দশম শ্রেণীর বাংলা মডেল অ্যাক্টিভিটি টাস্ক পার্ট ৯ । Class 10 Bengali Model Activity Task Part 9 New. 2022 । তপনের লেখা গল্প তার মেসোমশাইয়ের ...

দশম শ্রেণীর বাংলা মডেল অ্যাক্টিভিটি টাস্ক 2022 এর পার্ট 9 এর প্রশ্ন এবং উত্তর নিয়ে আজকে আমরা আলোচনা করব চলো শুরু করা যাক ।



দশম শ্রেণীর বাংলা মডেল অ্যাক্টিভিটি টাস্ক পার্ট ৯


দশম শ্রেণীর বাংলা নতুন 2022 এর মডেল অ্যাক্টিভিটি টাস্ক পার্ট ৯ January 2022


১. ঠিক উত্তরটি বেছে নিয়ে লেখো :

১.১. তপনের মেসোমশাই যে পত্রিকার সম্পাদককে চিনতেন—
(ক) শুকতারা
(খ) সন্ধ্যাতারা
(গ) বালক
(ঘ) জ্ঞানান্বেষণ

উত্তর - সন্ধ্যাতারা

১.২. তপনের লেখা প্রথম গল্পটির নাম-
(ক) রাজা-রানির গল্প
(খ) অ্যাকসিডেন্ট
(গ) প্রথম দিন
(ঘ) বিদ্যালয় জীবনের অভিজ্ঞতা

উত্তর - প্রথম দিন

১.৩ তপনের লেখা গল্প তার মেসোমশাইয়ের কাছে পৌঁছে দিয়েছিলেন তপনের -
(ক) মা
(খ) বাবা
(গ) মেজোকাকু
(ঘ) ছোটোমাসি

উত্তর - ছোটোমাসি

২. একটি বা দুটি বাক্যে উত্তর দাও

২.১.... এমন সময় ঘটল সেই ঘটনা'। - উদ্ধৃতাংশে কোন্ ঘটনার কথা বলা হয়েছে?

উত্তর - নিজের লেখা গল্প পত্রিকায় ছাপা হওয়ার বিষয়ে তপন যখন সমস্ত আশা ছেড়ে দিয়ে বিষন্ন মনে বসেছিল তখন ছোটমাসি আর মেসো হাতে 'সন্ধ্যাতারা' পত্রিকা নিয়ে তাদের বাড়িতে বেড়াতে আসে। উদ্ধৃতাংশে এই ঘটনার কথাই বলা হয়েছে।

২.২. 'ক্রমশ ও কথাটাও ছড়িয়ে পড়ে।" – কোন কথাটা ছড়িয়ে পড়ে?

উত্তর - তপনের লেখা যে গল্পটি সন্ধ্যাতারা পত্রিকায় ছাপা হয়, সেই গল্পটি তার নতুন মেসোমশাই 'কারেকশান' করে দিয়েছেন। এই কথাটাই তপনের বাড়িতে ছড়িয়ে পড়েছিল।

২.৩. ‘বুকের রক্ত ছলকে ওঠে তপনের।" -কখন তপনের এমন পরিস্থিতি হয়েছিল?

উত্তর - নতুন মেসোমশাই সন্ধ্যাতারা পত্রিকায় ছাপাবেন বলে তপনের গল্পটি নিয়ে যান। সেই সন্ধ্যাতারা পত্রিকা হাতে যখন নতুন মেসোমশাইকে তপন বাড়িতে আসতে দেখে তখন-ই উত্তেজনায় তপনের বুকের রক্ত ছলকে উঠেছিল।

৩. প্রসঙ্গ নির্দেশসহ কম-বেশি ৬০টি শব্দে উত্তর লেখো :

৩.১. ‘পৃথিবীতে এমন অলৌকিক ঘটনাও ঘটে?' – কোন ঘটনাকে কেন অলৌকিক বলা হয়েছে?

