামে পরিচিত। প্রশাসনিক পদগুলিকে বলা হত মনসব।

৬. চার-পাঁচটি বাক্যে উত্তর দাও :

৬.১. পাল-সেন যুগে কেমন ভাবে কর আদায় করা হত?

উত্তর - পাল ও সেন যুগে রাজারা প্রজাদের কাছ থেকে যে করগুলি নিতেন -

(i) ভাগ-রাজারা উৎপন্ন ফসলের এক ষষ্ঠাংশ কৃষকদের কাছ থেকে আদায় করতেন । একে বলা হত ভাগ কর।
(ii) ভোগ- রাজারা নিজেদের প্রয়োজনে ফল,ফুল,মূল ইত্যাদি প্রজাদের থেকে নিতেন, একে বলে ভোগ কর।
(iii) কর- কর ছিল প্রজাদের আয়ের উপর নির্ধারিত বাজার প্রাপ্য অর্থ।
(iv) হিরণ্য- রাজার প্রজাদের থেকে শস্যের পরিবর্তে নগদ মুদ্রা নিতেন যাকে বলে হিরন্য কর ।

৬.২. সেন রাজারা কি সাহিত্যের পৃষ্ঠপোষক ছিলেন?

উত্তর - সেন বংশের রাজারা সাহিত্য-সংস্কৃতিতে তাদের অবদান রেখেছেন।

লক্ষণ সেনের রাজসভা অলংকৃত করেছিলেন পঞ্চরত্ন - কবি জয়দেব, কবি ধোয়ী, কবি গোবর্ধন, উমাপতি ধর ও শরণ। কবি জয়দেব রচিত কাব্যের নাম হলো ' গীত গোবিন্দ', ধোয়ী লিখেছিলেন' পবনদূত' কাব্য। 'দানসাগর' ও 'অদ্ভুতসাগর'বইগুলি লিখেছিলেন বল্লাল সেন এবং লক্ষণ সেন নিজে পিতার অসমাপ্ত 'অদ্ভুতসাগর' বইটি সমাপ্ত করেছিলেন অর্থাৎ সেন রাজারা ছিলেন সাহিত্যের পৃষ্ঠ পোষক ।


৬.৩. ইকতা ব্যবস্থা কী?

উত্তর - একের পর এক রাজ্য জয় করে দিল্লীর সুলতানরা সাম্রাজ্যের আয়তন ক্রমশ বাড়িয়েছিলেন। যেসব রাজ্য জয় করেছিলেন সেগুলিকে এক একটি প্রদেশ ধরে নেওয়া হয়েছিল। এই প্রদেশগুলিকেই বলা হত ইকতা এবং পদ্ধতিটিকে বলা হত ইকতা ব্যবস্থা।


৬.৪. খলজি বিপ্লব বলতে কী বোঝ?

উত্তর -
১২৯০ খ্রিস্টাব্দে জালালউদ্দিন ফিরোজ খলজি বলবনের বংশধরদের ক্ষমতা থেকে সরিয়ে সুলতান হয়েছিল। এই ঘটনাকে বলা হয় খলজি বিপ্লব।

৭. আট-দশটি বাক্যে উত্তর দাও :

৭.১. বখতিয়ার খলজির বাংলা আক্রমণের পর বাংলাতে কি কি পরিবর্তন ঘটেছিল?

উত্তর - বখতিয়ার খলজি ছিলেন মহম্মদ ঘুরীর অন্যতম অনুচর এবং বাংলায় মুসলিম শাসনের প্রতিষ্ঠাতা।বিহার জয়ের পর বাংলা জয়ের উদ্দেশ্যে মাত্র ১৮ জন সেনাকে নিয়ে তিনি বাংলায় উপস্থিত হন।তখন বাংলার রাজা ছিলেন লক্ষন সেন। হঠাৎ আক্রমণে লক্ষন সেন বিভ্রান্ত হয়ে বিনা প্রতিরোধে পালিয়ে যান। এইভাবে নবদ্বীপ দখলে আসে। এরপর

