নবম শ্রেণীর বাংলা মডেল অ্যাক্টিভিটি টাস্ক পার্ট ৯ । Class 9 Bengali Model Activity Task Part 9 New. 2022 । দেখিতে না পায় কেহ অঙ্গ...

নবম শ্রেণীর বাংলা মডেল অ্যাক্টিভিটি টাস্ক 2022 এর পার্ট 9 এর প্রশ্ন এবং উত্তর নিয়ে আজকে আমরা আলোচনা করব চলো শুরু করা যাক ।



নবম শ্রেণীর বাংলা মডেল অ্যাক্টিভিটি টাস্ক পার্ট ৯


নবম শ্রেণীর বাংলা নতুন 2022 এর মডেল অ্যাক্টিভিটি টাস্ক পার্ট ৯


১. ঠিক উত্তরটি বেছে নিয়ে লেখো :


১.১. ‘অম্বিকামঙ্গল গান শ্রী কবিকঙ্কণ। 'অম্বিকা’ হলেন-

(ক) দেবী লক্ষ্মী
(খ) দেবী মনসা
(গ) দেবী চণ্ডী
(ঘ) দেবী শীতলা

উত্তর - দেবী চণ্ডী

১.২. ‘সঘনে চিকুর পড়ে বেঙ্গ- তড়কা বাজ’। এক্ষেত্রে 'চিকুর' শব্দের অর্থ -

(ক) চুল
(খ) আকাশ
(গ) বিদ্যুৎ
(ঘ) বৃষ্টি

উত্তর -
বিদ্যুৎ

১.৩. যাঁর নাম স্মরণ করলে বজ্রপাত বন্ধ হয় বলে মানুষের বিশ্বাস, তিনি হলেন -

(ক) ব্যাসদেব
(খ) জৈমিনি
(গ) দেবী চণ্ডী
(ঘ) গজরাজ

উত্তর - জৈমিনি

২. কমবেশি ২০টি শব্দে উত্তর লেখো :

২.১. 'দেখিতে না পায় কেহ অঙ্গ আপনার।
- কেন এমন পরিস্থিতি হয়েছিল?


উত্তর - চারিদিকের আকাশ মেঘে আচ্ছন্ন হওয়ায় সমগ্র কলিঙ্গদেশ অন্ধকারে ঢাকা পড়ে, ফলে কলিঙ্গবাসী নিজেদের অঙ্গ দেখতে পাচ্ছে না।

২.২. 'বিপাকে ভবন ছাড়ি প্রজা দিল রড়।।'
- প্রজারা কোন বিপাকে পড়েছিল? -


উত্তর - মুষলধারায় বৃষ্টিপাতের সঙ্গে ভয়ঙ্কর ঝড়ের তাণ্ডবে আসন্ন বিপদের কথা ভেবে প্রজারা নিজেদের ঘরবাড়ি ছেড়ে পালান।

২.৩. কলিঙ্গদেশে একটানা কতদিন বৃষ্টি চলেছিল?

উত্তর - কলিঙ্গদেশে একটানা সাত দিন বৃষ্টি চলেছিল ।

৩. প্রসঙ্গ নির্দেশসহ কম-বেশি ৬০টি শব্দে উত্তর লেখো :

৩.১. ‘চারি মেঘে জল দেয় অষ্ট গজরাজ।
- ‘চারি মেঘ' বলতে কী বোঝ? ‘অষ্ট গজরাজ'-এর পৌরাণিক অনুষঙ্গটি কী?


উত্তর - ‘চারি মেঘ' বলতে চার ধরনের মেঘের কথা বলা হয়েছে। এরা হল সংবর্ত, আবর্ত, পুষ্কর ও দ্রোণ।


পৌরাণিক মতে উক্ত চার রকম মেঘের বাহন হল অষ্ট গজরাজ তথা ঐরাবত, পুণ্ডরীক, বামন, কুমুদ, অজ্ঞান, পুষ্পদন্ত, সার্বভৌম ও সুপ্রতীক। এরা দিকগজ নামে পরিচিত। কবিতা অনুসারে বলা যায় ঐ আটটি হাতি চাররকম মেঘের সাহায্যে কলিঙ্গদেশে প্রবল বৃষ্টিপাত ঘটায়। ফলে সমগ্র কলিঙ্গদেশ জলমগ্ন হয়ে পড়ে।


৩.২. ‘ভাদ্রপদ মাসে যেন পড়ে থাকা তাল'। - কোন্ প্রসঙ্গে উদ্ধৃতিটির অবতারণা করা হয়েছে?

