ষষ্ঠ শ্রেণীর বাংলা মডেল অ্যাক্টিভিটি টাস্ক পার্ট ৮ । Class 6 Bengali Model Activity Task Part 8 New. 2021 । কেমন যেন চেনা লাগে ....

ষষ্ঠ শ্রেণীর বাংলা মডেল অ্যাক্টিভিটি টাস্ক 2021 এর পার্ট 8 এর প্রশ্ন এবং উত্তর নিয়ে আজকে আমরা আলোচনা করব চলো শুরু করা যাক ।




ষষ্ঠ শ্রেণীর বাংলা মডেল অ্যাক্টিভিটি টাস্ক পার্ট ৮

ষষ্ঠ শ্রেণীর বাংলা নতুন 2021 এর মডেল অ্যাক্টিভিটি টাস্ক পার্ট ৮

১. ঠিক উত্তরটি বেছে নিয়ে লেখো:


১.১. ভরদুপুরে কবিতায় শুকনো খড়ের আঁটি রয়েছে -

ক) অশ্বথু গাছের নিচে
খ ) মাঠে
গ) গোলাঘরে
ঘ) নৌকোর খলে ।

উত্তর - নৌকোর খলে

১.২. তাকে আসতে বলবে কাল - আসতে বলা হয়েছে -
ক) শংকর সেনাপতিকে
খ) অভিমন্যু সেনাপতিকে
গ) বিভীষণ দাস কে
ঘ) পঞ্চানন অপেরার মালিক কে

উত্তর - বিভীষণ দাস কে

১.৩. আকাশে নয়ন তুলে দাঁড়িয়ে রয়েছে -
ক) বুনো পাহাড়
খ) মরুভূমি
গ) প্রভাত সূর্য
ঘ) পাইন গাছ

উত্তর - পাইন গাছ

১.৪. 'যেতে পারি কিন্তু কেন যাবো ' কাব্য গ্রন্থটির রচিয়তা -
ক) নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
খ) অরুণ মিত্র
গ) শক্তি চট্টোপাধ্যায়
ঘ) অমিয় চক্রবর্তী

উত্তর- শক্তি চট্টোপাধ্যায়

১.৫. পূর্ববঙ্গের মাহুতের ভাষায় মাইল শব্দের অর্থ -

ক) পিছনে যাও
খ) সাবধান
গ) বস
ঘ) কাত হও

উত্তর - সাবধান ।

২. খুব সংক্ষেপে নীচের প্রশ্নগুলির উত্তর দাও ।

২.১. ও তো পথিকজনের ছাতা - পথীকজনের ছাতা কোনটি ?


উত্তর - নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তীর ভরদুপুরে কবিতায় অশোথ গাছ টিকে পথিক জনের ছাতা বলা হয়েছে ।

২.২. এখানে বাতাসের ভিতর সবসময় ভিজে জলের ঝাপটা থাকে - কেনো এমনটি হয়?

উত্তর - শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায়ের লেখা সেনাপতি শঙ্কর গল্পে উল্লেখিত আকন্দবাড়ী থেকে মাত্র 5 মাইল দূরে বঙ্গোপসাগর অবস্থিত হওয়ায় এখানে বাতাসের ভিতর সব সময় ভিজে জলের ঝাপটা থাকে ।


২.৩. মন ভালো করা' কবিতায় কবি রোদ্দুর কে সঙ্গে তুলনা করেছেন?

উত্তর - মন ভালো করা কবিতা কবি শক্তি চট্টোপাধ্যায় রোদ্দুর কে মাছরাঙ্গা পাখির পায়ের বিচিত্র বর্ন বাহারের সাথে তুলনা করেছেন ।

২.৪. 'আমি কথা দিয়ে এসেছি - কথক কোন কথা দিয়ে এসেছেন?