উত্তর - উদ্ধৃতাংশটি প্রখ্যাত কথা সাহিত্যিক আশাপূর্ণা দেবী রচিত 'জ্ঞানচক্ষু' গল্প থেকে গৃহীত হয়েছে।


উত্তরের প্রথম অংশ:- তপনের লেখা গল্প 'সন্ধ্যাতারা পত্রিকায় ছাপা হওয়ার ঘটনাকেই অলৌকিক বলা হয়েছে। অলৌকিক বলার কারণ:- তপনের ধারণা ছিল লেখকেরা সাধারণ মানুষের মতো হয় না। কিন্তু মেসোকে দেখে তপনের এই ধারণা ভেঙে যায়। তপন বুঝতে পারে সাধারণ এই ধারণা ভেঙে যায়। তার নতুন মেসো মানুষরাই লেখক হতে পারে। এই সূত্র ধরে সে নিজেই একটি গল্প লিখে ফেলে। কিছুদিন পর সেই গল্প 'সন্ধ্যাতারা' পত্রিকায় ছাপা হয়। সত্তিকারের ছাপার অক্ষরে তার লেখা গল্প হাজার হাজার পাঠকের হাতে ঘুরবে এটা ভেবেই তপন আশ্চর্য হয়ে যায়। তার কাঁচা হাতের লেখা এতখানি খ্যাতি পাবে এটা সে কল্পনাও করেনি, তাই নিজের লেখা গল্প ছাপা হয়েছে এটা তপনের অলৌকিক মনে হয়।


৩.২. ‘যদি কখনো লেখা ছাপতে দেয় তো, তপন নিজে গিয়ে দেবে।' কখন তপন এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছিল? কেন তার এমন সিদ্ধান্ত?

উত্তর - উদ্ধৃতাংশটি প্রখ্যাত কথা সাহিত্যিক আশাপূর্ণা দেবী রচিত 'জ্ঞানচক্ষু' গল্প থেকে গৃহীত হয়েছে। উত্তরের প্রথমাংশ:- 'সন্ধ্যাতারা' পত্রিকায় ছাপা নিজের লেখা গল্প পড়তে গিয়ে তপন যখন বুঝতে পারে এ গল্প আগাগোড়া তার লেখা নয়, তখন তপন মনে মনে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছিল।


এমন সিদ্ধান্তের কারণ:- নতুন মেসো তপনের লেখা গল্প আগাগোড়া সংশোধন করে 'সন্ধ্যাতারা' পত্রিকায় ছাপিয়ে দেয়। এই গল্প পড়তে গিয়ে তপন নিজের কৃতিত্ব, নিজের গল্পের আসর হতে তপন লেখা গল্পের স্বাদ খুঁজে পায় না। স্পষ্ট বুঝে যায়, অন্যের লেখা গল্প 'শ্রী তপন কুমার রায়' নামে ছাপা হয়েছে। এই ঘোরতর অপমান তপনের মনকে বেদনায় ভারাক্রান্ত করে তোলে। এ কারণেই তপন সিদ্ধান্ত নেয়, পরবর্তীকালে গল্প লিখলে এবং তা ছাপানোর প্রয়োজন পড়লে সে নিজে গিয়ে সম্পাদকের কাছে তার লেখা জমা দেবে।


৩.৩. গল্প ছেপে আসার পর যে আহ্লাদ হওয়ার কথা, সেই আহ্লাদ তপনের না হওয়ার কারণ কী? কেন দিনটি তার কাছে সবচেয়ে দুঃখের হয়ে উঠল?