উত্তর - কবি মুকুন্দরাম চক্রবর্তী রচিত কলিঙ্গদেশে 'ঝড় বৃষ্টি' কাব্যাংশে কলিঙ্গদেশে যে ভয়াবহ ঝড় বৃষ্টি হয়েছিল তার বর্ণনা করা হয়েছে। আকাশ কালো করা বিপুল মেঘরাশির বর্ষণে প্লাবন সৃষ্টি হয় কলিঙ্গে। টানা সাতদিনের অবিরাম বর্ষণের সঙ্গে নিরন্তর শিল পড়তে শুরু করে। ভাদ্র মাসে তাল পেকে যেমন গাছ থেকে পড়ে যায় ঠিক তেমনি ভাবে অত্যন্ত বড়ো আকারের শিল ঘরের চাল ভেদ করে মেঝেতে পড়ে প্রজাদের ঘরবাড়ি বিনষ্ট করে দেয়।

৩.৩. ‘চন্ডীর আদেশ পান বীর হনুমান। – চণ্ডীর আদেশে বীর হনুমান কী করেছিল?

উত্তর - দেবী চণ্ডী বীর হনুমানকে কলিঙ্গদেশকে বিধ্বস্ত করার আদেশ দিয়েছিলেন। দেবী চণ্ডীর মায়ায় কলিঙ্গদেশের ওপর নেমে এসেছিল ভয়ানক প্রাকৃতিক দুর্যোগ। নিরন্তর সাত দিন বৃষ্টির ফলে কলিঙ্গদেশ জলমগ্ন হয়ে পড়েছিল। তার উপরে দেবীর আদেশে বীর হনুমান কলিঙ্গের ধ্বংস সাধনে মগ্ন হয়েছিল। বীর হনুমান সেদেশের সকল মঠ, মন্দির ভেঙ্গে চুরমার করতে থাকেন। হনুমানের কীর্তিকলাপের জন্য সমস্ত মঠ ও মন্দির খেলনার মতো গুঁড়িয়ে যেতে থাকে।

৪. কম-বেশি ১৫০ শব্দে নীচের প্রশ্নটির উত্তর নিজের ভাষায় লেখো :

‘কলিঙ্গদেশে ঝড়-বৃষ্টি’ কাব্যাংশে অনুসরণে প্রবল প্রাকৃতিক দুর্যোগে বিপর্যস্ত জনজীবনের ছবি কীভাবে ফুটে উঠেছে, তা আলোচনা করো।


উত্তর - কবি মুকুন্দরাম চক্রবর্তী রচিত চণ্ডীমঙ্গল কাব্যের আখেটিক খণ্ডের অন্তর্গত 'কলিঙ্গদেশে ঝড় বৃষ্টি' কাব্যাংশে দেখা যায় কলিঙ্গে প্রবল প্রাকৃতিক বিপর্যয় নেমে আসে। কলিঙ্গের আকাশে ঘন মেঘের সমাবেশ ঘটে। দেবীর আদেশে হঠাৎই ঈশান কোণে মেঘ জমা হয়। ঘন ঘন বিদ্যুতের ঝলকানি দেখা যায়। দূরদিগন্তে মেঘের গম্ভীর ধ্বনির সঙ্গে শুরু হয় মুষলধারায় বৃষ্টিপাত। বিপদের আশঙ্কায় প্রজারা ঘর ছেড়ে দ্রুত পালাতে থাকে। ঝড়ের দাপটে শস্যখেত এবং সবুজ গাছপালা নষ্ট হয়ে যায়। প্রবল বর্ষণে পথঘাট জলমগ্ন হয়। আটটি দিকহস্তি যেন বৃষ্টিধারায় সব ভাসিয়ে নিয়ে যেতে চায়। বিপদ থেকে রক্ষা পেতে ভীত প্রজারা ঋষি জৈমিনি কে স্মরণ করতে থাকে। সাতদিন অবিরাম বর্ষণের ফলে প্লাবিত হওয়ায় কৃষিকাজ যেমন ক্ষতিগ্রস্ত হয়, ঘরবাড়ি ও নষ্ট হয়ে যায়। ভাদ্র মাসের তালের মতো বড়ো আকারের শিল ঘরের চাল ভেদ করে পড়তে থাকে। দেবীর আদেশে বীর হনুমান ঝড়ের বেশে তাণ্ডব চালিয়ে মঠ, অট্টালিকা ধ্বংস করে প্রজাদের আরো বিপদগ্রস্ত করে তোলেন। দেবী চণ্ডীর আদেশে সৃষ্ট এই ভয়াবহ প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে অসহায় ভীত প্রজারা বিপদের আশঙ্কায় অবশেষে কলিঙ্গ ত্যাগ করে চলে যায়।