উত্তর - কবি অরুণ মিত্র তার প্রিয় বন্ধু ঘাস ফড়িং কে কথা দিয়ে এসেছেন যে তিনি আবার তার কাছে ফিরে আসবেন ।

২.৫. 'ভাদুলি' ব্রত কখন উদযাপিত হয়।

উত্তর - ভাদুলি ব্রত বর্ষাকালের শেষের দিকে মেয়েরা করে থাকে। বৃষ্টির পরে আত্মীয় ঢুকালের শেষের দিকে মেয়েরা করে থাকে। স্বজনদের সমুদ্রযাত্রা থেকে স্থলপথে নিজেদের বাসায় ফিরে আসার কামনায় তারা এই ব্রত করে। নদীর পাড়ে নানা আলপনা এঁকে, গান গেয়ে নদী মাতা কে জানায় তাদের প্রার্থনা ।

২.৬. সন্ধ্যায় হাটের চিত্রটি কেমন?

উত্তর
-কবি যতীন্দ্রনাথ সেনগুপ্ত তার হাট কবিতায় সন্ধ্যাবেলার বাস্তব চিত্রটুকু তুলে- ধরেছেন। দূরের গ্রামগুলিতে প্রদীপ জ্বললেও হাট অন্ধকারে থেকে যায়। ক্লান্ত কাকের পাখনায় ধীরে ধীরে সন্ধ্যা নেমে আসে। হাটের দোচালা দোকানগুলি যেন চোখ বুজে বিশ্রাম নেয়, শুধু শোনা যায় জীর্ণ বাঁশের বুকে বাতাসের ফুঁ তে ওঠা বিদ্রূপের সুর

২.৭. কোন্ তিথিতে রাঢ়বঙ্গের কৃষিজীবী সমাজের প্রাচীন উৎসব গো-বন্দনা, অলক্ষ্মী বিদায়, কাঁড়াখুঁটা, গোরুখুঁটা = পালিত হয়?

উত্তর - কালীপূজা অর্থাৎ কার্তিকের অমাবস্যা তিথিতে রাঢ়বঙ্গের কৃষিজীবী সমাজের প্রাচীন উৎসব গো-বন্দনা,অলক্ষী বিদায়, কাঁড়াখুটা, গরুখুঁটা প্রভৃতি পালিত হয়। এই উৎসবের সময় সমস্ত ঘরদোর পরিষ্কার করে আলপনা দিয়ে সাজানো হতো।

২.৮. কেমন যেন চেনা লাগে ব্যস্ত মধুর চলা– কবি কার চলার কথা বলেছেন?

উত্তর - কবি অমিয় চক্রবর্তী তাঁর ' পিপড়ে' কবিতায় ছোট ছোট পিঁপড়েদের চলার কথা বলেছেন। পিঁপড়ে গুলোর নিজেদের মধ্যে কথা না বলে, ব্যস্ত ভাবে সারি দিয়ে চলা কবির মনে মুগ্ধতার সৃষ্টি করে।

২.৯. সে বাড়ির নিশানা হয়েছে আমগাছটি'— ‘ফাঁকি' গল্পে গোপালবাবু কীভাবে তাঁর বাড়ির ঠিকানা জানাতেন?

উত্তর - 'ফাঁকি' গল্পে আমরা দেখতে পাই গোপাল বাবুকে কেউ তার বাড়ির ঠিকানা জিজ্ঞেস করলে তিনি বলতেন-কাঠজোড়ি নদীর ধার বরাবর পুরীঘাট পুলিশের ফাঁড়ির পশ্চিমদিকে যেখানে পাঁচিলের মধ্যে আমগাছ দেখবেন- সেইখানে আমাদের বাড়ি। এভাবেই আমগাছটি তাদের বাড়ির নিশানা বা ল্যান্ডমার্ক হয়ে উঠেছিল।

২.১০. ‘তুমি যে কাজের লোক ভাই! ওইটেই আসল। কে, কাকে, কখন একথা বলেছিল?

উত্তর - 'তুমি যে কাজের লোক ভাই! ওই টেই আসল---- এই কথাটি ঘাসের পাতা পিঁপড়ে কে বলেছিল। বৃষ্টি কমে এলে, পিঁপড়েটি তার প্রাণ বাঁচানারে জন্য ঘাসের পাতাটিকে ধন্যবাদ জানালে সেই সময় ঘাসের পাতা কথাটি বলেছিল।


৩. নীচের প্রশ্নগুলির উত্তর নিজের ভাষায় লেখো :


৩.১ ‘দাঁড়ায়ে রয়েছে পামগাছ মরুতটে।”
- কে এমন স্বপ্ন দেখে? কেন সে এমন স্বপ্ন দেখে ?