উত্তর - উক্ত প্রসঙ্গটি আশাপূর্ণা দেবী রচিত জ্ঞানচক্ষু গল্প থেকে গৃহীত হয়েছে।

আহ্লাদ না হওয়ার কারণ:- কিশোর তপনের লেখা প্রথম গল্প 'সন্ধ্যাতারা' পত্রিকায় ছাপা হলে সবার কাছে তার নতুন মেসোর কৃতিত্বের কথা বড় হয়ে ওঠে। তাই পত্রিকায় গল্প ছাপা হলেও তপন বিরাট আহ্লাদিত হয় না। উত্তরের দ্বিতীয় অংশ:- 'সন্ধ্যাতারা' পত্রিকায় গল্প ছাপার অপেক্ষায় তপনের দিন কাটতে থাকে। পত্রিকা হাতে নিয়ে নতুন মেসোকে বেড়াতে আসতে দেখে তখন আনন্দিত হয়। গল্প পড়তে গিয়ে তপন বুঝতে পারে এ গল্প তার লেখা নয়। অন্যের লেখা গল্প তার নামে ছাপা হয়েছে এইমাত্র। এই ঘোরতর অপমান তপনের মনকে বেদনায় ভারাক্রান্ত করে।এই বিশেষ দিনটি তপনের কাছে তার জীবনের সবচেয়ে দুঃখের দিন, সবচেয়ে অপমানের দিন হয়ে ওঠে।


৪. কম-বেশি ১৫০ শব্দে নীচের প্রশ্নটির উত্তর নিজের ভাষায় লেখো :

‘জ্ঞানচক্ষু’ গল্প অনুসরণে তপনের জ্ঞানচক্ষু কীভাবে উন্মীলিত হয়েছিল তা আলোচনা করো।


উত্তর - আশাপূর্ণা দেবী রচিত 'জ্ঞানচক্ষু' গল্পের মূল ব্যঞ্জনা আবর্তিত হয়েছে কিশোর তপনের জ্ঞানচক্ষু উন্মীলনকে কেন্দ্র করে। দুই বার, দুই পৃথক দৃষ্টিকোণ থেকে তপনের জ্ঞানচক্ষু প্রস্ফুটিত হয়েছে।


তপনের জ্ঞানচক্ষু উন্মীলনের প্রথম ক্ষেত্র:- তপন বয়সে কিশোর তাই তার জ্ঞানের সীমা ছোট। সে মনে মনে চায় লেখক হতে কিন্তু লেখক কেমন মানুষ হয় তা সে জানতো না। ভাবতো লেখক নিশ্চয় আকাশ থেকে পড়া কোনো জীব। কিন্তু লেখক মেসোকে দেখে তার এই ধারণা সম্পূর্ণ পাল্টে গেল। একজন জলজ্যান্ত লেখককে সামনে দেখতেই তপন অনুভব করল লেখক বাবা, কাকার মতোই সাধারণ মানুষ। তাই লেখক হতে তার যে কোনো বাধা নেই এই জ্ঞানচক্ষু উন্মীলিত হলো।


তপনের জ্ঞানচক্ষু উন্মীলিত দ্বিতীয় ক্ষেত্র:- গল্প লেখা এবং সেই গল্পকে পত্রিকায় ছাপানো প্রসঙ্গে পূর্বের কোনো ধারণা তপনের ছিল না। তাই বুকভরা বিশ্বাস। তপন তার কাঁচা হাতের লেখা গল্প নতুন মেসোর হাতে তুলে দিয়েছিল তের লেখা গল্প নতুন বিশ্বাস নিয়ে তপন ছাপানোর জন্য। কখন গল্প ছেপে আসবে, কখন লেখক খ্যাতি মিলবে এই আশায় তপন দিন গুনছিল। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর একদিন সেই গল্প নামকরা 'সন্ধ্যাতারা' পত্রিকায় চেপে প্রকাশিত হয়। প্রথমেই সকলে মিলে তপনের কৃতিত্ব উড়িয়ে দিয়ে তপনের মেসোর কৃতিত্বকে বড় করে তোলে। এরপর ছাপা গল্প পড়তে গিয়ে তপন অবাক হয়ে যায়, নিজের কৃতিত্ব, নিজের লেখা গল্পের স্বাদ খুঁজে পায় না। স্পষ্ট বুঝে যায়, মেসোর পাকা হাতের লেখা গল্প 'শ্রী তপন কুমার রায়' নামে ছাপা হয়েছে। বিশ্বাস করে বড়ো লেখকের হাতে কাঁচা হাতের লেখা তুলে দেওয়ার পরিণাম- বুকভরা অপমান প্রাপ্তি তপন এটা বুঝতে পারে। তপনের জ্ঞানচক্ষু দ্বিতীয়বারের জন্য উন্মীলিত হয়।