লক্ষনাবতী অধিকার করে সেখানে রাজধানী স্থাপন করেন, যা পরে লক্ষৌতি নামে পরিচিত হয়। তিনি রাজ্যে সুশাসনের ব্যবস্থা গড়ে তুলেছিলেন এবং রাজ্যে মসজিদ নির্মাণ করেছিলেন। বখতিয়ার খলজির দুজন সেনা অধ্যক্ষের নাম হলো - আলি মর্দান খলজি বরসৌলে, হুসামউদ্দিন ইউজ খলজি।


৭.২. কৃষ্ণদেব রায়কে কেন বিজয়নগরের শ্রেষ্ঠ শাসক বলা হয়?

উত্তর -
অযোগ্য শাসনের জন্য বিজয়নগরের সালুভ রাজবংশের পতন ঘটে।

সালুভ বংশের সেনাপতির ছেলে বীরসিংহ সালুভ বংশের উচ্ছেদ করে তুলুভ বংশের শাসন প্রতিষ্ঠা করেন। এই বংশের রাজা কৃষ্ণদেব রায় ছিলেন বিজয়নগরের বিখ্যাত শাসক। কারণ সেসময়ে সাম্রাজ্যের সীমা বেড়েছিল। অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক বাণিজ্যের প্রসার হয়েছিল। এছাড়াও সেই সময় শিল্প, সাহিত্য, সংগীত, ও দর্শনশাস্ত্রের উন্নতি হয়েছিল।

পোর্তুগীজ পর্যটক পেজ রাজা কৃষ্ণদেব রায়ের সময়কালে বিজয়নগরে এসেছিলেন এবং তিনি রাজার প্রশংসা করে বলেছেন রাজাদের মধ্যে - তিনি সবাপেক্ষা পণ্ডিত এবং সর্বোত্তম একজন মহান শাসক এবং সুবিচারক সাহসী ও সর্বাগুনান্বিত। রাজা কৃষ্ণদেব রায় নিজেও একজন , সহিত্যিক ছিলেন। উপরিউক্ত কারণের জন্যই কৃষ্ণদেব রায়কে বিজয়নগরের শ্রেষ্ঠ শাসক বলা হয়।

আরও পড় পঞ্চম শ্রেণীর বাংলা মডেল অ্যাক্টিভিটি টাস্ক পার্ট ৮ । Class 5 Bengali Model Activity Task Part 8 New. 2021-


৭.৩. শেরশাহের যে-কোনো দুটি প্রশাসনিক সংস্কার সম্পর্কে সংক্ষেপে লেখো।


উত্তর - শেরশাহের ভূমি রাজস্ব ব্যবস্থা, সামরিক ব্যবস্থা প্রভৃতি ক্ষেত্রে সংস্কার করেছিলেন।


(i) ভূমি-রাজস্ব ব্যবস্থা:- শেরশাহ কৃষককে পাট্টা দিতেন, পাট্টায় নিজেদের নাম, জমিতে কৃষকের অধিকার এবং কৃষককে কত রাজস্ব দিতে হবে তা লেখা থাকতো। পরিবর্তে কৃষক রাজস্ব দেওয়ার কথা কবুল করতো এবং করলীয়ত নামে অন্য একটি দলিল সম্রাটকে দিত।


(ii) সামরিক ব্যবস্থা:- সেনাবাহিনীতে অশ্বারোহীর, পদাতিক সেনাবাহিনীর এবং হস্তী বাহিনীর উন্নতি ঘটিয়েছিলেন। সেনাবাহিনীর ওপর নিয়ন্ত্রণ রাখতে তিনি দাগ ও হুলিয়া প্রথা চালু করেছিলেন।দাগ হলো সেনাবাহিনীর ঘোড়াগুলির গায়ে চিহ্নিত করা।হুলিয়া হলো সেনাদের দৈহিক বর্ণনামূলক তালিকা