উত্তর - পাইন গাছ এমন স্বপ্ন দেখে। পাইন এর মত পাম গাছ ও একেবারে একাকি দুজনের পরিবেশ সম্পূর্ণ আলাদা। কিন্তু একাকিত্বের কারণে তাদের বেদনা একই রকম। তাই বরফের দেশের পাইন গাছ, মরুভূমির পাম গাছের স্বপ্ন দেখে।

৩.২. তাই তারা স্বভাবতই নীরব।'
- কাদের কথা বলা হয়েছে? তারা নীরব কেন?

উত্তর - 
এখানে স্বভাবতই নীরব বলতে জঙ্গলের পশুদের কথা বলা হয়েছে। ক্যাস্টিং সাহেবের মতে পোষা জন্তু ও জঙ্গলের জন্তুর এর মধ্যে বেশ কিছু পার্থক্য রয়েছে। পোষা জন্তুরা জঙ্গলের জন্তুর থেকে অনেক বেশি চেঁচামেচি করে। উদাহরণস্বরূপ বলা যায়, পোষা কুকুর কিংবা পোষা ঘোড়া অনেক বেশি চেঁচায়, তুলনায় জংলি কুকুর বা বুনো ঘোড়ার শব্দ খুব একটা শোনা যায় না। এর কারণ হলো পোষা প্রাণীরা বাড়ির পরিবেশে তারা খুশিমতো জোরে ডাকতে পারে। কিন্তু জঙ্গলের জন্তুরা বন্য পরিবেশে থাকার ফলে সব সময় এদের প্রাণ বাঁচিয়ে চলার একটা দায় থাকে। আত্মরক্ষার কারণে তাই তারা ইচ্ছেমতো জোর গলায় ডাকতে পারে না। তাই বন্যপ্রাণীরা স্বভাবগতভাবে নিরব প্রকৃতির হয় ।

৩.৩. এরা বাসা তৈরি করবার জন্য উপযুক্ত স্থান খুঁজতে বের হয়।'
- উপযুক্ত স্থান খুঁজে নেওয়ার কৌশলটি ‘কুমোরে-পোকার বাসাবাড়ি’ রচনাংশ অনুসরণে লেখো।


উত্তর - কোন একটি বিশেষ জায়গা কোমর পোকার মনে ধরলে তারা বারবার এসে সেই জায়গাটিকে ভালো করে পরীক্ষা করে দেখে। তারপর কিছুটা দূর পর্যন্ত উড়ে গিয়ে ফিরে এসে আবার ওই জায়গাটি কে পরীক্ষা করে দেখে। জায়গাটি পছন্দ হলে বাসা তৈরীর জন্য কুমোর পোকার কাদামাটির প্রয়োজন হয়। যতটা কাছাকাছি সম্ভব জায়গা থেকে কাদামাটি জোগাড় করতে ও কুমোরে পোকার দু দিন কেটে যায়। কোন জায়গায় কাদামাটির খোঁজ পেলে তারা সেই জায়গা থেকে বাসা তৈরীর জন্য বেছে নেওয়া জায়গাটিতে বারবার যাতায়াত করে রাস্তাটি ভালোভাবে চিনে নেয়।



৩.৪. ‘ধানকাটার পর একেবারে আলাদা দৃশ্য। - ‘মরশুমের দিনে' গদ্যাংশ অনুসরণে সেই দৃশ্য বর্ণনা করো।

উত্তর -


৩.৫. দিন ও রাতের পটভূমিতে হাটের চিত্র ‘হাট’ কবিতায় কীভাবে বিবৃত হয়েছে তা আলোচনা করো।

উত্তর - দিনের বেলা হাটে কোলাহল থাকে। চেনা অচেনা হাজার মানুষের ভিড়। কত মানুষের পায়ের টুকরো টুকরো ছাপ পড়ে থাকে হাটের ধুলোতে। সবাই নিজের জিনিস গোছাতে ব্যস্ত। সামান্য অর্থের জন্য কত কাড়াকাড়ি। হানাহানি করে কেউ লাভ করে, আবার কেউ পায় না।


সারা দিন চেনা অচেনা মানুষের ভিড়ে কথার অন্ত থাকে না। রাত্রে ফাঁকা হাট নির্জন অবস্থায় পড়ে থাকে কেউ সন্ধা দেয় না,রাত্রে হাট নিস্তব্দ হয়ে পড়ে থাকে,দূরের বাড়িগুলোতে বাতি জ্বলে কিন্তু হাটে শুধু অন্ধকার রাজত্ব করে রাত্রে নেই দরকষাকষি, নেই কেনা বেঁচা|এই ভবে হাটে কত যে ক্রেতা আর বিক্রেতা এলো আর গেলো,তার হিসাব নেই।


৩.৬. ‘মাটির ঘরে দেয়ালচিত্র' রচনায় সাঁওতালি দেয়ালচিত্রের বিশিষ্টতা কীভাবে ফুটে উঠেছে?

উত্তর - সকল আদিবাসী উপজাতিই দেয়াল চিত্র অঙ্কন করলেও সাঁওতালি দেয়ালচিত্রের বিশিষ্টতা অন্যদের থেকে সামান্য আলাদা | তাদের দেয়াল চিত্রে ন্য আলাদা। তা প্রধানত নানা জ্যামিতিক আকারের প্রাধান্য দেখা যায় | সেই সব চিত্রে থাকে লম্বা রঙ্গিন ফিতের মতো সমান্তরাল রেখা, চতুস্কোন ও ত্রিভুজ | চতুষ্কোণের ভিতর চতুষ্কোন বসিয়ে বা ত্রিভুজের ভিতরে ত্রিভুজ বসিয়ে নকশা করা হয়। মুল বেদীতিকে কালো করা হয় । তার উত্তর চওড়া রঙিন সমান্তরাল রেখা আঁকা হয় এবং তার উপরে সাদা, গেরুয়া, আকাশি ও হলদে রঙের ত্রিভুজ ও চতুষ্কোণের নকশা কাটা হয় | এইভাবে প্রায় ৬ ফুট উচু চিত্র অঙ্কন করা হয়।


৩.৭. ‘পিঁপড়ে’ কবিতায় পতঙ্গটির প্রতি কবির গভীর ভালোবাসার প্রকাশ ঘটেছে। — আলোচনা করো।


উত্তর - অমিয় চক্রবর্তী রচিত "পিপড়ে" কবিতায় পিঁপড়ের মত এই ছোট্ট প্রাণীটির প্রতি ভালোবাসা ও মমত্ববোধ ফুটে উঠেছে। কবির মতে সে যত ছোট প্রাণী হোক না কেন এই পৃথিবীতে বেঁচে থাকার তার সমান অধিকার রয়েছে। এই ক্ষণস্থায়ী জীবনে সকলে মিলে মিশে আনন্দে থাকার মধ্যেই কবি জীবনের পরম সার্থকতা উপলব্ধি করতে পেরেছেন।

৩.৮. 'ফাঁকি’ গল্পের অন্যতম প্রধান চরিত্র একটি নিরীহ, নিরপরাধ আমগাছ।'— উদ্ধৃতিটি কতদূর সমর্থনযোগ্য

উত্তর - লেখক রাজকিশোর পট্টনায়কের লেখা ফাঁকি গল্পের কেন্দ্রবিন্দু ছিল একটি আম গাছ | গোপালের বাবার তৈরি একটি কলমি চারা থেকে ধীরে ধীরে গাছটি বড় হয়ে ওঠে এবং একসময় সেই গাছটি বিশাল জায়গা জুড়ে বিস্তার করেছিল। পাড়ার বিভিন্ন লোক এবং ছেলেরা সেই গাছের নিচে খেলাধুলা করা, বই পড়া, গল্প করা ইত্যাদি আরম্ভ করলো| এভাবে বিরাট আকারের এই গাছটি গোপালের বাড়ির নিশানায় পরিণত হয়। একদিন আষাঢ়ের ঝরে গাছটি মরে গেলে শুধু গোপালদের


বাড়ির লোক নয় বরং পাড়ার সব লোক দুঃখ প্রকাশ করে। তারপর সবাই লক্ষ্য করে গাছটির একধার উই পোকা খেয়ে নিয়েছিল অথচ কারো নজরে পড়েনি, যদি পরতো ব তাহলে গাছটি এভাবে মরে যেত না। তাই গাছটিকে নিরীহ ও নিরপরাধ বলা র যেত ত টকে নিরীহ নিসমর্থনযোগ্য।


৩.৯. ‘পৃথিবী সবারই হোক।'— এই আশীর্বাণী ‘আশীর্বাদ’ গল্পে কীভাবে ধ্বনিত হয়েছে?


উত্তর - দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদারের লেখা আশীর্বাদ গল্পে বক্তা হলো গাছের পাতা[গল্প অনুযায়ী দিনশেষে পিঁপড়েকে মাটির নিচে আশ্রয় নিতে হয় বলে পিঁপড়ে বলেছিল যে মাটি শুধু তাদের কিন্তু পাতা পিঁপড়েকে বুঝিয়ে দিয়েছিল যে মাটি শুধু তার নয় মাটি সবার জন্যই| পাতার এই কথার মধ্য দিয়ে এই পৃথিবীতে জীবজগতের প্রতিটি প্রাণীর অধিকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এই পৃথিবীর আলো-বাতাস,জল,মাটি ভোগ করার অধিকার সবার সমান।

৩.১০ ´... এমন অভূতপূর্ব অবস্থায় আমায় পড়তে হবে ভাবিনি। - গল্পকথক কোন্ অবস্থায় পড়েছিলেন?

উত্তর - এক ভূতুড়ে কাণ্ড ’ গল্পের কথক শিবরাম চক্রবর্তীর সাইকেলের টায়ার এক জায়গায় ফেঁসে তিনি চরম বিপদে পড়েন । প্রথমে একটি লরি আসে কিন্তু সেটি


লেখককে উদ্ধার করে না। তারপর একটি ধীর গতির বেবি অস্টিন মোটরগাড়ি আসে | লেখক মরিয়া হয়ে চলন্ত গাড়িতেই উঠে পড়েন | গাড়িতে উঠে তিনি দেখেন যে, গাড়ি চলছে কিন্তু তার ড্রাইভার নেই আর সাথে ইঞ্জিনও চালু নেই | এই অদ্ভুতুড়ে কাণ্ড দেখে কথকের গলা শুকিয়ে গেল ও চোখ ঠিকরে বেরিয়ে আসতে চাইল | ভুতের ভয়ে কাপতে থাকা কথকের তাই মনে হয়েছিল যে তিনি এর আগে কখন এমন আজব অবস্থার সম্মুখীন হন নি।


৪. নির্দেশ অনুসারে উত্তর দাও :

৪.১ বিসর্গসন্ধিতে বিসর্গ রূপান্তরিত হয়ে 'র্' হচ্ছে - - এমন দুটি উদাহরণ দাও।

উত্তর - নি:+অতিশয়=নিরতিশয়

           নি:+লোভ=নির্লোভ

৪.২. বিসর্গসন্ধিতে বিসর্গ লুপ্ত হয়ে আগের স্বরধ্বনিকে দীর্ঘ করছে - এমন দু’টি উদাহরণ দাও।

উত্তর - তত:+অধিক=ততোধিক

           মন:+রম=মনোরম

৪.৩. উদাহরণ দাও - জোড়বাঁধা সাধিত শব্দ, শব্দখণ্ড বা শব্দাংশ জুড়ে সাধিত শব্দ।

উত্তর - 
জোড়বাঁধা সাধিত শব্দ মহাশয়, ভোজনপ্রিয় শব্দাংশ জুড়ে সাধিত শব্দ- প্রিয়তম, ঝুলন্ত

৪.৪. সংখ্যাবাচক ও পূরণবাচক শব্দের পার্থক্য কোথায়?

উত্তর - যেসব শব্দ গণনার যোগ্য কোন সংখ্যাকে নির্দেশ করে থাকে, তাদের সংখ্যাবাচক শব্দ বলে। যেমন-তিরে তিনখানা নৌকা ভিড়ল। দশে মিলি করি কাজ। সংখ্যাশব্দ দ্বারা যখন কোন নির্দিষ্ট স্থান বা ক্রোম বোঝায়, অর্থাৎ সংখ্যাশব্দের একটি বৈশিষ্ট্য প্রকাশ পায়, তাকে বলে পূরণবাচক শব্দ। যেমন-পঞ্চম দিন, বারোর দাগের অংক।

৪.৫. সন্ধি বিচ্ছেদ করো- নিরঙ্কুশ

উত্তর - নিরঙ্কুশ = নিঃ+অঙ্কুশ

৫. নীচের প্রশ্নগুলির উত্তর দাও :

৫.১. শব্দজাত, অনুসর্গগুলিকে বাংলায় কয়টি শ্রেণিতে ভাগ করা যায় এবং কী কী?

উত্তর - শব্দজাত অনুসর্গগুলি - নাম অনুসর্গ ও বিশেষ্য অনুসর্গ নামেও পরিচিত। এই অনুসর্গ গুলিকে বাংলায় তিনটি শ্রেণীতে বিভক্ত করা হয়। সেগুলি হল----

(1) সংস্কৃত বা তৎসম অনুসর্গ উদাঃ তোমার দ্বারা ইহা সম্ভব ।

(2) বিবর্তিত রুপান্তরিত বা তদ্ভব অনুসর্গ সঙ্গে আগে, কাছে এই শব্দগুলি তদ্ভব অনুসর্গ ।

(3) বিদেশি অনুসর্গ উদাঃ আজ ভারত বনাম ইংল্যান্ডের ক্রিকেট ম্যাচ রয়েছে।

৫.২. উপসর্গের আরেক নাম 'আদ্যপ্রত্যয়' কেন?

ত্তর - আদ্য শব্দের অর্থ হলো-- আদিতে বা প্রথমে প্রত্যয় কথার অর্থ হল-- মূল শব্দের সঙ্গে যে শব্দাংশ যুক্ত হয়ে নতুন নামপদ তৈরি করে। মূল শব্দের আদিতে বা প্রথমে বসে যে প্রত্যয় শব্দটির অর্থ বদলে দেয় তাকে আদ্যপ্রত্যয় বলে ।

৫.৩. ‘ধাতুবিভক্তি’ বলতে কী বোঝ?

ত্তর - ক্রিয়াপদের মূল অংশকে ধাতু বলে| এই ধাতুর সঙ্গে বিভুক্তি যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ

গড়ে তুললে সেটিকে আমরা ধাতুবিভক্তি বলি | যেমন :

'কর' ধাতুর সঙ্গে 'এ' বিভক্তি যুক্ত হয়ে--- 'করে' ধাতু বিভক্তির সৃষ্টি করেছে।


৫.৪. শব্দযুগলের অর্থপার্থক্য দেখাও : আশা/আসা, সর্গ/স্বর্গ

ত্তর - আশা শব্দের অর্থ:ভরসা, আকাঙ্ক্ষা
আসা শব্দের অর্থ:আগমন করা

সর্গ শব্দের অর্থ: অধ্যায়, গ্রন্থের পরিচ্ছেদ
স্বর্গ শব্দের অর্থ: দেবলোক

৫.৫. পদান্তর করো : জগৎ, জটিল

ত্তর - জগৎ: জাগতিক
জটিল: জটা

. অনধিক ১০০ শব্দে অনুচ্ছেদ রচনা করো :

বাংলার উৎসব

ত্তর - ভূমিকা : মানব জীবনের একটি অপরিহার্য অঙ্গ হল উৎসব | মানুষ শুধুমাত্র খেয়ে পড়ে বেঁচে সন্তুষ্ট হয় না সে অনেকের সঙ্গে নিজেকে মিলিয়ে দিতে চায়, দৈনন্দিন জীবনের একঘেয়ামি থেকে মুক্তি চায়, শ্রম ক্লান্ত জীবনে পেতে চায় সহজ অনাবিল আনন্দ। আর সেই জন্যই মানুষ উৎসবে মেতে উঠে। উৎসব মানুষকে আনন্দ দেয় প্রসারিত করে তার অস্তিত্বকে। বাঙালি জীবনে সারা বছর ধরে অজস্র উৎসব লেগে থাকে।


বিষয় অনুযায়ী বাংলা উৎসব গুলি মোটামুটি চারটি শ্রেণীতে ভাগ করা হয় ১.ধর্মীয় , উৎসব, ২. সামাজিক-পারিবারিক উৎসব, ৩. ঋতু উৎসব এবং ৪.জাতীয় উৎসব ।


১.ধর্মীয় উৎসব :- নানান ধর্ম সম্প্রদায়ের বাস এই বাংলায় । সকল সম্প্রদায়ই আপন আপন ধর্মীয় উৎসবে মেতে ওঠে। হিন্দু বাঙালির প্রধান ধর্মীয় উৎসব দুর্গাপূজা। শরৎকালে দেবী দুর্গার আরাধনাকে কেন্দ্র করে কয়েক দিনের জন্য ধর্মমত নির্বিশেষে বাঙালি জীবন আনন্দ মুখর হয়ে ওঠে। দুর্গাপুজো ছাড়া কালী পুজো, সরস্বতী পুজো, লক্ষ্মী পুজো, বিশ্বকর্মা পুজো, মনসা পূজো, ধর্মপুর প্রভৃতিও বাংলার বিশিষ্ট ধর্মীয় উৎসব। এছাড়াও আরও নানা ধরনের ধর্মীয় উৎসব পালিত হয় হিন্দু সমাজে । মহরম, ঈদ, সবেবরাত প্রভৃতি মুসলমান সম্প্রদায়ের উৎসব বাঙালি জীবনের সঙ্গে অচ্ছেদ্য ।


২. সামাজিক:- পারিবারিক উৎসব :- মানুষ সামাজিক জীব| ব্যক্তিগত আনন্দ অনুষ্ঠান কে সে ভাগ করে নিতে চায় সমাজের আর পাঁচ জনের সঙ্গে । এই প্রবণতা থেকেই বাঙালি সমাজে নানা ধরনের সামাজিক উৎসব পালিত হয়ে থাকে। বাংলা সামাজিক উৎসব গুলির মধ্যে বিবাহ, অন্নপ্রাশন, জন্মদিন, উপনয়ন প্রভৃতি বিশেষ উল্লেখযোগ্য। এছাড়া আরো কিছু উৎসব অনুষ্ঠান আছে যেগুলি মূলত পারিবারিক । যেমন জামাইষষ্ঠী, ভাতৃদ্বিতীয়া, বিশেষ কোন ব্রত উদযাপন প্রভৃতি । তবে এইসব পরিবারকেন্দ্রিক অনুষ্ঠানগুলিও শেষ পর্যন্ত বাংলার সামাজিক উৎসবে পরিণত হয়। এইসব সামাজিক পারিবারিক উৎসবের মধ্যে দিয়ে আত্মীয়-স্বজন, ।


৩.ঋতু উৎসব:- বঙ্গ প্রকৃতিতে ৬ টি ঋতুর আবির্ভাব বাঙালি জীবনে নিয়ে আসে বৈচিত্র| বাংলার মানুষ এই বৈচিত্র আরো বেশি করে অনুভব করে বিভিন্ন ঋতুতে আরো বেশি কে অনুষ্ঠিত বর্ণময় উৎসবগুলোর মধ্যে দিয়ে। বাংলার ঋতু সব গুলির মধ্যে প্রধান কয়েকটি হলো – নবান্ন, পৌষপার্বণ, মাঘোৎসব, দোলযাত্রা, নববর্ষৎসব প্রভৃতি। রবীন্দ্রনাথের শান্তিনিকেতনে বৃক্ষরোপণ, বর্ষামঙ্গল, বসন্তৎসব প্রভৃতি ঋতু উৎসব ।


উপসংহার:- বাঙালি উৎসবপ্রিয় জাতি| সেজন্য বাঙালি সমাজে বারো মাসে তেরো পার্বণ এর সমারোহ। তবে বাংলার উৎসব গুলিকে শুধুমাত্র সাময়িক আনন্দ উত্তেজনার উৎস মনে করলে ভুল করা হবে। এইসব উৎসব একের সঙ্গে অন্যকে মিলিয়ে দেওয়ার, নিজের সঙ্কীর্ণ গণ্ডি থেকে বেরিয়ে আসার মাধ্যম| এইসব উৎসব আছে বলেই সমস্যা জটিল দুঃখজর্জর জীবনেও বেঁচে থাকার আশ্বাস পাওয়া যায়, এইসব উৎসবের মধ্যেই রয়ে গেছে বাঙালির প্রাণের পরিচয় ।